somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোল্ডফিশ

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৬ ভোর ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এক জোড়া গোল্ডফিশের স্বপ্ন ছিল।
যখন মাত্র কিশোরী বয়স, তখন কোনও এক টিভি নাটকে দেখেছিলাম – নায়ক নায়িকাকে তার জন্মদিনে এক জোড়া গোল্ড ফিশ উপহার দিচ্ছে । সেই তখন থেকে আমার মধ্যে এক জোড়া গোল্ডফিশের স্বপ্ন বাসা বাঁধতে থাকে......
ধীরে ধীরে স্কুল পেরিয়ে কলেজ, কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে উপস্থিত হলাম। এতদিনে আমি ততটা বড় হয়ে গেছি যতটা বড় হলে বাসার অনুমতি ছাড়াই নিজের পছন্দের কিছু ছোটখাট জিনিসপত্র কিনতে পারি। এখানে বলে রাখা ভাল যে কলেজ পর্যন্ত কখনই খুব একটা হাত-খরচ আমাকে দেয়া হতোনা। সুতরাং, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে আমি সুযোগ বুঝে আমার পছন্দের ২/১ টা জিনিস কিনতে লাগলাম। যদিও সেগুলোও আমার হোস্টেল এর রুম এর বাহিরে বের হতনা। এমনি করে আমার একান্ত আবাসে জমতে লাগল বিভিন্ন শো-পিস, প্রিয় বই, রবি ঠাকুরের মাটির মূর্তি, কাগজের ফুল, মোমদানি-এমনি আরও কত কি! জানালার পাশে ঠাই পেল সবুজ মানিপ্ল্যান্ট আর খেলনা বিড়াল ।
এসবের ভিড়ে কিন্তু আমার গোল্ডফিশের স্বপ্ন হারিয়ে যায়নি। আমার একান্ত আবাসে কেন এক জোড়া গোল্ডফিশ কে জায়গা করে দিতে পারিনি, তার কারন কিন্তু মোটেও অর্থনৈতিক নয়।
আমি ছোট বেলা থেকেই এক জোড়া গোল্ডফিশের মালিকানা চেয়েছি সত্যি কিন্তু নিজে কিনে নয়। আমি চেয়েছি উপহার হিসেবে। যে উপহার টি পাবো আমার নায়কের কাছ থেকে। যে ভালবেসে গল্পের রাজকুমারের মত সমুদ্রের ঝিনুকের বুক থেকে মুক্তো নয়, শহরের কোনও দোকান থেকে এক জোড়া গোল্ডফিশ উপহার দেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সে আমাকে শহরের দামী দামী রেস্তোরা চিনিয়েছে, মেটালিকা এবং ওয়েস্টলাইফ এর পার্থক্য বুঝিয়েছে, প্রোগ্রেসিভ হতে শিখিয়েছে, প্লেটোনিক এবং শেক্সপিঁয়েরিয়ান ভালবাসা বুঝিয়েছে।
আমার একান্ত আবাসে আবারও জমতে থাকে দামী দামী উপহার, পারফিউম, দামী দামী ব্র্যান্ডের ড্রেস, নিত্য-নতুন শো-পিস, বিশ্বের নামী-দামী ব্যান্ডের সিডি, বিখ্যাত সিনেমার ডিভিডি আরও কত কি! চকলেট যেন ফুরুতেই চাইতনা রুম থেকে। হোস্টেলে ফিরতে প্রায়ই আমার রাত ১০ টা/ ১১ টা বেজে যেত। খুব সুখী তখন আমি। তারপর ও কোথায় যেন একটা শুন্যতা!
আমার গোল্ডফিশের স্বপ্ন তখনও বিদ্যমান।
কিছুদিন ধরে আমার ভালোবাসার মানুষটি আমাকে কেন যেন এড়িয়ে চলছে। আগে যেখানে একবার রিং হলেই ফোন রিসিভ করতো, সেখানে এখন কেন যেন হাজারবার রিং হলেও ফোন রিসিভ করেনা। দিনের মধ্যে আগে যেখানে কম করে হলেও দশটা এসএমএস পাঠাতো, সেখানে এখন দশ দিনেও একটা এসএমএস নাই।
এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পরে এক দিন আমার প্রবল কান্নাকাটির শেষে সে আসে। সেদিন অনেক রাত অব্দি তার হাত ধরে বসে থেকে মনে হয় এ ক’দিন তার বোধ হয় অনেক সমস্যা ছিল। এই ভেবে আমি আবার আবেগাক্রান্ত হয়ে যাই। সেই আবেগঘন মুহূর্তে সে কিছু আবদার করে বসে। সেই মুহূর্তে ওই আবদারগুলো আমার কাছে ছিল অকল্পনীয় এবং পাপ-সমিচীন। আমি রাখতে পারিনা আবদারগুলো।
পরেরদিন তার আমাকে হোস্টেল থেকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। আমি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে তার জন্য অনেক অপেক্ষা করলেও সে আসেনা। তিন দিন পর তার ফোন আসে। সে জানাতে চায় যে সে আমার সাথে কোন সম্পর্ক রাখতে চায়না। কারন, তার মতে আমাকে নিয়ে তার সমাজে চলা যায়না। আমাকে এতদিন ধরে প্লেটোনিক এবং শেক্সপিঁয়েরিয়ান ভালবাসা কিংবা প্রোগ্রেসিভ হতে শেখানো কোনও কাজেই দেয়নি তার।
...........আজ শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মময় জীবনের দ্বারগোঁরায় আমি। এখন আমি খানিকটা মার্কসবাদী,প্লেটোনিক এবং শেক্সপিঁয়েরিয়ান ভালবাসা বুঝতে আর কাঠখড় পুড়াতে হয়না। এখন আমি বেশ প্রোগ্রেসিভও বটে! আর এসবের কারনবশত এখন আমি আর গোল্ডফিশ খুজিনা। এতদিনে আমি বুঝে গিয়েছি যে সবার কপালে গোল্ডফিশ জুটেনা।
আর এভাবেই আমার গোল্ডফিশের স্বপ্ন হারিয়ে গেল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৬ ভোর ৪:১৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×