somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রঙ্গীন ঘুড়ি
উড়তে ভালো লাগে,মেঘের সাথে লুকোচুরি ভাল লাগে। ভাল লাগে এক আকাশ তারা কে সাক্ষী রেখে নাবিকের মত পথ খুঁজে নিতে। চোখ বন্ধ করে একটা নীল সমুদ্র আকঁতে ভাল লাগে। আর ভাল লাগে "তুমি" তে হারিয়ে যেতে ।

উড়োচিঠি -৩

০৯ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




প্রিয় সন্ধ্যাতারা,

আবারো লিখতে বসলাম তোমার জন্য। লেখালেখিটা আজকাল বড্ড বেশি অগোছালো হয়ে যাচ্ছে। তোমায় নিয়ে বিক্ষিপ্ত চিন্তা ভাবনা ডাল পালা ছড়িয়ে আজ বড় নাম না জানা গাছে পরিণত হয়েছে। যতবেশি ভাবি তোমাকে ভুলে যাব ততবেশি জড়িয়ে যাচ্ছি তোমার সাথে।

সেবার তুমি চলে যাওয়ার দিন পণ করেছিলাম আর যাই হোক তোমায় নিয়ে বেহায়া আমি আর ভাববো না। কিন্তু পারলাম আর কই?? এই যে বেহায়া আমি আবার তোমায় নিয়ে লিখতে বসলাম। মনে আছে কি তোমার আমার প্রথম লেখালেখি শুরু তোমায় নিয়ে। ছন্দবিহীন,বাহুল্যপূর্ণ এক কবিতা লিখেছিলাম। তুমি একটুও হাসো নি। বরং আমার কবিতার প্রতিটা শব্দ ছুঁয়ে দেখেছ। রিক্ত আমার তোমাকে মুগ্ধ করার মত কিছুই ছিলো না। কবিতা তোমার খুব প্রিয় ছিল। আমি তাই লিখে যেতাম। শুধুই লিখে যেতাম।

সন্ধ্যাতারা,
কেন এমন হলো বলতে পারবে?? কেন একটা বালু ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেল আমার ভালবাসার ছোট্ট ঘরটা? আমি তো লোকালয় থেকে অনেক অনেক দূরে শুধু তোমায় নিয়ে থাকতে চেয়েছিলাম। একটু বেশি পাগলামো করতাম। তুমি মনে মনে বিরক্ত হতে কিনা জানি না আমি ! বোকা আমি তোমাকে একটু বোঝারও চেষ্টা করি নি। অন্ধ বিশ্বাস ছিলো আর যাই হোক আমার সন্ধ্যা তারা শুধুই আমার। মহাকাশে শুধু আমিই আমার সন্ধ্যাতারার একমাত্র অবলম্বন। আমি ভুল ছিলাম .....

সন্ধ্যাতারা,

আজকাল বড্ড বেশি তালহীন হয়ে গেছি। শুয়ে থাকলে শুয়েই থাকি, বসে থাকলে শুধুই বসে থাকি! বেনামী কিছু চিন্তা গিজগিজ করে মাথার ভেতর। "তুমি" নামক এক বিষাক্ত পোকা তিলে তিলে যেন ছিঁড়ে খাচ্ছে আমার মস্তিষ্কের সব অনুভূতিগুলো । সময় নাকি বদলে দেয় সবকিছু। কই তুমি চলে যাওয়ার পাঁচ পাঁচটা বছর হয়ে গেল। এই পাগল আমি তোমায় আর ভুলতে পারলাম কই??

স্বামী, সংসার,সন্তান নিয়ে তোমার সেই হাসিমাখা ছবিটা আমি দেখেছি। কোন অনুভূতি কাজ করেনি যেমনটা পাঁচ বছর আগে করতো ! কতটা বিশ্বাস করতাম তোমাকে আমি ! বলেছিলে আমি ছাড়া নাকি তুমি অসম্পূর্ণ, ঈশ্বর নাকি আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছেন পৃথিবীতে ! আমার হাসি পায় জানো। খুব হাসি পায় এসব মনে পড়লে ।

টিএসসি থেকে ফুলার রোড হয়ে পলাশী পর্যন্ত এত এত স্মৃতি মিথ্যে হয়ে গেল কত সহজে ! আফসোস একটাই থাকবে বাকি জীবনে। তোমাকে কোন এক বর্ষায় নীল শাড়িতে দেখতে চেয়েছিলাম ! থাক .... আমি না হয় কল্পনাই করে নেব।


এই যে দেখ মাথার ভিতরের পোকাটা কেমন করে সব মনে করিয়ে দিচ্ছে একের পর এক ! আমি কিন্তু চাই নি তোমায় মনে করতে !

সন্ধ্যাতারা,
আর কথা বাড়াবো না। এই উড়োচিঠি তোমার কাছে কোনদিনই পৌঁছাবে না। কিছু কথা থাকে একান্তই নিজের । এই কথাগুলো কারো কাছে বলা যায় না,বলা সম্ভব না। এই পৃথিবীতে না হয় তুমি অজেয়ই রয়ে গেলে। কিন্তু জেনে রেখ ওই অন্য পৃথিবীতে এই ধ্রুব তোমাকে জয় করেই ছাড়বে। তার জন্য যদি অবাধ্য হতে হয়,যদি মহাশূণ্য তোলপাড় করতে হয় এই ধ্রুব তাই করবে । তুমি জেনে রেখো সন্ধ্যাতারা,তুমি জেনে রেখো .........


ইতি,
তোমার বেখায়ালী পাগলটা ......
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ৯:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×