অফিসের গাড়ি থেকে নেমে
প্রতি রাতে এমন টাইমেই ফিরি
৮ টা কী সাড়ে ৮ টা
কখনো হেঁটে আবার কখনো আলসেমি এলে রিক্সায়
অল্প কিছু পর আমার ফ্ল্যাট
সে রাতেও আলসেমি এলো
ভাড়া মিটিয়ে সদ্য কেনা জুতোয়
মুড়োনো পা-টা নামিয়েছি কী নামাইনি
অস্ফুটস্বরের কিছু একটা কানে এলো বলে মনে হলো
হয়তো আরও কটা টাকা বেশি ভাড়া দিতে হবে ভেবে
বিরক্তি ভরে তাকালাম ফিরে
আবছা আলোয় ১৬/১৭ বছরের দুটো আধোলাল চোখ
ভয় দ্বিধা ও লজ্জায় আনত
হয়ে বললো
“ স্যার, আমি সিরাজগঞ্জ থেকে আসছি। এখানে ১০ নাম্বারে এক পরিচিত ভাইয়ের গেরেজে উঠছি। আমার মায়ের খুব অসুখ। চিকিৎসার জন্য ৬০ হাজার টাকা লাগবো। রিক্সা চালাইয়া ৬ হাজার টাকা জমাইছি..”
হইছে আর বলতে হবে না
বুঝছি
ব’লে থামিয়ে দিয়ে বললাম তোমার ভাগ্য খারাপ
এ মুহূর্তে আমার পকেট খালি
অন্য কারো কাছে দেখো..
গল্পটা বিশ্বাস হয়নি আমার.. অনেকেই এমন করে
সিম্পেথি অর্জন ক’রে টাকা নেয়.. ধান্দা
শার্ট প্যান্ট খুলে মানিব্যাগটা ড্রয়ারে রাখতে গিয়ে মনে হলো
ভুল হলো কী
যদি সত্যিই ওর মা অসুস্থ হয়ে থাকে
আমি ব্যালকনি দিয়ে নিচে তাকালাম
রিক্সাটি নেই
আমার মতো ভদ্রলোক স্যারের বিরক্তি অবজ্ঞা আর তাচ্ছিল্যে
কতটা বিস্মিত হয়েছিল ও
কতটা কষ্ট পেয়েছিল
কতটা অপমানিত হয়েছিল
হীনমন্যতায় ডুবে যাচ্ছিলো কী
হালকা দাঁড়ির কচি মুখখানা মনে করতে চাইলাম
মা-এর কথা ভাবতে গিয়ে
মনে পড়লো নিজের মা-কে
কীভাবে পারলাম আমি
আর কী দেখা হবে ওর সাথে
আজও ওখানে নেমেছিলাম
অনেকগুলো রিক্সা অনেক অনেক মুখ.. “স্যার কই যাইবেন আয়েন”
আমি হেঁটে বাসায় ফিরলাম
২৩.১০.২০১৭; উত্তরা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



