somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুবাদ গল্প: The Egg by Andy Weir

১৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যখন তুমি মারা যাও তখন তুমি বাড়ির দিকে যাচ্ছিলে.

এটা ছিল একটা কার এক্সিডেন্ট. নির্দিস্টভাবে কিছুই অসাধারণ নয়,তবুও মারাত্তক.তুমি একজন স্ত্রী এবং দুটি সন্তান রেখে এসেছ.এটা একটা ব্যাথাহীন মৃত্যু ছিল.ইমার্জেন্সি মেডিকেল টিম সর্বাত্তক চেষ্টা করেছিল তোমাকে বাঁচাতে,কিন্তু কোন লাভ হয়নি।তোমার শরীর মারাত্তক ভাবে জখম হয়েছিল মৃত্যুই তোমার জন্য ভালো ছিল.আমাকে বিশ্বাস কর.
এবং এটা যখন আমার সাথে তোমার দেখা হয়.
"কি........কি হয়েছে?"তুমি জিজ্ঞেস করছিলে. "আমি কোথায়?"
"তুমি মারা গেছ," আমি এমনভাবে বলি,যেন এটা কোন ব্যাপারই না।
"এখানে একটি........... ট্রাক ছিল এবং সেটা পিছলে পড়ছিল"
"হ্যা,"আমি বলি.
"আমি........আমি মরে গেছি?
"হ্যা. এটা নিয়ে দুঃখ করনা,সবাইকে মরতে হবে," আমি বলি.
তুমি চারিদিক দেখছিলে. সেখানে কিছুই ছিলনা. শুধু তুমি আর আমি."এই জায়গাটি কোথায়?" তুমি জানতে চাইলে
"এটা কি পরকাল? "
"বেশি অথবা কম,"আমি বলি.
"তুমি কি ইশ্বর?"তুমি জানতে চাইলে.
"হ্যা"আমি উত্তর দেই "আমি ইশ্বর".
"আমার সন্তান............. আমার স্ত্রী,"তুমি বললে.
"তাদের কি হয়েছে?"
"তারা কি ঠিক আছে?"
"এইতো,এটা দেখতে আমি খুব পছন্দ করি" আমি বলি "এইমাত্র তুমি মারা গেছ তারপরও তোমার চিন্তা তোমার পরিবার নিয়ে.এটা খুব ভাল".
তুমি আমার দিকে মোহের মত তাকালে.আমাকে তোমার ইশ্বর বলে মনে হয়নি. আমাকে মানুষের মত লাগছিল,খুব সম্ভবত একজন মহিলা.একটি অস্পষ্ট কতৃত্ববান চরিত্র.ইশ্বরের চাইতে বরং গ্রামার স্কুলের শিক্ষকের মত লাগছিল.
"চিন্তা করনা,"আমি বললাম "তারা ভালো থাকবে,তোমার সন্তানেরা নিখুঁত ভাবে তোমাকে মনে রাখবে",তোমাকে অবজ্ঞা করার মত সময় তাদের ছিলনা.
তোমার স্ত্রী বাহিরে বাহিরে কাঁদবে, কিন্তু গোপনে মুক্তিলাভের আনন্দে মত্ত হবে.সত্যি কথা বলতে, তোমার বিবাহ বিচ্ছেদের পথে এটা যদি সান্ত্বনা হয় তাহলে তুমার স্ত্রী মুক্তি লাভের আনন্দ করার জন্য নিজেকে দোষি ভাববে।
"ওহ," তুমি বললে "তা এখন কি হবে?" "আমি কি স্বর্গে যাব নাকি নরকে নাকি অন্য কিছু?"
"এর একটিও না," আমি বললাম "তুমি পুনঃরায় দেহ ধারণ করবে".
"আহ," তুমি বললে "তাহলে হিন্দুরাই ঠিক ছিল?".
"সব ধর্মই তার নিজের মত করে সঠিক," আমি বললাম "আমার সাথে হাটো".
তুমি আমাকে অনুসরণ করলে,আমরা ঝরে পরা পাতার উপর দিয়ে হাটছিলাম.
"আমরা কোথায় যাচ্ছি"?
"নির্দিস্ট ভাবে কোথাও না," আমি বললাম "তোমার সাথে হেটে হেটে কথা বলতে ভালই লাগছে".
"তো পয়েন্টটা কি তাহলে?" তুমি জিজ্ঞেস করলে "যখন আমি পুনরায় জন্ম নিব তখন তো আমি খালি একটা স্লেটের মত,ঠিক? একটি শিশু.তাহলে আমার সারা জিবনের অভিজ্ঞতা এবং আমি যা করেছি তার কিছুই কোন প্রভাব ফেলবেনা?"
"তা-না"আমি বললাম "তোমার ভেতরে তোমার পূর্বের জীবনের সকল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকবে, তুমি কেবল তা স্মরণ করতে পারবেনা"
আমি হাটা থামিয়ে তোমার কাঁধে হাত রাখলাম ."তোমার আত্তা তোমার কল্পনার চাইতেও মহৎ,সুন্দর,এবং বিশাল.মানুষের মন তার অস্তিত্বের ক্ষুদ্র অংশই ধারণ করতে পারে.এটা অনেকটা পানিভর্তি গ্লাসে আঙুল ঢুকিয়ে দেখা যে এটা ঠান্ডা না গরম.তুমি তোমার শরীরের অতি ক্ষুদ্র অংশ পাত্রের মধ্যে ঢুকালে, আর যখন বের করলে তখন তুমি পাত্রের মধ্যের সকল অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলেছ."
"তুমি গত ৪৮ বছর ধরে একজন মানুষের ভেতরে ছিলে,এবং এখনো সেই জীবনের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারনি. যদি আমরা এখানে বেশি সময় থাকি তাহলে তুমি সবকিছু মনে করতে আরম্ভ করবে.কিন্তু প্রতিটি জীবনের মাঝখানে এটা করার কোন মানে নাই.
"তাহলে কতবার আমার পুনঃজন্ম হয়েছে?"
"ওহ অনেক.অনেক অনেক. বিভিন্ন রূপে" আমি বললাম "এখন তুমি যাবে এক চীনা কৃষিজীবি মেয়ের রূপে ,৫৪০ খ্রিস্টাব্দে.
"দাড়াও,কি?"তুমি তোতলাতে তোতলাতে বললে " তুমি আমাকে সময়ের পেছনে পাঠাচ্ছ?"
" আসলে, সময় জিনিসটা তোমার ওখানে বিদ্যমান, আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানে বিষয়টা অন্যরকম "
" তুমি কোথায় থেকে এসেছ?" তুমি বললে
" অবশ্যই" আমি ব্যাখ্যা করলাম " আমি কোথাও,অন্য কোথাও থেকে এসেছি, সেখানে আমার মত আরো অনেকে রয়েছে, আমি জানি তুমি জানতে চাইবে সেখানটা দেখতে কেমন,সত্যি কথা বলতে তুমি তা বুঝবেনা"
"অহ", তুমি বললে "দাঁড়াও, যদি আমি একই সময়ে অন্য কোথাও পুনঃজন্ম নিই তাহলে আমি কোনভাবে আমার দুটি জীবনের মাঝে যোগাযোগ রাখতে পারবো.
"অবশ্যই.এটা সবসময় ঘটে. কিন্তু তোমার প্রতিটি সত্তা নিজ নিজ জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তুমি বুঝতেও পারবেনা যে এটা ঘটছে.
"তো,এসবের অর্থ কি?"
"সত্যি?" আমি জিজ্ঞেস করলাম "সত্যি তুমি আমাকে জীবনের মানে জিজ্ঞেস করছ, এটি কি কিছুটা বাঁধাধরা নয়?" .
"ঠিক আছে,এটি একটি ভালো প্রশ্ন" তুমি বলতে থাকলে.
আমি তোমার চোখের দিকে থাকালাম "জীবনের মানে, এই পুরো পৃথিবীকে বানানোর কারণ তোমাকে পরিণত করা"
"তুমি বলতে চাইছ মানবজাতি?" তুমি চাও যাতে আমরা পরিণত হই?"
"না,শুধু তুমি,আমি এই পৃথিবী শুধু তোমার জন্য তৈরী করেছি.প্রত্যেক নতুন জীবনে তুমি আরো পরিণত, আরো সমৃদ্ব ও মহৎ বুদ্ধি সম্পন্ন হতে থাকবে".
"শুধু আমি? তাহলে অন্যরা?"
"এখানে অন্য কেউ নেই" আমি বললাম "এই পৃথিবীতে শুধু তুমি আর আমি ".
তুমি আমার দিকে শুন্য দৃস্টিতে তাকালে
"কিন্তু সকল মানুষ যারা পৃথিবীতে..........
"সব তুমি, শুধু আলাদা দেহধারণ কর".
"দাড়াও,আমিই সকল?"
"এইতো এখন তুমি বুঝতে পারছ" আমি তোমার পিঠ চাপড়ে বললাম.
"আমিই সকল মানুষ যারা এতদিন বেচে ছিল?"
"এবং যারা বেচে থাকবে,হ্যা".
"আমিই আব্রাহাম লিনকন?"
"এবং জন উইকস বুথও তুমি" আমি যোগ করলাম.
" আমি হিটলার?" তুমি আতংকিত ভাবে বললে.
"তুমিই সে যাদেরকে সে হত্যা করেছিল"
"আমি যিশু?"
"তুমিই সে যারা তাকে অনুসরণ করেছিল"
তুমি নিরব হয়ে গেলে.
"যখনই তুমি কাওকে আক্রমণ করেছিলে" আমি বললাম "প্রকৃতপক্ষে তুমি নিজেকেই আক্রমণ করেছিলে.যত দয়ার কাজ তুমি করেছো,তুমি আসলে নিজেকেই দয়া করেছো. প্রত্যেক সুখ বা দুঃখের মূহুর্তের অনুভূতি মানুষ পেয়েছে বা পাবে,আসলে তা তুমিই অনুভব কর".
তুমি দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করলে
" কেন" তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করলে "কেন এসব".
"কারণ একদিন তুমি আমার মতো হবে,কারণ সেটাই তোমার আসল রূপ, তুমি আমার একটা অংশ, তুমি আমার সন্তান "
" ওয়াও"তুমি সন্দেহের সুরে বললে "তুমি বলতে চাইছ আমি ইশ্বর?"
" না,এখনও নয়.তুমি একটা ব্রুন,এখনো বাড়ছো.যখন তুমি প্রত্যেক মানুষের জীবনে একবার করে বসবাস করবে তখন জন্ম নেওয়ার মত যথেষ্ট বড় হবে.
"তাহলে পুরো পৃথিবী" তুমি বললে"এটা শুধু............."
"একটি ডিম." আমি উত্তর দিলাম " এখন তোমার নতুন জীবনে যাওয়ার সময় হয়েছে."
আমি তোমাকে তোমার নতুন জীবনের দিকে ধাবিত করলাম.


(ভূল গুলো শুধরে দিবেন,বিশেষ করে বানান, ভাবানুবাদ আর আক্ষরিক অনুবাদের মারপ্যাঁচে পরে অনেক সময় গতি হারিয়েছি,ক্ষমাসুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন,ভালো থাকবেন, ধন্যবাদ)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×