আজকে একটি জাতীয় দৈনিকে জাফর ইকবাল স্যারের একটা লেখা পড়লাম। স্যারকে লেখার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
স্যার আপনি খুব বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে, যে দেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করেছে। সেই দেশের তরুনরা মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শকে লালন করবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভালবাসবে। কিন্তু তারা তা না করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের ভালবাসতে শিখছে।
আসলে স্যার এই দায়ভার আপনি কাকে দিবেন? আমি ব্যক্তিগতভাবে মানে করি এই দায়ভার স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকেই নিতে হবে। তারা এই কোমলমতি তরুণদের কাছে ভাল কোন আদর্শে সন্ধান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলতে বিশেষ করে আওয়ামী লীগকেই দায়ি করব। তারা যে ছাত্র সংগঠন গঠন করেছে ছাত্রলীগ তাদের মাঝে নীতিনৈতিকতা, শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। তারা স্বার্থের কারণে নিজেদের দলের ভাইদের আক্রমণ করছে, হত্যা করছে। ধর্ষণের সেনচুরি করছে। অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজী, চাদাবাজি করছে, শিক্ষকদের উপর চড়াও হচ্ছে। ফলে কোমলমতি তরুণরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
অন্যদিকে শিবির একটি সুশৃঙ্খল দল হিসেবে পরিচিত। তারা ভাল-মন্দ যে কাজই করুক না কেন। তারা নিজেদের মাঝে কোন ক্রোন্দলে জড়ায় না। নিজ স্বার্থের জন্য নিজ দলের ভাইদের উপর আক্রমণ, হত্যা করে না। তারা শিক্ষকদের সাথে খারাফ আচরণ করেছে এমন নজির কম আছে। কোন মেয়েকে ধর্ষণ করবে তো দূরে থাক, ইভটিজিং করেছে এমন কোন সংবাদ প্রকাশিত হতে দেখিনি। ফলে এই তরুণ কোমলমতিরা তাদের এই প্রত্যক্ষ পার্থক্য তাকার কারণে তারা শিবিরের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
তাই স্যার আপনাকে বলবো, তারুন্য এক নদীর স্রোতের মত । এর গতি কখনো আটকে রাখা যায় না। শিবিরের বদনাম করে তরুনদেরকে শিবির থেকে বিরত রাখা যাবে না। শিবির থেকে তরুনদের বিরত রাখার জন্য অবশ্যই তাদের এমন একটা দলের সন্ধান তাদের দিতে হবে। যারা শিবিরের চাইতে আরো বেশি সুশৃঙ্খল, যারা নিজ স্বার্থের জন্য নিজ দলের অন্য কর্মীদের উপর রক্ত পিপাসায় ঝাপিয়ে পড়বে না। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যারা কোন মেয়ের শ্লীলহানি করবে না, যারা অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজি করবে না।
স্যার আপনি বলেছেন যে, আপনি রাজনীতি বেশি বুঝেন না। কিন্তু তারপরও কোমলমতি তরুনদের শিবির হতে দূরে থাকার জন্য আপনি যেভাবে আপনার দরদী কথামালা ঢেলে দিয়েছেন। আশা করি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির সংগঠন ছাত্রলীগকে সকল অপকর্ম থেকে তাদের নৈতিক মান ও সাংগঠনিক মান বৃদ্ধির জন্য আপনি এগিয়ে আসবেন।
অন্যথায় যতই শিবির বিরোধী প্রচারণা চালানো হোক না কেন। তাতে কোন ফল হবে না। যা বিগত কয়েক দশক চালিয়েও কোন লাভ হয়নি। বরং শিবিরের দলে তরুনদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা যদি সামনের দিনগুলোতে একই পথে হাটি। অর্থাৎ শিবিরের বিরুদ্ধ প্রচারণা চালানোর মধ্যেই থেমে থাকি। তাহলে সামনে আরো ভয়াবহ দিনের জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৯:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


