somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা: এক ডানাকাটা স্বপ্নপাখির দূরন্ত গল্প

১৯ শে মে, ২০১৪ রাত ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

না! এবার না লিখে, আর পারলাম না। হাজারো ব্যস্ততার মধ্যে বার বার লিখতে ইচ্ছা করছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে পারছিলাম না। কিন্তু এবার যা ঘটলো তাতে না লিখলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।

পাঠকগণ নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বিগত পিএসসি, জেএসসি,এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ফাঁসের মহোৎসবের কথা। তারসাথে চলেছে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দেখেও না দেখার ভান। যা নিয়ে জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারও প্রশ্ন তুলেছেন (স্যারের মতামত জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন)। কিন্তু এবার নিজ চোখে যা দেখলাম তা নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না আর তা বর্ণনা করলে পাঠক বিশ্বাস করবেন কি না, জানি না।

আমার রুমমেটের ছোটভাই। এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে ঢাকায় এসেছে। আমার পাশেই আছে প্রায় একমাস। আমার রুমমেট তার ছোটভাইয়ের পড়াশোনার বেহালদশা নিয়ে খুবই চিন্তিত। তাই তিনি আমাকে দায়িত্ব দিলেন তার পড়াশুনার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে।

আমি তাকে তৃতীয় শ্রেণির একটি ইংরেজী গ্রামার বই পড়তে দিলাম। দু’দিন পর সে বলল, বইটা পড়া শেষ। কিন্তু তার কাছ থেকে কোন পড়া আদায় করা সম্ভব হয়নি। তাকে দু’দিন Person পড়ালাম। পারছিল না। তাই তাকে আবারও Person পড়াতে গিয়ে দেখি I, We, You, They, Them –এর অর্থ পারছে না। অর্থ পড়ালাম। কয়েকদিন পরও সে এই শব্দগুলোর অর্থ বলতে পারছিল না। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাগ্নেকে ৫ মিনিটে যা শেখাতে পেরেছিলাম, তাকে দু’দিনেও তা শেখাতে পারিনি।

তার ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে জিজ্ঞাস করলাম, তার ইচ্ছা সে কোন এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ-তে পড়াশুনা করবে। আমি তাকে বললাম ‘স্বপ্ন দেখা অপরাধ না। তবে আমাদের সাধ্যের বাইরে কোন স্বপ্ন দেখা ঠিক নয়। কারণ, যেখানে সফলতার সম্ভবনা ২০% থেকেও কম, সেখানে ব্যর্থ হয়ে শুধু দু:খই পেতে হবে। আর যাইহোক তোমাকে দিয়ে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া সম্ভব হবে না। তাই তুমি অন্যকিছু কর, তাতে ভাল করতে পারবে।’

আমার সকল উপদেশই ফিকে হয়ে গেল! কারণ, সেই ছেলেটি বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.০০ পেয়েছে। রাতে বাসায় ফিরে দেখি আমার জন্য মিষ্টি নিয়ে বসে আছে। আমি আসিনি বলে ওরা কেউই মিষ্টি খায়নি। আমি মাথা নিচু করে কোনরকম মিষ্টি খেয়ে রাতের কাজ শেষ করে বিছানায় গেলাম। সে বড় বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

তাহলে, এই ছেলে কিভাবে জিপিএ ৪.০০ পেল? তার খাতা কারা মূল্যায়ণ করল? কিভাবে মূল্যায়ণ করল? আমি যতটুকু জানি খাতামূল্যায়ণের নির্দেশনাবলীতে লিখা আছে, কোন খাতায় লেখা থাকলে তাকে পাস করাতে হবে। যদি কোন ছাত্র ফেল করে, তাহলে ঐ শিক্ষককে কারণ দর্শাতে হবে কেন এই ছাত্র ফেল করল। কোন শিক্ষক যদি এক হাজার খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করেন, তাহলে সেখানে একশ ছাত্র-ছাত্রী ফেল করবে এটাই স্বাভাবিক। পাঠক আপনারাই বলুন,কোন শিক্ষকের কি ঠেকা পড়ে আছে আলাদাভাবে একশ কারণ দর্শানোর। তার চেয়ে বরং পাস করিয়ে দিলেই তো কোন কারণ দর্শাতে হবে না। তাহলে কেন শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের ফেল করাতে যাবে? তাই তারা পার পাবার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের পাস করিয়ে দেয়।

আর শিক্ষাব্যবস্থা যদি এমনি হবে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস,কোন শিক্ষার্থীকে ফেল করানো যাবে না। তাহলে এতকিছু আয়োজন করে অর্থে অপচয় করার কি দরকার ছিল? যারা পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে তাদের একটি মাত্র পরীক্ষা নিয়ে (আগের দিন প্রশ্নপত্র ফাঁস করে) সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেই হয়।

এই যে তার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন। তা কি পূরণ করা সম্ভব? যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন বা ভর্তি হবার চেষ্টা করেছেন, তারা অবগত আছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া যে কতটা কঠিন কাজ। আমাদের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা লাখো লাখো ছাত্রছাত্রীদের তাদের সামর্থের বাহিরে যে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তা পূরণ করতে যখন তারা ব্যর্থ হবে, তখন অবস্থা কি হবে?

এই ধরণের মেধাবী হয়ে যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছে, আমার যতটুকু পর্যবেক্ষণ তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হতে পারবে না।

যারা তুলনামুলক কম মেধাবী, আমি তাদেরকে কোন দোষ দিচ্ছি না। আমি বলছি না যে, তাদের লেখাপড়ার দরকার নেই। আমি শুধু বলছি, এরা উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকবে। কিন্তু চাকুরীর বাজারে এরা শুধু দেশের বেকারত্বের পাল্লাই ভারী করবে। বরং এখানে যে সময়টুকু অপচয় করবে, সেইসময়টুকু কোন কারিগরি শিক্ষা, ব্যবসা বা অন্যকোন কাজে ব্যয় করলে তারা সহজেই সফলতা পাবে। তারা বেকার থাকবে না। পরিবার, সমাজ তথা দেশের বোঝা হবে না। সার্বিক বিবেচনায় তারা দেশের উন্নয়ণের জন্য কাজ করতে পারবে।

প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা না পাওয়ার কারণে এসকল স্বপ্নবিভোর ছাত্র-ছাত্রীদের যখন স্বপ্ন ভাঙ্গবে, তখন আর নতুন করে কোন স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকবে না। এদের মধ্যে যারা টাকার জোরে সার্টিফিকেট অর্জন করবে, তারা টাকা দিয়ে চাকুরী নিবে। আর এরা কোন চাকুরীতে ঢুকলে দূর্নীতির সকল রেকর্ড ভাঙ্গবে, কোন সন্দেহ নেই। দেশকে অজানা অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে।

যেসকল দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সাময়িক বাহবা পাওয়ার জন্য অর্থাৎ পাশের হার বৃদ্ধি তথা শিক্ষা ক্ষেত্রে সফলতা দেখানোর চেষ্টা করছেন, তারা যে, জাতির কত বড় ক্ষতি করছেন; তা পরবর্তীতে বুঝা যাবে। দেশ সার্টিফিকেটধারীদের দিয়ে ভরে যাবে। কিন্তু এদের মধ্যে দেশপ্রেম, সৃজনশীলতা বলতে কিছুই থাকবে না।

অতএব, আমাদের সকলের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এবং উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ণের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। যাতে দায়িত্বশীল মহল সাধারণ মানুষের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আদর্শের মুখোশ, নাকি অনলাইন প্রোপাগান্ডা: 'ন্যায়পরায়ণ' সাজার আড়ালে আসল রূপ কোনটা?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২২



ধর্ম, নৈতিকতা আর আদর্শের মুখোশ পরে যখন ভেতরে ভেতরে চরম অবক্ষয় চলে, তখন সাধারণ মানুষ হিসেবে মুখ বুজে মেনে নেওয়া কঠিন!
ধর্ষণের অভিযোগ এআই (AI) দাবি করা কিংবা অনৈতিক ঘটনাকে ‘দ্বিতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখী শিক্ষার্থীরাই ভালো শিক্ষার্থী, ওরাই সবচেয়ে মেধাবী

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৮

​আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা ‘মেধা’ শব্দটিকে জিপিএ-৫, গোল্ডেন মেডেল কিংবা পরীক্ষার খাতার নম্বরের ফ্রেমে বন্দি করে ফেলেছি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কোচিং, প্রাইভেট আর মুখস্থ বিদ্যার যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মওলা

লিখেছেন আরমান আরজু, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:১৪

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×