somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের জনগণ আমলাদের চাতুরতা, স্বার্থপরতা কবে বুঝতে পারবেন ?

২০ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

https://www.youtube.com/watch?v=tsbbk4GXzzs

এখানে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বিপ্লব! পেনশন দ্বিগুণ ।

কিন্তু মূল্য স্ফিতির সাথে পুরাতন পেনশনারদের বাস্তবে নতুন নির্ধারিত টাকার অংক কি আদৌ সেইসব অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বিপ্লব ঘটাবে ?

এসব নিয়ে অধমের কিছু বিশ্লেষণঃ

এই পে কমিশনের মাধ্যমে বাটপাড়ির যে অভিনব ক্যারিসা আমলারা করিয়ে নিল, এটা কেউই বুঝতে পারলেন না ? আফসোস ! এই দেশের আমলারা মনে করে, তাদের চেয়ে মেধাবী আর কেউ নেই । তাই তারা যা করে আসছে গেল ৫৫ বছর যাবৎ, তা চিরকাল অন্ধকারে থাকার কারণে এই রাষ্ট্রের যা কিছু সর্বনাশ হয়েছে, তা মানুষ এখন প্রকাশ্যে অনুভব করে । আর ছটফট করে । কিন্তু কোন কাজ হয় না । আমাকে আমার বন্ধুরা বলেন, “তুই নিজের বিরুদ্ধে কলম ধরিস কেন ?” এ জন্য ধরি যে, আমি “মানুষ” । মনুষ্যত্ব আমাকে পশুত্বের বিরুদ্ধে কলম ধরতে শিখিয়েছে । এটা আমি আল্লাহর অশেষ দয়ায় পারিবারিকভাবে অর্জন করেছি । দেখুন, এই দেশের আমলাদের অধিকাংশের পারিবারিক ইতিহাস যদি দেখেন, তাহলে এদের অনেকেই এক সময় আসত তথাকথিত বনেদি ঘরের বংশধররা । যাদের মধ্যে ব্যতিক্রম ২/১ টা বাদ দিলে বেশীরভাগের পারিবারিক ঐহিত্য গড়ে উঠেছিল অসৎভাবে অর্জিত ধন সম্পদের মাধ্যমে । জামিদারী আমলে বৃটিশদের পা চেটে তথাকথিত জমিদার পরিবারের যারা কামিয়েছে, তাদের ইতিহাস খুবই নোংরা ( ব্যতিক্রম ব্যতিত) ।

দেশ স্বাধীনের পর থেকে অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে, যাদের পরিবারের অধিকাংশের মধ্যে নৈতিকতার বালাই নেই ( কদাচ ব্যতিক্রম ব্যতিত) আর গত ১৬ বছরে যারা এসেছে, সবাই বোঝেন, এইচ টি ইমামের ঘর থেকে ট্রেনিং পাওয়া অধিকাংশই বুভুক্ষ ঘেটু-কুড়ুনীদের ( দুঃখিত ঘেটু কুড়ুনী গরীব দুঃখী মানুষকে ছোট করার জন্য বলছি না ) ঘর থেকে । অধিকাংশেরই এই চাকরি বাগিয়ে নেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য কি ছিল , তা সবাই বুঝতে পারেন । প্রকৃতপক্ষে এই রাষ্ট্রের প্রতি কোন কমিটমেন্ট এই সব আমলাদের অধিকাংশের মধ্যে নেই ( ব্যতিক্রম ব্যতিত) । জনগনের ইচ্ছার মূল্যায়ন এই কারণে হয় না । জনগণের রাজনৈতিক অধিকার শুধুমাত্র এই কারণেই হারিয়েছে । এটা যারা এখনো বিশ্বাস করেন না, তারা এই কথার সাথে বর্তমান পে স্কেল বাস্তবায়ন এবং এই তথাকথিত পেনশনারদের জন্য বিপ্লবের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারবেন না ।

এরা সবাই জানে, দেশটার অর্থনৈতিক কাঠামোকে শেখ হাসিনার সরকার এবং তার সহযোগী চোর বাটপাড় সামরিক-সেমারিক আমলা-কামলারা আর ব্যবসায়ি সহ সরকারের সাথে জড়িত প্রায় সবাই কিভাবে ফোকলা বানিয়ে গেছে । সেই অবস্থার মধ্যে এই স্বার্থপর আমলারা ইউনুস সরকারকে দিয়ে পে কমিশন বাস্তবায়নের জন্য চাপাচাপি করেছিল । তাই এরাই ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল যেভাবেই হোক নিরংকুশ করিয়ে এই সরকারকে আনতে হবে এবং তার পুরস্কার হিসেবে ভালো মানের একটা বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করিয়ে নিতে হবে । তাই করেছে । এই দেশের ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হলে গেলেও, আই এম এফ মুখ ফিরিয়ে নিলেও, যেভাবেই হোক রাষ্ট্রকে আমেরিকা, চীনের কাছে বিক্রি করে দিয়ে হলেও তা করতে হবে। তাই করা হচ্ছে ।

পুরাতন পেশনারদের ফিক্সেশন হওয়ার পর বুঝতে পারবেন, আসলে যত গর্জে, তত বর্ষে না । শুধু তাই নয়, প্রথম বছর যাদের বেতন ফিক্স হবে তার বাড়তি বেতন এবং বর্তমান প্রাপ্ত নীট বেতনের পার্থক্য কত হয় ? সেটা যারা বুঝতে পারবেন, তারা বুঝবেন, বাজারে যে মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে, কেউ বুঝতেই পারবেন না যে, বাস্তবে তার আয় বেড়েছে কি না ? অনুভবই করতে পারবেন না । এই দেশের পে স্কেল চিরকাল এমনভাবে করা হয়, যেখানে গ্রেড ১-৫ এর নিচে যারাই থাকেন, তাদের ভাগ্যের খুব বেশী পরিবর্তন হয় না । এ জন্য ইউনুস সরকারের কমিশনে আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত হয়েও সবার কথা ভেবে গ্রেডের ব্যবধান কমিয়ে ১-১০টা করার কথা বলেছিলাম । কেননা পৃথিবীর কোন কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে এত বৈষম্য নেই । সরকারী আমলাদের জমিদার বানিয়ে রাখার কালচার শুধু মাত্র ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশে দেখবেন । আর কোথাও এমন পাবেন না (ব্যতিক্রম ব্যতিত) । শ্রেণী বৈষম্য কমিয়ে, জমিদার-প্রজার চরিত্রে গঠিত চলমান আমলাতন্ত্র বিদায় না করতে পারলে এই রাষ্ট্রের জনগণ কোনদিনও তাদের মর্যাদা ফিরে পাবে না। তরুণ প্রজন্ম ইচ্ছা করলে সব ভেংগে চুরমার করে একটা কল্যাণ রাষ্ট্র বানাতে চাইলে তা অসম্ভব নয় । দরকার মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগানো । জনগণকে বুঝতে হবে, আমলারা তাদের টাকায় বেতন খাওয়া চাকর ব্যতিত আর কিছু নয় । এটা যতকাল তারা না বুঝবে এবং তাদেরকে চাকরের স্থানে নামিয়ে আনতে না পারবে, ততকাল কারো মুক্তি নেই ।

হিসেবটা মিলিয়ে দেখুন, তাই হয়েছে কি না ? ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট, মূল্য স্ফিতি তুংগে । তৃণমূলের মানুষের আর্থিক বাস্তব অবস্থা কি ? সরেজমিনে খবর রাখি কয়জনা ? পেশনের বিপ্লব মানে বুঝতে পারলেন তো ? যাতে এই সরকারের বিদায় হলেও এরা বিশাল অংকের গ্রাচুয়িটি পাওয়ার এবং আজীবন ঘরে বসে ইএফটির মাধ্যমে ফ্রুটফুল কিছু পাওয়ার ব্যবস্থাটা পাকাপাকি করে নিল । তাই বলে কি যে বাংলাদেশ আমরা চেয়েছিলাম, সেই বাংলাদেশ হলে এটা হত না ? অবশ্যই হত । কিন্তু সেটা করার আগে জনগণের যে সম্পদ ঋণ খেলাপীরা খেয়েছে আর হাসিনার পরিবার আর তার দোষররা লুটেছে, তা উদ্ধার করেই তবে করা হত । জনগণকে এটা করতে দেয়া হবে না বলেই আমলারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে এই সরকার গঠণ করেছে , নিরংকুশ উপহার দিয়ে । তারাও উপহার হেসেবে নিরংকুশ কিছু বুঝে পেল । বুঝলেন ? ভবিষ্যত প্রজন্ম যদি রাষ্ট্রের এইসব স্বার্থপর আমলা নির্ভর রাজনৈতিক কাঠামো, চোর বাটপাড়দের সাজানো সংসার ভেংগে নিজেরা নিজেদের মত করে তাদের রাষ্ট্র মেরামত করতে না পারে, তাহলে আগামীর প্রজন্ম গাজা, সুমালিয়ার বাসিন্দা হয়ে বেঁচে থাকবে ।কখন বিস্কুটের ট্রাক নিয়ে কোন সাহায্যকারি সংস্থা তাদের জীবনের শেষ আয়ূটুকু রক্ষার নাটক করতে আসবে !


বেশী কথা বলে ফেললাম ? ভুল বুঝবেন না । আমি কিন্তু বিতর্কিত স্থানে “ব্যতিক্রম” কথাটা লিখেছি । তাই প্রজাতন্ত্রের চাকরদের মধ্যে আত্ম সম্মান যাদের আছে, তারা গড়ে সব কথা তাদের গায়ে টেনে নিবেন না ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×