২০২৪ সালের ৮ই আগষ্ট থেকে আজতক বি এনপির প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করলে আমার কাছে অন্ততঃ সেটাই মনে হয় যে, এই দলটার উপর মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বিলিন হয়ে গেছে । তাদের আচরণ দেখে মানুষ বুঝতে পেরেছে, তারা শুধু ২০০৬ সালের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই বরং তাদের দেউলিয়াত্ব এমন চরমে পৌঁছে গেছে যে, মানুষ এখন ভাবছে, এদের চরিত্র আর আওয়ামীদের চরিত্রের মধ্যে খুব বেশী পার্থক্যতো নেই । ওরা আর আর আওয়ামীরাতো একই জিনিষ !
তাহলে লাভ কি হলো ওদেরকে ক্ষমতায় এনে ? ৩০% এর কিছু বেশী বা কম মানুষ যারা ভুল করে ভোট দিয়েছিল, তারা অনেকেই নিজের মাথার চুল ছিড়ছেন ।
৩০% ভোটার কেন বললাম ? স্মরণ শক্তি কি আমাদের এতটাই দুর্বল ? আমরা কি কেউই বুঝতে পারিনাই ? কি হয়েছিল নির্বাচনের সময়? আসলে তারা কি ম্যাক্সিমাম জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পেরেছে ? নাকি হাসিনার আমলের মত একই কায়দায় প্রশাসনের লোকজন তাদেরকে নিরংকুশ ক্ষমতা পাইয়ে দিয়েছে ?
নির্বাচনের সময় অনেকের কাছে সেটারও কিছু আলামত পরিস্কার হয়েছিল । কিন্তু জামাতের নমনীয়তায় তা ঢাকা পড়ে যায় । যতই ঢেকে রাখার চেষ্টা করুক, প্রায় ৭০% জনগণের গণভোটের রায় প্রমাণ করেছে, আসলে এই দলটি ৭০% মানুষের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল । কিন্তু প্রশাসন সহ এই দেশের কিছু মিডিয়া, বুদ্ধির ব্যাপারী, ডাকাততুল্য ব্যবসায়িদের একটা মোর্চা যারা বিগত ১৭ বছর অবৈধ সুবিধাভোগ করে আসছিল, সেইসব চোর বাটপাড়দের জমিদারী টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তারা কারসাজী করে এই সরকারকে নিরংকুশ বিজয়ী করেছিল । এটা জনগণের কাছে খুবই পরিস্কার ।
তাহলে জনগণ কেন সহ্য করছে ?
জানা গেছে, ১১ দলীয় জোট এর অনুরোধে তা করছে । ৫ বছরের জন্য এই সরকারকে সোজা পথে হাটার একটা সুযোগ দিতে চাচ্ছে ।
কিন্তু সোজা পথে হাটার কোন লক্ষণতো দেখা যাচ্ছেই না , বরং ঢাকা ভার্সিটি সহ সকল ভার্সিটি দখলের একটা পরিকল্পণা যেমন ধীরলয়ে সাজানো হয়েছে । প্রায় প্রত্যেকটা ইনষ্টিটিউশন দখলবাজীর কালচারে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে ।
অপরাধীরা জামিনে মুক্ত হচ্ছে ।
চাঁদাবাজীর মহোৎসব চলছে ।
গরীবের পকেট কাটা কর ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে । ধনীরা ঠিক আগের মত করের ফাইলে ফকির থাকবে, আর নিম্ন আয়ের মানুষদের করজালে আটকে সেই ক্ষত পূরণ করার ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের কালচারকেই জাষ্ট কপি পেষ্ট করা হয়েছে ।
মানুষ আর কতকাল এই ব্যাকডেটেড, অসভ্যতা সহ্য করবে ??
সচেতন জনতা, চোখ কান খুলে সজাগ থাকুন, শীষাঢালা প্রাচীরের মত ঐক্যবদ্ধ থাকুন । ২০২৪ সালের মুক্ত বাংলাদেশেকে আবারো যে ভাবে ৮ই আগষ্ট ২৪ এ ছিনতাই করা হয়েছিল, তখনই এই হিসেবটা সচেতন জনতার কাছে পরিস্কার ছিল । মেধাবী, সৎ, যোগ্য তরুণরা কোন হানিট্র্যাপে পাড়া দিবেন না । আপনারা তাজা থাকলে দেশ তাজা থাকবে । আপনারা মরে গেলে, দেশটা মরে যাবে । সাধু ! সাবধান !!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



