প্রিয়াংকা গান্ধীর এক সত্য ভাষণ শুধু বাংলাদেশ সৃষ্টির সত্যই নয়, একই সাথে আরো অনেক সত্যকে উন্মোচিত করেছে । সে কথাই বলব নতুন প্রজন্মকে । চলবে ধারাবাহিকভাবে ইন শা আল্লাহ্ ।
যে পৃথিবীকে শাসন করার কথা ছিল মুসলিম জাতির, সেই পৃথিবী আজ ভদ্রতার লেবাসধারী কিছু চোর, গুন্ডা, খুনীদের নিয়ন্ত্রণে । কেন ?
কারণ মুসলিম জাতি তাদের পূর্ব পুরুষদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ভুলে গেছে। নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে যেমন কিচ্ছু জানে না, তেমনি তাদের পূর্ব পুরুষরা যে সভ্যতা বিনির্মান করে গোটা দুনিয়ার অসভ্য, জংলী, চোর, বাটপার, গুন্ডাদের সভ্য হতে শিখিয়েছিল, তাদেরকেও তারা ভুলে গিয়েছে ( ব্যতিক্রম ব্যতিত)।
ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলাকে আন্তর্জাতিক জুয়া খেলার আসরে পরিণত করা হয়েছে, এটা যখন থেকে বুঝতে পেরেছি, তখন থেকে আমি এ থেকে দূরে থাকি । অযথা সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না । আজ দেখলাম, এই দেশের অসংখ্য বেকুব মুসলমানের বাচ্চারা মেসি প্রেমে সেঁকা খেয়ে আহত । তাদের জন্য নিবেদন করছি স্পেইনের কিছু সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।
এ প্রজন্মের কিছু মানুষ হয়তো আন্দালুস' (Andalus) নামটা শুনেছেন ।
আসুন জেনে নেই । কি ঘটেছিল সেখানে ?
৭১১ খ্রিস্টাব্দে তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে আইবেরীয় উপদ্বীপ বিজয়ের মাধ্যমে স্পেনে ইসলামী সভ্যতার সূচনা হয় । এটাকেই বলা হয় 'আল-আন্দালুস' (Al-Andalus)। ৭১১ থেকে ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ বছর স্থায়ী ছিল এই মুসলিম শাসনামল । এখানেই ঘটে বিজ্ঞান, দর্শন, শিল্প ও সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব জাগরণ । মুসলিম জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের তালিকা উইকি থেকে জেনে নিতে পারেন । ইতিহাসে এটাকেই বলা হয় মুসলিম রেনেসাঁ বা ইসলামের স্বর্ণযুগ।
** জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্র কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়:
আন্দালুসিয়ার তৎকালীন রাজধানী কর্ডোভা (Córdoba) হয়ে উঠেছিল ইউরোপের জ্ঞানচর্চার প্রধান প্রাণকেন্দ্র। এখানে বিশাল লাইব্রেরি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল [ অথচ আপনি যদি গুগলে সার্চ করেন এই বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ? দেখাবে ১৯৭২ সালে । এই মিথ্যাচার তারাই করেছিল, যারা কর্ডোভায় মুসলিমদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে কাপুরুষের মত তাদেরকে হত্যা করে সেখানকার ইতিহাস ঐতিহ্যকে চুরি করে নিজেদের নামে বিজ্ঞানের যুগের সূচনা বলে চালিয়ে দিয়েছিল] সেই সময়ে সেখানে ধর্মতত্ত্বের পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত ও চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ানো হতো।
১. বিজ্ঞান ও চিকিৎসা শাস্ত্রের বিকাশঃ- আন্দালুসের মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন ইবনে রুশদ, ইবনে তুফাইল এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে অনন্য অবদান রাখা আল-জহরাউই, ইবনে সিনার মত বিখ্যাত চিকিৎসাদিব । কয়েক শতাব্দী ধরে ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের রচিত কারিকুলাম নিয়ে শিক্ষা-গবেষণা চলেছিল, যারই ধারাবাহিকতায় আজকের আধুনিক বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষ ।
২. স্থাপত্য ও শিল্পকলাঃ সেই সময়ে স্পেনে যত স্থাপত্য ও শিল্পকলার বিকাশ ঘটেছিল তার পুরো অবদান ছিল মুসলিম স্থপতিদের। এর মধ্যে গ্রানাডার আলহামব্রা প্রাসাদ (Alhambra Palace) এবং কর্ডোভার ঐতিহাসিক কর্ডোভা জামে মসজিদ (যা পরবর্তীতে খ্রিষ্টানরা দখল করার পর ক্যাথেড্রালে রূপান্তরিত করে ) । এগুলো বিশ্ব স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ।
৩. শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় সম্প্রীতিঃ আন্দালুসের সমাজে মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের সহাবস্থান ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে 'বাইতুল হিকমাহ' বা জ্ঞানের ঘরের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল।খ্রিস্টান ও ইহুদি পণ্ডিতদের সহায়তায় আরবি ভাষায় লেখা প্রাচীন গ্রিক, রোমান ও প্রাচ্যের দর্শন ও বিজ্ঞানের বইগুলো ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়, যা পরবর্তীতে গোটা ইউরোপে জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার পথ উন্মুক্ত করে।
৪. কৃষি ও অর্থনীতিতে বিপ্লবঃ মুসলিম প্রকৌশলী ও কৃষকরা স্পেনের কৃষি ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তারা উন্নত সেচ ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন এবং তুলা, ধান, কমলা ও বেগুন প্রভৃতি নতুন নতুন ফসলের চাষাবাদ শুরু করেন।
কিভাবে আন্দালুসিয়া থেকে মুসলিম শাসকদের পতন হয়েছিল?ঃ
প্রথমতঃ মুসলিম শাসকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল । বু আবদেল (আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ দ্বাদশ নামেও পরিচিত) ছিলেন স্পেনের আন্দালুসে অবস্থিত গ্রানাডার নাসিরী রাজবংশের ২৩তম এবং সর্বশেষ মুসলিম শাসক। তার দুর্বল নেতৃত্ব ও ক্ষমতালোভী ঘরোয়া গাদ্দারদের কোন্দলের সুযোগ নিয়ে চক্রান্তটা সাজানো হয়েছিল । কিভাবে ? স্পেইনে শান্তিপূর্ন সহাবস্থানের সুযোগ নিয়ে ক্যাথলিক ধর্মীয় উপাসানলয়ের রাজা ফাির্ডনান্ড ও রানী ইসাবেলা বু-আবদেলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে । বু আবদেল তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় স্পেনের ক্যাথলিক ও খ্রিস্টান রাজাদের ঐক্যবদ্ধ আক্রমণের ফলে মুসলিম সম্রাজ্য দুর্বল হতে থাকে। স্পেনে মুসলমানদের সর্বশেষ দুর্গ গ্রানাডার পতন ঘটে ১৪৯২ সালে। এর মাধ্যমে স্পেনে প্রায় আটশত বছরের গৌরবময় মুসলিম শাসনের অবসান হয় এবং রেনেসাঁ বা জ্ঞানালোকের সমাপ্তি ঘটে।ইউরোপীয় সভ্যতার আধুনিকায়নের ভিত্তি হিসেবে আন্দালুসের এই মুসলিম রেনেসাঁ ইতিহাস জুড়ে এক স্বর্ণালী অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত।
কথিত আছে, বু্-আবদেলকে ফাঁসানো হয়েছিল একটা খ্রিষ্টান সুন্দরী নারীর মাধ্যমে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ( এটি প্রোপাগান্ডা বলেই মনে হয় আমার কাছে, আবার হতেও পারে হানিট্র্যাপ ) । মূলতঃ মুসলিম জাতি যখনই ইসলাম থেকে সরে গিয়ে নিজেদের পেশীশক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং তাদের চরিত্র কুরআন-হাদীসের বিপক্ষে গিয়েছে, তখনই তাদের পতন ঘটেছে । সেই যে পতন হলো, আজও সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে মুসলিম জাতি গৌরবের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখল না ।
সার কথাঃ মুসলিম মানে আল্লাহর প্রতি ১০০% অনুগত । সেই মানুষ মুসলিম নামধারী রহিমের ঘরে জন্ম নিক অথবা গৌরাংগ সাহার ঘরে জন্ম নিক । কোন মানুষ ( আদম সন্তান ) যখনই আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল(সঃ)কে চিনতে পারে, সেই আলো ধারণ করে আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পিত হতে পারে, সেই মানুষকে বলা হয় মুসলিম । তেমন মুসলিম হতে না পারলে ভেজাল মুসলিমরা কখনওই দুনিয়াতে সম্মানিত জাতি হিসেবে টিকে থাকতে পারে না । বর্তমান যামানার মুসলিম জাতি রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালে এটাই প্রমাণ হয় ।
চলবে ----------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



