
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে গর্ভপাতের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। তবে এ ধরনের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা জানা প্রায় অসম্ভব। কেননা এসব গর্ভপাতের অধিকাংশই হয় অবৈধভাবে। বিভিন্ন সূত্র ও নারী অধিকার কর্মীরা জানান, অবৈধ গর্ভপাতের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে কিশোরী মেয়েদের ক্ষেত্রে।
শ্যামলী এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাবু জানান, শুধুমাত্র মিরপুর ও শ্যামলী এলাকায়ই প্রতিদিন গড়ে ১৫০টি গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে।
গর্ভপাতের পর মৃত ভ্রূণ সংগ্রহ করেন বাবু, তিনি আরও জানান, বছর দুয়েক আগেও এই সংখ্যা ছিল এর অর্ধেক। আইসিডিডিআরবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গর্ভপাতের জন্য আসা নারীদের অনেকেই যৌনকর্মী। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশই একাধিকবার গর্ভপাত করিয়েছেন।
প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ড. ফিরোজা বেগম বলেন, ‘গর্ভপাত করার পরিবেশ যথেষ্ট স্বাস্থ্যসম্মত না থাকলে সেখান থেকে নানা রকম ইনফেকশন হতে পারে। তাছাড়াও ভবিষ্যতে সন্তান ধারণ করতেও জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
তিনি আরও বলেন, এসব ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা প্রয়োজন। কারণ আইনি বাধা থাকায় ডাক্তাররা সব সময় তাদের সাহায্য করতে পারেন না।
মিরপুর এলাকায় একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে যারা তিন মাসের বেশি বয়সের ভ্রূণও গর্ভপাত করে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেলিনা (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমি চার মাসের গর্ভধারণের বিষয়টি বুঝতেই পারিনি। সন্তানের বাবা বিয়ের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা রাখেনি। আমি শান্তিনগরের একটি ক্লিনিক থেকে গর্ভপাত করি। ততদিনে ভ্রূণের ছয় মাস বয়স হয়ে গিয়েছিল।’
বেসরকারি প্রসূতসেবা কেন্দ্র মেরিস্টোপস-এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই তিন মাসের বেশি বয়সী ভ্রূণ অপসারণের ক্ষেত্রে রোগীকে সম্ভাব্য জটিলতার কথা জানানো হয় না।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রধান আয়েশা খানম বলেন, ‘স্কুল কলেজে যৌন শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এ সমস্ত ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত গর্ভসঞ্চারের ক্ষেত্রে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়া কোনো সমাধান নয়। এ ধরনের বিয়ে প্রায়ই বিচ্ছেদের দিকে গড়ায়।’
সূত্র: প্রতিদিনের নিউজ পেপার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




