somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শমীন্দ্র ঘোষ
পেশায় সাংবাদিক, লেখক, স্থির চিত্রগ্রাহক। কবি, গবেষক, গ্রন্থকার, আবৃত্তিকার, যুক্তিবাদী মানবতাবাদী আন্দোলন কর্মী। সাধারণ সম্পাদক, ভারতীয় বঙ্গসমাজ। ধর্মহীন সাম্যের সমাজের স্বপ্ন দেখি ও দেখাই।

রাখীবন্ধনের শুভেচ্ছা ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

২০ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

#রাখীবন্ধন
#বন্ধুত্বের_শুভেচ্ছা এবং #সংক্ষিপ্ত_ইতিহাসের

সমস্ত বন্ধু, পাঠক-পাঠিকা আবালবৃদ্ধবনিতাকে আন্তরিকভাবে আমি #রাখী উপহার দিলাম। হৃদয় উত্‍সারিত শুভেচ্ছা জানাই বাঙালি বন্ধুদের। সাক্ষাত্‍ হলে পরিয়ে দিতাম। #রখীবন্ধনের মাধ্যমে আমি অখণ্ড বাঙালির বন্ধু শুভাকাঙ্খী সহমর্মী সহযোগী সহযোদ্ধা থাকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম। ভুল কাজে গঠনমূলক ইতিবাচক সমালোচনা করে ভ্রম সংশোধনে সহযোগিতা করব। বিদ্বেষ হিংসা কুত্‍সা করব না। ভালো কাজে উত্‍সাহ প্রশংসা করব, অনুপ্রাণিত করব বাঙালির সার্বিক উত্‍কর্ষের জন্য।
আপনারাও হয়ে উঠুন পরস্পরের বন্ধু, আবেদন।
আসুন, আমরা সকলে পরস্পরকে রাখী পরিয়ে দেই বন্ধুত্বের বন্ধনে। যা ছিল উপমহাদেশের সুপ্রাচীন রেওয়াজ।

#রবীন্দ্রনাথ_ঠাকুর সকলের জন্য #রাখীবন্ধন উত্‍সবের সূচনা করেছিলেন অখণ্ডবঙ্গে। সেটা ছিল বঙ্গভঙ্গ রোধের আন্দোলন এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বের বন্ধন। #রাখীকে হিন্দুধর্মের কবল থেকে বের করে এবং ভাইবোন মার্কা ছাঁচ থেকে মুক্ত করেছিলেন তিনি। তাঁর হাত ধ'রে #রাখীবন্ধন হয়ে উঠেছিল সর্বজনের জন্য সর্বজনের প্রতি বন্ধুত্বের মিলনের সহযোগিতার সহমর্মীতার বার্তাবাহী। এক অহিংস ও প্রেমের বাতাবরন গঠনের ইঙ্গিত। যা ছিল প্রাচীনকালে।

সুদূর প্রাচীনকালে #রাখীবন্ধন শুধু ভাই বোনের মধ্যেকার সম্পর্ক ছিল না। ব্রাহ্মণরা কারও অতিথি হলে রাখী পরাতেন আতিথ্যকে। এটা ছিল অনাক্রমণ, বন্ধুত্ব ও সৌজনের ইঙ্গিতময় চুক্তি। এতে ঈশ্বরের কৃপালাভ যুক্ত ছিল না। এছাড়াও যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে যোদ্ধার বউরা #রাখী বেঁধে দিতেন যোদ্ধাদের। অনিশ্চয়তায় গৃহপরিজনের শুভকামনা ছিল এটি। মেয়েরা #রাখী বেঁধে অসহোদরকে আপন করতো। এটা একাধারে ভাইবোন উদযাপন, বন্ধুত্বের বন্ধন ও অনাক্রমণ এবং অবৈবাহিক চুক্তি। নাহ, এটিও ভাই বোন মার্কা রেওয়াজ ছিল না। তবে, বাংলা অঞ্চলে বর্তমানেও ব্যাপক প্রচলিত ভাই বোন পাতানোর #রাখীবন্ধন; অবৈবাহিক চুক্তি।
বর্তমানের #বিপদতারিণীসূত্র, #মঙ্গলসূত্র, #শিবসূত্র, #মন্ত্রসূত্র ইত্যাদি সূত্রবন্ধন এই #রাখীবন্ধন থেকেই এসেছে, এমন অনুমান করা হচ্ছে। সবই রক্ষা, বন্ধুত্ব, মঙ্গল ইত্যাদির শুভকামনা থেকে। তবে, এসবই হিন্দু মতে এবং ঐশ্বরীক কৃপা লাভে মথিত কল্পিত।

পৌরাণীক কাহিনি:
#ভবিষ্যপুরাণ অনুযায়ী ইন্দ্রকে রাখী পরিয়েছেন তাঁর বউ ইন্দ্রাণী। #বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে যশোদা রাখী পরিয়েছেন সন্তান কৃষ্ণকে। সঙ্গে ঈশ্বরের কৃপালাভের মন্ত্র পড়েছিলেন। #মহাভারত অনুযায়ী কুন্তী #রাখী পরিয়েছেন তাঁর নাতি অভিমন্যুকে। কৃষ্ণকে #রাখী পরিয়েছেন দ্রৌপদী। #ভাগবতপুরাণ ও #বিষ্ণুপুরাণ অনুযায়ী লক্ষ্মী #রাখী পরিয়ে রাজা বালীকে আপন ভাই বানিয়েছিলেন। যমকে #রাখী পরিয়েছেন তাঁর বোন যমুনা। গণেশের ছেলে লাভ ও শুভ #রাখী পরিয়েছেন সহদোরা সন্তোষীকে। সন্তোষীকে সৃষ্টি করা হয়েছিল শুভ ও লাভের #রাখী পরার অভাববোধ থেকে।

ঐতিহাসিক ক্ষেত্রে দেখছি #রখীবন্ধন ছিল অনাক্রমণচুক্তি ও রক্ষার প্রতিশ্রুতি এবং রক্ষা পাওয়ার কামনা, শুভেচ্ছা।
অখণ্ড পঞ্জাব অঞ্চলে যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে যোদ্ধা-বরের হাতে #রাখী বেঁধে দিতেন তাঁদেরই বউরা।
গ্রিক সম্রাট আলেক্সজান্দ্রার দ্বিতীয় বউ রোক্সানা #রাখী বেঁধে দিয়েছিলেন সম্রাট পুরুর হাতে। যাতে যুদ্ধে পুরু আলেক্সজান্দ্রার দৈহিক ক্ষতি না করে।
চিতোরের রাণী কর্ণবতী #রাখী উপহার দিয়েছিলেন সম্রাট হুমায়ুনকে।
মহারাজা রণজিত্‍সিং থেকে শুরু করে রাজারাজড়া রাণীরা অপর রাজা ও রাণীদের #রাখী উপহার দিতেন বন্ধুত্ব করতে। এটা ছিল অনাক্রমণের ইঙ্গিতময় চুক্তি।
#রাষ্ট্রীয়_স্বয়ংসেবক_সংঘ (RSS) #রাখীবন্ধন উত্‍যবটা পালন করে #রবীন্দ্রনাথ_ঠাকুরের দেখানো পথে। অর্থাত্‍ সর্বজনকে রাখী পরিয়ে।
***[বিস্তারিত ইতিহাস এবং উত্‍স স্থানাভাবে লেখা গেলো না। এটি পাবেন #কলমের_দুনিয়া পত্রিকাতে।]

তবু, এখনও #রাখীবন্ধন সীমাবদ্ধ ভাই বোনের সম্পর্কের মধ্যে। এই সঙ্কীর্ণতাকে ছাড়িয়ে আবালবৃদ্ধবনিতা #রাখী পরিয়ে দিক পরস্পরকে। বাঙালি হয়ে উঠুক অখণ্ড; হয়ে উঠুক পরস্পরের বন্ধু সহযোগী সহমর্মী সহযোদ্ধা অনুপ্রাণীতকারী।

সকল বাঙালিকে আমি উপহার দিলাম #রাখী। এবং আন্তরিক শুভকামনা করছি। (এভাবে জানানোতে মার্জনা চাইছি। সাক্ষাত্‍ হলে পরয়ে দিতাম।) অখণ্ড বাঙালিকে বন্ধুত্বের শুভেচ্ছা। প্রত্যেকে বন্ধুত্ব সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতা অখণ্ডতায় গড়ে উঠুক। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক এই বার্তা। বাঙালির অখণ্ড সাম্যের সমাজ গড়তে ও রক্ষায় নিবেদিত রইলাম।
শুভেচ্ছান্তে---
#শমীন্দ্রঘোষ
১৮/০৮/১৬
#রাখীবন্ধন
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:১৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা আসলে কত দিনের?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

একটি ১২ ঘণ্টার প্যারোল, একটি শেষ বিদায় এবং ক্ষমতার অনিত্যতার নির্মম শিক্ষা

“পুলিশ ভাই, আমাকে তো এখনই নিয়ে যাবেন, আমি দুই মিনিট ফ্যামিলির সঙ্গে কথা বলি?”

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×