somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শমীন্দ্র ঘোষ
পেশায় সাংবাদিক, লেখক, স্থির চিত্রগ্রাহক। কবি, গবেষক, গ্রন্থকার, আবৃত্তিকার, যুক্তিবাদী মানবতাবাদী আন্দোলন কর্মী। সাধারণ সম্পাদক, ভারতীয় বঙ্গসমাজ। ধর্মহীন সাম্যের সমাজের স্বপ্ন দেখি ও দেখাই।

সাফ কথা

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাফ কথা

শমীন্দ্রঘোষ

সূর্যসেনের ফাঁসি তথা মৃত্যুদিন পালন করা ভুলে গেছে বাঙালি। ১২/০১/১৯৩৩-এ সূর্যসেনকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তাঁর মৃতদেহ তাঁর স্বজনকে হস্তান্তর করা হয়নি। মৃতদেহটি একটা জাহাজে চড়িয়ে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের সংযোগে এক জায়গায় লোহা বেঁধে ফেলে দেয় ব্রিটিশ পুলিশ। এরপরে তাঁর মৃত্যুদিন স্মরণও যেন সাগরের জলে ডুবে গেছে।
বাঙালি যতটা না বিপ্লবী দৃঢ়তা অর্জন করতে চায়, তার চেয়ে বেশি ভক্তিতে আবেগে হুজুকে ভাসতে চায়। ভাবাবেগের জন্যও আজ সহস্র টুকরো হয়েছে; গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে রয়েছে। ফলে, ভীরুতা, কাপুরুষতা, পরপদলেহী ভাবনা, চাটুকারিতা, আত্মমর্যাদা-বোধহীনতা গ্রাস করেছে বাঙালিকে। নিজের পরিচয় খুঁজতে পরের দোরে ভিক্ষা করে আজকের বাঙালি।
অতীতেও এমন অনেক নিদর্শন আছে। বাঙালির ইতিহাস জানায় ব্রিটিশরা; ব্যাকরণ লিখে দেয় ব্রিটিশরা; নৃতাত্ত্বিক পরিচয় খুঁজে দেয় ব্রিটিশরা; গাছগাছড়ার চিকিত্‍সা জানায় ও ওষুধ বানায় ইউরোপ আমেরিকা। এর ধারাবাহিকতা আজও আছে। ইউরোপ আমেরিকায় সম্বর্ধিত হলেই বঙ্গে কল্কে পায় বাঙালিমেধা। "পথের পাঁচালী" বঙ্গে কল্কে পেল বিদেশী পুরস্কারের দৌলতে। রবিঠাকুরকে বেশি করে শ্রদ্ধা করলো নোবেল পাওয়ার জন্য। এখন রবিঠাকুরকে শিবঠাকুরের মতো পুজো করা চলছে হুজুকে ভক্তিরসে সিক্ত বাঙালিদের দ্বারা। এমন উদাহরণ সহস্র। এটাই একটা জাতির মানসিক গঠন, রূপ বুঝিয়ে দেয়। আত্মবিশ্বাসহীনতা, মর্যাদাহীনতা, দম্ভ, অহংকার, লোভ ভয় ভক্তি আবেগ হুজুক আত্মঘাতি ভাবনা কর্ম ইত্যাদি নেতিবাচক, ক্ষতিকারক মানসিকতা গ্রাস করে চলেছে বাঙালিকে। ফল স্বরূপ "অল্পবিদ্যা ভয়ংকর" ভাব, "সবজান্তা মূর্খমী", "ভণ্ডামী", উচ্ছৃঙ্খলতা, বিশৃঙ্খল, পণ্ডিতাভিমন্যতা উত্‍কট চিন্তা কর্ম বাক্য, বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার ইত্যাদি দেখা যাচ্ছে। জানার যতটা না ইচ্ছে, জ্ঞান দেওয়ার ইচ্ছে বেশি। যতটা না পড়ে, বকে তার চেয়ে বেশি। যতটা না সহনশীল আত্মসমালোচনা করে, তার চেয়ে বেশি পরছিদ্রান্বেষী,পণ্ডিতমন্য। যদিওবা কিছু জানাতে চায় বা জানায়, তাও আধখেচড়া, আবলতাবোল ভুলভাল কাল্পনিক কথা। শিক্ষার সুযোগ পেয়ে পড়েশুনে এমন আপদের কর্মে চিন্তায় এক শ্রেণির বাঙালিই এই বিশ্বে #একমেবদ্বিতীয়ম।
এদের দ্বারা সমাজের কিছু অংশ প্রভাবিত হয়ই। ফল, দরকচা সমাজ। কিছু একটা বলতে গেলেই না জেনে বিদ্যা ফলানোটা পেয়ে বসে; বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করাটা বাকস্বাধীনতা মনে করে। স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ভোগ করতেও জানে না। কেননা, ওসবের প্রকৃত সংজ্ঞা ও ব্যবহার জানে না; তত্‍সহ নিজের বোধ বুদ্ধি শিক্ষাদীক্ষা সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি অর্থাত্‍ নিজেকে জানে না। নচেত্‍ এক ধান্দাবাজ ভোট ভিখারি কোন সাহসে একটা স্বাধীন দেশকে দখলের হুমকি দিতে পারে? এই একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে কেন এখনও হিন্দু-মুসলিম নিয়ে বিভেদ বিসংবাদ করে বাঙালি? প্রায় দুই/তিনশো বছর ধরে এই একই বিভেদগান গেয়ে চলেছে বাঙালি! বিশ্বাসঘাতকতা লোভ ভয় সবজান্তা মূর্খামী অহং-দম্ভের ফসলে টুকরো টুকরো হতে হতে গুঁড়ো গুঁড়ো হলো বীর সম্বৃদ্ধ জাতির বাঙালি গত প্রায় দুই-আড়াই হাজার বছরে। এখন ধূলিসম!
একসময়ে এই ধর্মের গান গেয়ে ভাগ হলো। এরপরে উদ্বাস্তু হিন্দু ধরে বামেরা ৩৪/৪৪ বছর খেয়ে গেছে। এখন রামেরা নেমেছে সেই একই পথে। এসব হচ্ছেটা কী? কোন সভ্যতা এটা? জাতিগত আত্মপরিচয়ের অভাব, ইতিহাস না জানাতেই এসব বিশৃঙ্খলায় আবেগে হুজুকে অন্ধ রয়েছে বিশালাংশের বাঙালি। টপাটপ গুজব খায়। এখানে দরকার, "ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচা...আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা"--- এই ঘা-টা বা আঘাতটা জরুরি। তাইতে আবেগে, বিশ্বাসে আঘাত লাগবে; লাগুক। এই আঘাতে মরুক কিছু, ভাঙুক পুরাতন সমাজ। না ভাঙলে নতুন গড়া যায় না। ভাঙতে ভাঙতেই গড়তে হবে নতুন #বঙ্গসমাজ।
গড্ডালিকা স্রোতে ভেসে আন্দোলন গণজাগরণ এবং তার ফলশ্রুতিতে সুন্দর সমাজগঠন করা যায় না। এই এখন বিবেকানন্দ নিয়ে পড়েছে একশ্রেণি। অথচ, বিবেকানন্দ সমাজসংস্কারক নন। তিনি ধর্মসংস্কারক। এটা তাঁর নিজেরই কথা। কতজন জানেন? কেন জানেন না? এই নিয়ে বলতে গেলেই বিতর্ক, মনোমালিন্য হয়, হয়েছে। তাই বলি, হয় আমি বিবেকানন্দ সম্পর্কে কিচ্ছু জানি না; নচেত্‍ তাঁর সম্পর্কে সবকিছু জানি। এরসঙ্গে এটাও জানতে পারছি, যাঁরা বিবেকানন্দের ভজনা করেন, তাঁরা বিবেকানন্দকে সম্যক জানেন না, অথবা জেনে ইচ্ছাকৃত হুজুক তৈরি করছেন; অথবা, তাঁরা হুজুকে মাতেন কিছু ভালো ভালো কথা শুনে এবং কতিপয় রাম শ্যাম যদু মধুর বিবেকভজনা লেখা পড়ে। এই নিয়ে বহু লিখেছি। একসময়ে তথ্য প্রমাণ এবং বিবেকানন্দর বাণী উল্লেখ করে, বইয়ের নাম পাতাসংখ্যা চিহ্নিত করে এই ফেসবুকে লিখেছি। প্রতিদিনই শত শত ফোন পেয়েছি গভীর রাত পর্যন্ত; সেসব প্রশংসা, হুমকি, গালমন্দে ভরা। আমার বিরুদ্ধে মামলা করারও হুমকি দিয়েছিলেন সোদপুর নিবাসী কলকাতা উচ্চ আদালতের এক নামী উকিল বা ব্যারিস্টার। সেই মামলার নোটিশ গত পাঁচ বছরেও পাইনি। এই প্রোফাইলে এবং পেজ-এ বিবেকানন্দ নিয়ে বহুকিছু সত্য লিখিত আছে। ভক্তি, হুজুক বাদ দিয়ে জানার ইচ্ছে থাকলে যেকেউ দেখতে পারেন। খোঁজার সুবিধে ফোটো অ্যালবামের মাধ্যমে। তথ্য নিয়ে বিতর্ক করা যায় না। তাই বিতর্ক এবং তদ্ভূত মনোমালিন্য এড়াতে বিবেক নিয়ে এর বেশি কিছু বলার নাই।
আপনারা যাঁরা বিবেকভজনা করছেন, বুঝব যে, আপনি অন্ধ। অন্ধ থাকলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে!
তাই বিবেকানন্দ বাদ। তার অনুগামী ভক্তগণ বাদ। তাইতে ২/১কোটি বাদ যাবে, যাক। বরং সূর্যসেনকে স্মরণ করুন। বাংলা হলো বিপ্লব বিদ্রোহের জন্মভূমি ধাত্রীভূমি। বিপ্লবী দৃঢ়তায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায়, যুক্তিবাদী পথে গড়ে উঠুক নতুন বাঙালি। আঘাত দিয়েই অন্ধকে জাগাও। না জাগলে তাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করো।
#শমীন্দ্রঘোষ
১২/০১/১৭
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:১০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিস্কভারি অব ইন্ডিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৪



১৯৪৭ সালটা সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দেশবিভাগের বছর শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময়ে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×