somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শিশির খান ১৪
সময় পাইলে ব্লগ লেখাটা এখন নেশায় পরিণত হয়েছে। ব্যাস্ততার ফাকে যারা আমার ব্লগ দেখেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের অনুপ্রেরণা থাকলে নিশ্চই সামনের দিন গুলোতে লেখা চালিয়ে যাবো।

বাংলা নববর্ষের আনন্দ উদযাপন মানে কি ট্রাকের পিছে খালি গায়ে উচ্চ শব্দে হিন্দি গান বাজিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরা ?

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৩:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


উৎসব গুলো যখন আসে তখন বুঝা যায় আসলেই বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হইসে তা না হইলে নববর্ষে মানুষ এই ভাবে দুই হাতে পয়সা খরচ করে কি ভাবে ?দশ বছর আগেও তো মানুষ এই ভাবে নববর্ষের অনুষ্ঠান করতো না এখন যতো সময় যাচ্ছে অবস্থা ততো ভয়াবহ হচ্ছে। ফ্যাশন হাউস গুলাতে ঢুকলে কোনো কাপড় খুইজা পাওয়া যায় না সব নাকি কিনা শেষ কইরা ফালায় পাবলিক।সারা বছর ফ্যাশন হাউস বা বুটিক এর দোকান গুলো যা কাপড় বিক্রি করে বৈশাখ উপলক্ষে তার ২৫ থেকে ৩০ ভাগ বিক্রি হয়। শুধু শাড়ি বা কাপড় না এর সঙ্গে চুড়ি, মালা, দুল, মাটির তৈরি পণ্য, কুটিরশিল্পসহ নানা পণ্য বিক্রির টার্গেটও ছাড়িয়ে যায়। পন্থা ইলিশ নিয়া তো এই বারেও কম নাটক হইলো না চার টা মাঝারি সাইজের ইলিশ নাকি ২৪,০০০ টাকা এই টাকা দিয়া তো আস্ত একটা গরু কিনা আনা যায় এমনও শুনলাম পয়সায় কুলায় না দেইখা অনেকে নাকি ইলিশ কিনার জন্য মাওয়া ঘাট পর্যন্ত গেছে। যদিও শেষের দিকে ইলিশ মাছ বিক্রেতারা ভালই ধরা খাইসে।বিভিন্ন হোটেল আর রেস্টুরেন্ট দেখলাম ২ বা ৩ টা ভর্তার সাথে ইলিশ মাছ দিয়া ভালই ব্যবসা করছে ৩০০ টাকা থেকা শুরু কইরা ৩০০০ টাকা দিয়া এই খাবার বিক্রি করছে। এমনকি ৫ তারকা হোটেল গুলো পর্যন্ত বাদ যায় নি।ফুল ব্যবসায়ী মালিক সমিতি এই সময়ে কোটি টাকার ফুল বিক্রির টাগেট নিয়া নামে এমন কি এইবার নাকি শুনলাম গামসাও বিক্রি হইসে কয়েক কোটি টাকার উপরে।সরকার এই বছর প্রথম ২১ লাখ সরকারি কর্মচারী দের জন্য 'বাংলা নববর্ষ ভাতা' হিসাবে ৫৪০ কোটি টাকা খরচ করলো। এটা থেকা স্পষ্ট বুঝা যাইতাছে সামনের বছর গুলোতে নববর্ষের অনুষ্ঠান হয়তো আরো বৃহত আকার ধারণ করবে কিন্তু দুঃখের বিষয় আসল নববর্ষের অনুষ্ঠান যেই উদ্দেশ্য নিয়া শুরু হইসিলো তার সাথে হয়তো এর আর কোনো মিলই থাকবে না।বাংলা বছর গণনা শুরু হয় মূলত বাদশাহ আকবরের সময় থেকে তখন কৃষকরা চাদ তারা ও সূর্যের অবস্থান দেখে সময় আন্দাজ করতো আর বাদশারা সময়ের হিসাব রাখতেন আরবী সন হিসাবে যার ফলে কর আদায়ে সমস্যা হচ্ছিলো তাই সেই সমস্যা সমাধানের জন্য বাদশা আকবর বাংলা সনের প্রচলন শুরু করেন।পরবর্তি সময়ে পুরান ঢাকার দোকান গুলা এই রেওয়াজ ধরে রাখার চেষ্ঠা করে তারা বাংলা বছরের প্রথম দিন নতুন হাল খাতা খুলতো এমনকি যাদের কাছ থেকা টাকা পাওনা থাকতো তারাও এই দিন টাকা শোধ করতে দোকান গুলোতে আসতো।সবাইকে মিষ্টি খৈ লাড্ডু সন্দেশ দিয়া আপ্পায়ন করানো হতো স্বাভাবিক ভাবেই একটা উৎসব আমেজ থাকতো নববর্ষ কে কেন্দ্র করে।পরবর্তি সময়ে রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতের গানের অনুষ্ঠান ও চারুকলার মঙ্গল সভা যাত্রা একে আরো আকর্ষনীয় করে তুলে।যেহেতু হাল খাতার রং লাল আর সাদা তাই এর সাথে মিল রেখে কাপড় গুলো লাল সাদার মিশ্রনে তৈরী করা হতো।ফাল্গুনে হলুদ কাপড় ভালবাসা দিবসে লাল কাপড় বা ২১ শে ফেব্রুয়ারী তে সবাই শোকের প্রকাশ করতে কালো কাপড় পরে ঠিক ওই রকম লাল সাদা ছারা নববর্ষের কাপড় কল্পনা করা যেতো না এখন তো দেখি সব কিছুই উল্টা পাল্টা ৪০ ডিগ্রী গরমেও নববর্ষের দিন মানুষ কালো কাপড় পইরা ঘুরে সব চে বেশি দুঃখ লাগে যখন দেখি বাংলা নববর্ষের দিন ট্রাক এর পিছে খালি গায়ে লাফাইতে লাফাইতে স্পিকার দিয়া উচ্চ সুরে হিন্দি গান বাজায়া ঘুইরা বেড়ায় তখন নিজের কাছে মনে হয় লজ্জায় মাটির তলায় ঢুইকা যাই। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো এক সময় নিজেদের সংস্কৃতি বইলা আর হয়তো কিছুই থাকবে না।


সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?
============================================
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Movie-Obsession(2026)

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বিশিদবার রাতে খুব বাজে আর একটা ছিনেমা দেখলাম। ভাই-রে ভাই কি বলবো, ঐ রাতে আর ঘুমাতে পারি নাই। মানে দেখার পর থেকে এখনো গা শিরশির করছে। চোখ বন্ধ করলেও চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×