শিক্ষা এবং বাঙালীর শিক্ষার আলোচনায় মান বিচারের প্রশ্ন উঠে আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর শতবর্ষ হয়ে যাওয়ার পরও তার মান একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কি না সে প্রশ্নও উঠে আসার সময় হয়েছে। বৃটিশ কাঠামো এবং পোস্ট কলোনিয়ান বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য এবং আধিপত্যকার কারণও লুকিয়ে আছে। ধরা নেয়া যাক, বাঙালী জাতির মৌলিক এবং আধ্যাত্মিক চর্চার সাথে জড়িত ব্যাক্তি কারা, খুজে নেয়ার জন্য একটি পরীক্ষা চালানো যাক। শিল্প এবং সংস্কৃতিকে মানদন্ড হিসাবে রাখলে, লালন সংগীত সমাজের কোন শ্রেণীর মানুষ বেশি শুনেন? ক) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খ) শ্রমজীবি মানুষ বা রিকশা চালক।
আমার লেখাটি যদি ইংরেজি অথবা ডার্স ভাষা হতো তবে ক উত্তর হতে পারতো কিন্তু মৌলিক চর্চাহীন শিক্ষায় আমরা জানি উত্তর হবে খ। এর পেছনে যুক্তি হিসাবে প্রথমেই লালন সংগীতকে গীত এ নামানো হবে এবং গীত এবং সংগীতের আলাদা মানদন্ড দিয়ে নিজের জ্ঞানশুন্যতাকে পূর্ণ প্রকাশ করে আরাম অনুভব করবে। গত ত্রিশ বছরের বাংলা কবিতা এবং কবি যে ধারায় ইউরোপীয় ধারার বুদ্ধিজীবিদের বিকট নাম মুখস্ত করেছে, সেখানে জাতিগতভাবে মৌলিকত্বে সন্ধান বিলুপ্ত হয়ে যায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রয়োজনীয়তা এবং মান নিয়ে প্রশ্ন অতি প্রয়োজনীয়।
আবারো ধরে নেয়া যাক, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উপযুক্ত মানের শিক্ষা দিচ্ছে এবং অতিরিক্ত ইউরোপীয় এবং বৃটিশ মান ধরে রাখার জন্য বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় লিমিটেড কোম্পানীগুলো ভাল ব্যবসাও করছে। কিন্তুু প্রশ্ন এই মানের শিক্ষিত জনশক্তি কোন কাজের উপযুক্ত মানদন্ডে মান সম্পূর্ণ হচ্ছে। ক) যারা ইউরোপ আমেরিকা যাচ্ছে, সমাজ এবং তারা নিজেরাও বিশবিদ্যালয়ের শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য ধরে নিচ্ছে।খ) সরকারী এবং কর্পোরেট এর দপ্তরিক কাজ করছে। যার বাজার দর আছে। দক্ষতার অন্য মাধ্যমগুলো নিয়ে আলোচনা করাটা লজ্জার। মোটা উদাহরণে চিকিৎসক এবং ইঞ্জিনিয়ার তৈরি উদাহরণ পাওয়া যায়, ভারতের চিকিৎসারত বাংলাদেশীর অর্থ বিয়োগের তালিকা থেকে এবং গত পঞ্চাশ বছরের ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বাড়িগুলোর গঠন দেখলে।
অর্থনীতির একটি উদাহরণ দিয়ে মোটা দাগের উদাহরণ শেষ করবো। বর্তমান সংসারের আয়ের প্রধান মাধ্যম বিদেশ যাওয়া স্কুল পালানো সেই ছেলেরা, যারা কি এক অজানা কারণে সারাজীবন বিদেশ শ্রম দিয়ে সমগ্র অর্থ দেশে পাঠিয়ে মারা যাচ্ছে। হয়তো তার লাশও দেশে আসে না। আর দ্বিতীয় আয় দেশীয় শ্রমিক এর সম্মোনয় নেতা বা মালিকদের ভাষায় গার্মেস্টস । সেখানেও স্কুল শিক্ষা বঞ্চিত দক্ষ জনশক্তি
কাজ করছে।
আমার বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা বন্ধু ,আবেগের সময় তার পুরাতন প্রেমের স্মৃতি স্মরণ করে নিজের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য ভারতীয় সিনেমার নায়ক শাহরুখ খান থেকে ভালোবাসা শিখবার কথা স্বীকার করলো। তার এই সরল স্বীকার নিষ্পাপতা তবে এখানে ভাবনার বিষয় রয়ে গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় পাশ সফল আমার বন্ধুর মতো দশকের পর দশক ধরে সিনেমা দেখে ভালোবাসা অনুুভব এবং শিক্ষা নেয়া সমাজ। যেখানে সিনেমায় তার চরিত্র হয় সমাজের আর্দশ, সেখানে মৌলিক চরিত্রের সন্ধান থাকে না।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা এবং শিক্ষার গঠন কাঠামো মূলত বাংলা এবং ইংরেজি জানা কেরানী তৈরি ছাড়া মৌলিক কোন কাজে অংশ রাখছে না।সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয়তা এবং বিজ্ঞাপণ নিয়ে আরো একবার ভাবনার প্রয়োজন রয়ে যায় প্রত্যেকেরই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




