somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কতটা ভালো আপনার ভালোবাসা?

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অফিসের ঐ উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে ফাগুনতো ঠিকই আছে তবে ঐ ফাগুনের আগুনটা থাকে অধস্তন কর্তাদের কাছে।

- স্যার ইয়ে মামানে.... একটু আগে বের হতে চাচ্ছিলাম
- হুম... কি? .... শুধু ভালবাসা দিয়ে কি আর পেট চলবে? টাকাটাও তো কামাই করতে হবে নাকি, দেখেন যেটা important মনে হয় তাই করেন।

ব্যাস ভালোবাসার রফা দফা সাড়া। ভালোবাসা দিবসের সমস্ত আয়োজন যেন যুবাদের নিয়ে। যেন যুবাদের ছাড়া আর কারো ভালোবাসার অধিকার ই নেই। পড়ন্ত বিকেলে বসন্তের মৃদু বাতাস গায়ে মেখে কোথাও বসে দুজন হাত ধরে চোখে চোখ রেখে কথা বলা, নয়তো রিকশা করে অজানা গন্তব্যে দুজনের ছুটে চলা। তোমায় ভালোবাসি বলে মনের সমস্ত অনুভুতির আদরে প্রিয়জনকে সিক্ত করা। ভালোবাসাটাকে নতুন করে আবার বাড়িয়ে তোলা; এইসব কখনই একজন অধস্তনের নসিবে লেখা থাকে না। তাইতো সারাদিন হাজারো ইচ্ছাকে মনের মাঝে ধামাচাপা দিয়ে, দিন শেষে মনের মানুষটাকে দেখার উতকন্ঠায় অস্থির মন ক্লান্তিতে ভরা শরীর ও ঘুমে কাতর চোখকে উপেক্ষা করে শুধু মাত্র প্রিয় মানুষটির মুখে একটু হাসি ফোটাতে হয় একটি গোলাপ নয়তো একটি ফুলের তোরা সাজিয়ে নিয়ে যায় ভালোবাসার শুভেচ্ছা জানাতে। ভালোবাসায় একটা ছন্দ আছে, একটা রুপ আছে কিন্তু আফসোস এখনকার যুবাদের ভালোবাসায় অনেক গন্ধ আছে। ভালোবাসা একটা গাছের ন্যায়; কিভাবে? গাছ ধীরে ধীরে বড় হয় তার পর ফল হয় এবং সেটাও আস্তে আস্তে পাকে। লক্ষ্য করবেন কিছু গাছের ফল খুব আগে পেকে খুব তাড়াতাড়ি ঝড়ে পড়ে যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো অনুসারে ২০১৬ থেকে ২০১৭ এ তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের পরিমান দ্বিগুনেরও বেশি। ব্যাপারটা হচ্ছে অনেকটা এমন যে, আপনি বাড়ি বানালেন BSRM রড দিয়ে, শাহ্‌ সিমেন্ট দিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে কিন্তু বাড়ির গোড়া (Base) শক্ত না হবার কারনে ছোট ভুমিকম্পে বাড়ি ধসে গেল। কেন বাড়ির সাথে তুলনা করলাম? এখনকার ভালোবাসার সমস্যা গোড়ায় যা আমরা প্রথমে তেমন পাত্তাই দেই না। কিন্তু এই অবহেলা জীবনে একটা তেতো অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। খুব ভালো প্রেম ছিল, ছেলে এবং মেয়ে দুজনই একে অন্যের জন্য "made for each other" ছিল, তবে কেন এমন হল? কারন তাদের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতার চেয়ে ব্যাপ্তিটাই বেশি ছিল। দুনিয়া fast হচ্ছে মেনে নিলাম, কিন্তু জনাব সব কিছু fast ভালো নয় এটাও জানা উচিত। আমাদের বাবা-মা বা আগের প্রজন্মের সম্পর্ক কেন এতদিন টিকে ছিল? কেন তারা বৃদ্ধ বয়সেও একে অন্যের জন্য এতটা সময় পরও যত্নশীল এবং দায়িত্ববান? অবশ্যই এটা সত্য যে "প্রথমে গুন বিচারি পরে দর্শনদারি"। আগেই ভালোবাসাকে গাছ, ফল এবং বড়ির সাথে তুলনা করেছিলাম তার কারন এখন বলছি, ভালোবাসার শুরু ভালোলাগা দিয়ে, সেই ভালোলাগাকে সময় দিতে হয়। দুজনের মনে সেটা একটা শক্ত জায়গা করে নিলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে তা ভালোবাসায় রুপ নেয়। আর সে ভালোবাসা হাজারো উত্থান পতন এবং বাধা উপেক্ষায় করে টিকে থাকে, কারন সেই শক্তি এই ভালোবাসার আছে। জ্ঞানের জন্য বলছি না লক্ষ্য করে দেখবেন, পরিচয়ের কিছুদিনের মাথায় শোনা যায় "ওরা একে অন্যের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে"। আর বেশি হাবুডুবু খেলে যা হয়, তারও কিছুদিন পর আবার শোনা যায় "তাদের breakup হয়ে গেছে"। এখনকার সম্পর্কে "শ্রদ্ধা" ব্যাপারটা একদমই নেই যা একটি সম্পর্ক বিচ্ছেদের প্রধান কারন। ভালো সবাই বাসতে পারে কিন্তু কতজন সম্মান দিতে জানে আর কতজনই বা সম্মান আদায় করে নিতে জানে? অস্থির মনোভাব, লোকদেখানো কর্মতৎপরতা, স্বার্থপরতা যখন কোন সম্পর্কে বিরাজকরে, যত হাজার কোটি ভালোবাসাই থাকুকনা কেন আপনাদের মাঝে তা কখনই বেশিদিন টিকবার নয়। দেখে ভালো লাগলো ব্যাস " i love you". আপনার মনে আপনার প্রিয়জনের প্রতি কটুকু জায়গা আছে? সেটা কতটা শক্ত করে আপনি বানিয়েছেন? কখনও পরখ করেছেন? "মোহ" আর "ভালোবাসা" এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য ই জানেন না অথচ ভালোবাসা দিবস পালনের জন্য প্রধান যোদ্ধার মত ক্ষেপে হয়ে আছেন। একে অন্যকে "impress" করার জন্য সব সময় কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন অথচ আপনি যদি "ভালোবাসা" কি সেটা জানতেন তবে বুঝতেন প্রিয় মানুষের চোখে নিরঙ্কুশ চোখ রাখাই প্রিয় মানুষ কত সুখি, তবে বুঝতেন কোন কারন এবং উপলক্ষ ছাড়া "তোমাকে ভালোবাসি" বললে সে কতটা আবেগ আপ্লুত, তবে বুঝতেন হাতে হাতে রেখে নিশ্চুপ থেকেও মনের কত ভাব প্রকাশ করা যায়। মানুষ একটা সময় পর তার প্রতিটা কাজের অনুশোচনা করে আর ভাবে "তখন এমনটা না করলেও পারতাম"। অন্যকে রুপের চাকচিক্যবিহীন ভাবে জানতে শিখুন, জানাতে শিখুন; কখনো অনুশোচনা করা লাগবে না। ছবির এই ভাইকে ও তার ভালোবাসার নিদর্শন স্বরুপ এই ফুলের তোড়া নির্ভর করে এত কিছু বলা, ভালোবাসাকে সম্মানবোধে এত কিছু বলা; কারো অনুভুতিকে কষ্ট দেবার জন্য নয়।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:১৬
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশের ভেতরে আরেক দেশ: জঙ্গল সলিমপুরের অন্ধকার বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১০ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

বাংলাদেশের ভেতরেই এমন কিছু এলাকা আছে, যেগুলোকে অনেকেই আড়ালে–আবডালে “দেশের ভেতরে আরেক দেশ” বলে উল্লেখ করেন। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর তারই একটি উদাহরণ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এই অঞ্চলটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপি কেন পারল না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:১৬


প্রশ্নটা শুনতে বেশ ভারী আর দার্শনিক ঠেকছে, তাই না? সোশ্যাল মিডিয়ার ইনটেলেকচুয়াল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গম্ভীর প্রফেসর , সবাই ইদানীং কপালে ভাঁজ ফেলে এই এক প্রশ্নই করছেন। নেপালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ইরান গাজা নয়" - অরুন্ধতী রয়, (মার্চ ৯, ২০২৬)

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৬


ছবিসূত্র

আমার কিছু বলার আছে - কারণ আমি আমার মায়ের মেয়ে, এবং বুক চিতিয়ে কাঁধ সোজা করে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলার গভীর প্রয়োজন এই মুহূর্তে আমি বোধ করছি। সমগ্র পৃথিবীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত আলী (রা.) প্রথম খলিফা হওয়ার যোগ্য ছিলেন না এবং তিনি মাওলার দায়িত্ব পালন করেননি

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি চান আপনার মৃত্যুর পরে সামুর ব্লগাররা আপনাকে স্মরণ করুক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:৫৯

আমাদের একজন ব্লগার মারা গিয়েছেন। কিন্তু, কেন যেন সামু'র প্রথম পৃষ্ঠায় শোকের কোন চিহ্ন দেখছি না! তাঁর সম্মানে কি অন্তৎঃ কিছু দিনের জন্যে সামুর ব্যানারে একটু পরিবর্তন আনা যেতো না?!... ...বাকিটুকু পড়ুন

×