
একদা এক মহিলা ছিল। সে একদিন তার ছেলেদের নিয়ে বাপের বাড়ীতে যাচ্ছে। কিছু দূর যাওয়ার পর গভীর বনের ভিতর দিয়ে রাস্তা। আর সেই বনে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, নেকড়ে, হায়েনা ইত্যাদি প্রাণীর বসবাস। যাওয়ার পথে বনের ভিতর এসে মহিলাটি তার ছেলেরাসহ একটা হরিণেরর সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করে আর ক্যাপসনে লোকেশন দিয়ে দেয়। ফেসবুকে মহিলার ছবি আর লোকেশন দেখে একটা ক্ষুধার্ত বাঘ হেলেদুলে তাদের দিকে এগিয়ে আসে।
মহিলাটি ভাবে, নিশ্চয় ফেসবুকে আমাদের ছবি আর লোকেশন দেখে বাঘটি এই গভীর বনের ভিতর আমাদের সন্ধান পেয়েছে। এ বাঘের হাত থেকে আর রেহাই নেই! নির্ঘাত এখন আমাদের ঘাড় মটকাবে আর রক্ত মাংস খাবে।
এমতাবস্থায় মহিলা মনে মনে সাহস সঞ্চয় করে। চিন্তা করে....
"নাঃ! বাঘের গায়ের জোর থাকতে পারে, কিন্তু আমি একবার বুদ্ধি দিয়ে লড়াই করে শেষ চেষ্টা করবো। কারণ, বাঘের থেকে পালিয়ে বাঁচা যাবে না।"
মহিলা মনে মনে স্থির করে কিভাবে তার বুদ্ধি প্রয়োগ করবে। হঠাৎ মহিলা ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে বাঘটাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে লাগে.......
- কাঁদিস না রে তোরা, কাঁদিস না। ঐ তো একটা বাঘ এসে গেছে। আজকের মত ওটাকেই খা। মনে হচ্ছে এ বনে আরও বাঘ আছে। কালকে আবার আরেকটা মেরে আনবো। বাঘের মাংস খাওয়ার বায়না করছিলি ক'দিন ধরে। এবার পেট ভরে বাঘের মাংস খেতে পারবি।
আর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়........
"ফিলিং ওসাম, এবার মা ছেলেরা মিলে বনের ভিতর বাঘের মাংস দিয়ে নাস্তা করবো। ভাবতে-ই জ্বিবে জল আসছে।"
এসব কথা শুনে আর ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে বাঘটার একেবারে পিলে চমকে যায়। মানুষ যে বাঘের মাংস খায় তা সে জানতো না। ভয় পেয়ে বাঘটা পেছন ফিরে দেয় ছুট। আর যেসব বাঘ অনলাইনে থাকে তারাও ভয়ে লগআউট করে আড়ালে লুকিয়ে পড়ে।
মহিলাটি তার ছেলেমেয়েদের গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কোলের কাছে টেনে নিয়ে বসে ভাবে " যাক্, এ যাত্রা তো বাঁচলাম।
ওদিকে বাঘটাকে ছুটতে দেখে এক শিয়াল অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে......
-কি হয়েছে বাঘ মামা, অত ছুটছো কেন? কি হয়েছে?
বাঘ উত্তর দেয়.....
- কি আর হবে ভাগ্নে। প্রাণের দায়ে ছুটছি।
শিয়ার আরো অবাক। বলে.....
- কি হয়েছে মামা, একটু খুলে বলো। তোমার কিসের ভয়?
বাঘ হাঁফ ছেড়ে একটু দম নিয়ে বলে.......
- ফেসবুকে দেখো নি? এক ডাইনি ছেলেপুলসহ বনের ভিতরে সেলফি তুলে পোষ্ট করেছে। সে বাঘ মেরে মেরে খায়! আবার বাঘ খাবে স্ট্যাটাসও দিয়েছে।
কথা শুনে শিয়াল হো হো করে হেসে ওঠে এবং বলে.....
- তোমার মাথা খারাপ হয়েছে মামা। একটা মহিলা মানুষকে তোমার এত ভয়। চল দেখছি আমি, ব্যাপারটা কি।
বাঘ জানে শিয়াল খুবই চালাক। তাই বলে.....
-বুঝেছি, আমাকে তার সামনে ছেড়ে দিয়ে কেটে পড়বে। খুব মজা হবে না? পরে ফিরে গিয়ে নিজেও বাঘের মাংসের একটু ভাগ পাবে; তাই না? আর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবে, বাঘের মাংস দিয়ে নাস্তা করলাম। আমি তোমাকে খুব ভালো মত চিনি।
শিয়াল বলে.....
-এতই যদি তোমার সন্দেহ, তবে এক কাজ করো, আমাকে তোমার গলার সাথে বেঁধে নাও। তাহলে তো আর পালাতে পারবো না?
বাঘ রাজি হয়ে যায়। খুশিতে শিয়ালের সাথে একটা সেলফি তুলে শিয়ালের আইডিতে ট্যাগসহ পোষ্ট করে।
এদিকে মহিলাটি ছেলে দু'টিকে নিয়ে একটা গাছের তলায় বসে ভাবে। সে আর এগোতে সাহস পায় না। এমন দেখে, বাঘটা ফিরে আসছে, গলায় একটা শিয়াল বাঁধা অবস্থায় ঝুলছে। মহিলা একটু ভয় পেয়ে যায় বটে কিন্তু তার মাথায় তৎক্ষণাৎ বুদ্ধি এসে হাজির হয়। চিৎকার করে বলে........
- ওরে পাজী শেয়াল! আয় তুই, মজা দেখাচ্ছি তোর! ছেলেমেয়েরা আমার বাঘের মাংস না হলে ভাত খেতে পারে না; কান্নাকাটি করছে, সেদিকে খেয়াল নেই? রোজ তিনটা করে বাঘ এনে দেবার কথা বলে আমার কাছে থেকে আইফোন নিয়েছিস। আর এখন একটা বাঘ আনা হচ্ছে তাই না? তাও সকাল দশটায় ফোন করে আনা হচ্ছে দুপুর তিনটায়।
মহিলাটির এসব কথা শুনে বাঘ মামা বুঝে নেয়, এটা শেয়ালের চালাকি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই সে পিছন ফিরে প্রাণপণে ছুটতে থাকে। শিয়াল "যত মরে গেলাম, মরে গেলাম" বলে চিৎকার করতে থাকে তত জোরে জোরে ছুটতে থাকে।
মহিলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে স্ট্যাটাস দেয়, "গায়ের জোরের চেয়ে সুক্ষ্মবুদ্ধির বেশি প্রয়োজন।"
★ঈশপের গল্প অবলম্বনে সোহাগ তানভীর সাকিব।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



