somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুদ্ধিই বল

১১ ই আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একদা এক মহিলা ছিল। সে একদিন তার ছেলেদের নিয়ে বাপের বাড়ীতে যাচ্ছে। কিছু দূর যাওয়ার পর গভীর বনের ভিতর দিয়ে রাস্তা। আর সেই বনে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, নেকড়ে, হায়েনা ইত্যাদি প্রাণীর বসবাস। যাওয়ার পথে বনের ভিতর এসে মহিলাটি তার ছেলেরাসহ একটা হরিণেরর সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করে আর ক্যাপসনে লোকেশন দিয়ে দেয়। ফেসবুকে মহিলার ছবি আর লোকেশন দেখে একটা ক্ষুধার্ত বাঘ হেলেদুলে তাদের দিকে এগিয়ে আসে।

মহিলাটি ভাবে, নিশ্চয় ফেসবুকে আমাদের ছবি আর লোকেশন দেখে বাঘটি এই গভীর বনের ভিতর আমাদের সন্ধান পেয়েছে। এ বাঘের হাত থেকে আর রেহাই নেই! নির্ঘাত এখন আমাদের ঘাড় মটকাবে আর রক্ত মাংস খাবে।

এমতাবস্থায় মহিলা মনে মনে সাহস সঞ্চয় করে। চিন্তা করে....
"নাঃ! বাঘের গায়ের জোর থাকতে পারে, কিন্তু আমি একবার বুদ্ধি দিয়ে লড়াই করে শেষ চেষ্টা করবো। কারণ, বাঘের থেকে পালিয়ে বাঁচা যাবে না।"

মহিলা মনে মনে স্থির করে কিভাবে তার বুদ্ধি প্রয়োগ করবে। হঠাৎ মহিলা ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে বাঘটাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে লাগে.......
- কাঁদিস না রে তোরা, কাঁদিস না। ঐ তো একটা বাঘ এসে গেছে। আজকের মত ওটাকেই খা। মনে হচ্ছে এ বনে আরও বাঘ আছে। কালকে আবার আরেকটা মেরে আনবো। বাঘের মাংস খাওয়ার বায়না করছিলি ক'দিন ধরে। এবার পেট ভরে বাঘের মাংস খেতে পারবি।
আর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়........
"ফিলিং ওসাম, এবার মা ছেলেরা মিলে বনের ভিতর বাঘের মাংস দিয়ে নাস্তা করবো। ভাবতে-ই জ্বিবে জল আসছে।"

এসব কথা শুনে আর ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে বাঘটার একেবারে পিলে চমকে যায়। মানুষ যে বাঘের মাংস খায় তা সে জানতো না। ভয় পেয়ে বাঘটা পেছন ফিরে দেয় ছুট। আর যেসব বাঘ অনলাইনে থাকে তারাও ভয়ে লগআউট করে আড়ালে লুকিয়ে পড়ে।

মহিলাটি তার ছেলেমেয়েদের গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কোলের কাছে টেনে নিয়ে বসে ভাবে " যাক্, এ যাত্রা তো বাঁচলাম।

ওদিকে বাঘটাকে ছুটতে দেখে এক শিয়াল অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে......
-কি হয়েছে বাঘ মামা, অত ছুটছো কেন? কি হয়েছে?
বাঘ উত্তর দেয়.....
- কি আর হবে ভাগ্নে। প্রাণের দায়ে ছুটছি।
শিয়ার আরো অবাক। বলে.....
- কি হয়েছে মামা, একটু খুলে বলো। তোমার কিসের ভয়?

বাঘ হাঁফ ছেড়ে একটু দম নিয়ে বলে.......
- ফেসবুকে দেখো নি? এক ডাইনি ছেলেপুলসহ বনের ভিতরে সেলফি তুলে পোষ্ট করেছে। সে বাঘ মেরে মেরে খায়! আবার বাঘ খাবে স্ট্যাটাসও দিয়েছে।
কথা শুনে শিয়াল হো হো করে হেসে ওঠে এবং বলে.....
- তোমার মাথা খারাপ হয়েছে মামা। একটা মহিলা মানুষকে তোমার এত ভয়। চল দেখছি আমি, ব্যাপারটা কি।

বাঘ জানে শিয়াল খুবই চালাক। তাই বলে.....
-বুঝেছি, আমাকে তার সামনে ছেড়ে দিয়ে কেটে পড়বে। খুব মজা হবে না? পরে ফিরে গিয়ে নিজেও বাঘের মাংসের একটু ভাগ পাবে; তাই না? আর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবে, বাঘের মাংস দিয়ে নাস্তা করলাম। আমি তোমাকে খুব ভালো মত চিনি।

শিয়াল বলে.....
-এতই যদি তোমার সন্দেহ, তবে এক কাজ করো, আমাকে তোমার গলার সাথে বেঁধে নাও। তাহলে তো আর পালাতে পারবো না?
বাঘ রাজি হয়ে যায়। খুশিতে শিয়ালের সাথে একটা সেলফি তুলে শিয়ালের আইডিতে ট্যাগসহ পোষ্ট করে।

এদিকে মহিলাটি ছেলে দু'টিকে নিয়ে একটা গাছের তলায় বসে ভাবে। সে আর এগোতে সাহস পায় না। এমন দেখে, বাঘটা ফিরে আসছে, গলায় একটা শিয়াল বাঁধা অবস্থায় ঝুলছে। মহিলা একটু ভয় পেয়ে যায় বটে কিন্তু তার মাথায় তৎক্ষণাৎ বুদ্ধি এসে হাজির হয়। চিৎকার করে বলে........
- ওরে পাজী শেয়াল! আয় তুই, মজা দেখাচ্ছি তোর! ছেলেমেয়েরা আমার বাঘের মাংস না হলে ভাত খেতে পারে না; কান্নাকাটি করছে, সেদিকে খেয়াল নেই? রোজ তিনটা করে বাঘ এনে দেবার কথা বলে আমার কাছে থেকে আইফোন নিয়েছিস। আর এখন একটা বাঘ আনা হচ্ছে তাই না? তাও সকাল দশটায় ফোন করে আনা হচ্ছে দুপুর তিনটায়।

মহিলাটির এসব কথা শুনে বাঘ মামা বুঝে নেয়, এটা শেয়ালের চালাকি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই সে পিছন ফিরে প্রাণপণে ছুটতে থাকে। শিয়াল "যত মরে গেলাম, মরে গেলাম" বলে চিৎকার করতে থাকে তত জোরে জোরে ছুটতে থাকে।

মহিলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে স্ট্যাটাস দেয়, "গায়ের জোরের চেয়ে সুক্ষ্মবুদ্ধির বেশি প্রয়োজন।"


★ঈশপের গল্প অবলম্বনে সোহাগ তানভীর সাকিব।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:৫২
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×