
- অফিস থেকে কখন এসেছো?
- সাড়ে ৯ টার দিকে।
- সাড়ে ৯ টার দিকে এসেছো আর এখন বাজে ১২ টা। ফেসবুকেও দেখলাম না; এতো সময় কি করলে? আর ফোন দাও নি কেন?
- কিছু-ই করলাম না। বসে ছিলাম।
- বসে ছিলে আর ফোন দাও নি?
- হুম।
- হুম, মানে কি!! আচ্ছা ঠিক আছে, ভালো কথা। ফোন রাখলাম আমি এখন ঘুমাবো।
- রাগ করছো কেন?
- আমি রাগ করছি না। রাগের কি আছে। তোমার সাথে কথা বলার জন্য সেই সন্ধ্যা থেকে ওয়েট করছি। ভাবছি, অফিস থেকে বাসায় গেলেই ফোন দিবে কিংবা নেটে এসে নক দিবে। তুমি দাও নি। ভালো কথা। কাল সকালে আমার প্রাইভেট আছে। ফোন রাখলাম।
- আচ্ছা।
কিছু সময় পর............................
- আবার কি হলো?
- কই?
- নক দিলে কেন?
- এমনি। দেখলাম, তুমি ঘুমাইছো কিনা।
- ওহ্।
- জানো, আমাকে নিয়ে একজন কবিতা লিখেছে। তোমাকে পড়ে শোনাচ্ছি দাঁড়াও। শুনবে?
- বলো।
- কবিতার নাম " নিশাচর"
সমস্ত দিনের শেষে পশ্চিম আকাশে ডুবে যায় রবি।
পাখিরা ফেরে নীড়ে কর্মক্লান্ত মানুষ ফেরে ঘরে
আঁধারে ঢেকে যায় সবি।
থেমে যায় কোলাহল জেগে উঠে কল্লোল
আর জেগে থাকি আমি।
এখন আমি অনেক রাত জেগে থাকতে পারি।
আমার এই নির্ঘুম রাত,
ফুলের সুভাষে বিমোহিত হতে নয়;
জোছনার অপরূপ সৌন্দর্য দেখার জন্যও নয়।
হৃদয়ে দিবে দোল সাগরের কল্লোল
আসবে সোনালী প্রভাত,
এজন্যও নয় নির্ঘুম রাত।
আমার নির্ঘুম রাত বা জেগে থাকা
শুধু পরাণ প্রেয়সী পপির জন্য।
রূপ লাবণ্যে অন্যন্য অপ্সরি পরী।
তার কারণেই জেগে থাকি তার তার কারণেই নিশাচরি।
ফেসবুকে যাই পপিকে খুঁজি।
এই এসেছে বা আসলো বুঝি!
আসে পপি হাসে পপি কথা কয় মিষ্টি করে।
শুনে মুগ্ধ হই অপলক চেয়ে রই হৃদয় যায় ভরে।
পপি,
তোমার নেশায় হয়েছি মাতাল
হয়েছি নিশাচর কাঙ্গাল
ডুবে গেছি গহীন অতল
খুঁজে পেয়েছি বাঁচার সম্বল
ভালোবেসে দিব পারি অনন্তকাল
ভাসিয়ে সুখের তরী।
এখন আমি অনেক রাত জেগে থাকতে পারি।
-এই কবিতা তুমি কোথায় পেলে?
- সিয়াম দেছে।
- ওহ্। আমি ত সিয়ামকে দিতে নিষেধ করেছিলাম। তাও দেছে!!
- তুমি ওকে মেসেঞ্জারে লিঙ্ক দেওয়ার সাথে সাথে ও আমাকে দেছে।
- তাই?
- হুম।
- তুমি যখন বললে না, আমাকে নিয়ে একজন কবিতা লিখেছে; তখন আমার বুকের ভেতর ছ্যাত করে উঠেছে।
- কেন, তুমি ভেবেছিলে অন্য কোন ছেলে হবে হয়তো; তাই না?
- হুম।
- তুমি একটা পাগল।
- কেন?
- অফিস থেকে এসে রেস্ট না নিয়ে কেউ কবিতা লেখে?।
- হুম লেখে।
- কে?
- কেন, আমি।
-উম্ম, তুমি যে পাগল।
- আজ কয়েকদিন ধরেই কবিতাটি মাথার ভেতর কিলবিল করতেছিল। এখন খাতায় উগ্রা দিলাম। তাছাড়া ঘুমাতে পারতাম না।
- অনেক, অনেক সুন্দর হয়েছে। আমার খুব ভালো লেগেছে।
- তাই?
- হুম।
- অমন শব্দ হয় কিসের?
- ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়ে মশা মারছি তো তাই শব্দ হচ্ছে।
- তুমি কোথায়?
- বারান্দায়।
- এতো রাতে এতো শীতের ভেতর বারান্দায় থাকতে হবে কেন?
- বুঝো-ই তো, ব্যাচেলর বাসায় থাকি। রুমে রুমটেদের সামনে তোমার সাথে কথা বলতে ইতস্তবোধ হয় তাই বারান্দায় এসে কথা বলি।
- তাই এই শীতে?
- সমস্যা নাই, কম্বল জড়িয়ে বসে আছি।
- তুমি একটা পাগল। সত্যি তুমি পাগল।
- তাই।
- তাই নয় তো কি। এই পাগলামির কোন মানে হয়?
- হ্যাঁ হয়।
- কী?
-এই পাগলামির অপর নাম-ই তো ভালোবাসা।
- তাই?
- হুম।
- লাগবে না আমার এমন ভালোবাসা। যাও রুমে যাও।
-এখনও একজন ঘুমায় নি। তাই রুমে টকিং করতে পারবো না কিন্তু চ্যাটিং করবো; ওউম?
- পারবো না।
- কেন?
- রাত কয়টা বাজে হিসাব আছে?
- না।
- তিনটা বাজে। ঘুমাবে না তুমি?
- না।
- সত্যি তুমি পাগল হয়ে গেছো। আর আমাকেও পাগল করে ছাড়বে।
- তুমি কি ছেলে? যে, পাগল হবে। তুমি তো হবে পাগলি।
- ভালো হচ্ছে না কিন্তু।
- হা...হা...হা..হাহা...হাহাহা।
মেয়েটি ছেলেটিকে পাগল বললেও মেয়েটিও কিন্তু পাগলী কম নয়। ওরা দু'জন একে অপরের জন্য পাগল।
সেই রাতে আর তাদের টকিং বা চ্যাটিং কিছুই হয় না। দু'জন-ই ঘুমিয়ে পারে। কারণ, সকাল হলেই একজনের অফিস আর আরেকজনের প্রাইভেট ও ভার্সিটিতে ক্লাস আছে।
-সোহাগ তানভীর সাকিব
মার্চ-২০১৯
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





