somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাগলামি-২

০৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


- অফিস থেকে কখন এসেছো?
- সাড়ে ৯ টার দিকে।
- সাড়ে ৯ টার দিকে এসেছো আর এখন বাজে ১২ টা। ফেসবুকেও দেখলাম না; এতো সময় কি করলে? আর ফোন দাও নি কেন?
- কিছু-ই করলাম না। বসে ছিলাম।
- বসে ছিলে আর ফোন দাও নি?
- হুম।
- হুম, মানে কি!! আচ্ছা ঠিক আছে, ভালো কথা। ফোন রাখলাম আমি এখন ঘুমাবো।
- রাগ করছো কেন?
- আমি রাগ করছি না। রাগের কি আছে। তোমার সাথে কথা বলার জন্য সেই সন্ধ্যা থেকে ওয়েট করছি। ভাবছি, অফিস থেকে বাসায় গেলেই ফোন দিবে কিংবা নেটে এসে নক দিবে। তুমি দাও নি। ভালো কথা। কাল সকালে আমার প্রাইভেট আছে। ফোন রাখলাম।
- আচ্ছা।

কিছু সময় পর............................
- আবার কি হলো?
- কই?
- নক দিলে কেন?
- এমনি। দেখলাম, তুমি ঘুমাইছো কিনা।
- ওহ্।
- জানো, আমাকে নিয়ে একজন কবিতা লিখেছে। তোমাকে পড়ে শোনাচ্ছি দাঁড়াও। শুনবে?
- বলো।
- কবিতার নাম " নিশাচর"
সমস্ত দিনের শেষে পশ্চিম আকাশে ডুবে যায় রবি।
পাখিরা ফেরে নীড়ে কর্মক্লান্ত মানুষ ফেরে ঘরে
আঁধারে ঢেকে যায় সবি।
থেমে যায় কোলাহল জেগে উঠে কল্লোল
আর জেগে থাকি আমি।
এখন আমি অনেক রাত জেগে থাকতে পারি।
আমার এই নির্ঘুম রাত,
ফুলের সুভাষে বিমোহিত হতে নয়;
জোছনার অপরূপ সৌন্দর্য দেখার জন্যও নয়।
হৃদয়ে দিবে দোল সাগরের কল্লোল
আসবে সোনালী প্রভাত,
এজন্যও নয় নির্ঘুম রাত।
আমার নির্ঘুম রাত বা জেগে থাকা
শুধু পরাণ প্রেয়সী পপির জন্য।
রূপ লাবণ্যে অন্যন্য অপ্সরি পরী।
তার কারণেই জেগে থাকি তার তার কারণেই নিশাচরি।
ফেসবুকে যাই পপিকে খুঁজি।
এই এসেছে বা আসলো বুঝি!
আসে পপি হাসে পপি কথা কয় মিষ্টি করে।
শুনে মুগ্ধ হই অপলক চেয়ে রই হৃদয় যায় ভরে।
পপি,
তোমার নেশায় হয়েছি মাতাল
হয়েছি নিশাচর কাঙ্গাল
ডুবে গেছি গহীন অতল
খুঁজে পেয়েছি বাঁচার সম্বল
ভালোবেসে দিব পারি অনন্তকাল
ভাসিয়ে সুখের তরী।
এখন আমি অনেক রাত জেগে থাকতে পারি।

-এই কবিতা তুমি কোথায় পেলে?
- সিয়াম দেছে।
- ওহ্। আমি ত সিয়ামকে দিতে নিষেধ করেছিলাম। তাও দেছে!!
- তুমি ওকে মেসেঞ্জারে লিঙ্ক দেওয়ার সাথে সাথে ও আমাকে দেছে।
- তাই?
- হুম।
- তুমি যখন বললে না, আমাকে নিয়ে একজন কবিতা লিখেছে; তখন আমার বুকের ভেতর ছ্যাত করে উঠেছে।
- কেন, তুমি ভেবেছিলে অন্য কোন ছেলে হবে হয়তো; তাই না?
- হুম।
- তুমি একটা পাগল।
- কেন?
- অফিস থেকে এসে রেস্ট না নিয়ে কেউ কবিতা লেখে?।
- হুম লেখে।
- কে?
- কেন, আমি।
-উম্ম, তুমি যে পাগল।
- আজ কয়েকদিন ধরেই কবিতাটি মাথার ভেতর কিলবিল করতেছিল। এখন খাতায় উগ্রা দিলাম। তাছাড়া ঘুমাতে পারতাম না।
- অনেক, অনেক সুন্দর হয়েছে। আমার খুব ভালো লেগেছে।
- তাই?
- হুম।

- অমন শব্দ হয় কিসের?
- ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়ে মশা মারছি তো তাই শব্দ হচ্ছে।
- তুমি কোথায়?
- বারান্দায়।
- এতো রাতে এতো শীতের ভেতর বারান্দায় থাকতে হবে কেন?
- বুঝো-ই তো, ব্যাচেলর বাসায় থাকি। রুমে রুমটেদের সামনে তোমার সাথে কথা বলতে ইতস্তবোধ হয় তাই বারান্দায় এসে কথা বলি।
- তাই এই শীতে?
- সমস্যা নাই, কম্বল জড়িয়ে বসে আছি।
- তুমি একটা পাগল। সত্যি তুমি পাগল।
- তাই।
- তাই নয় তো কি। এই পাগলামির কোন মানে হয়?
- হ্যাঁ হয়।
- কী?
-এই পাগলামির অপর নাম-ই তো ভালোবাসা।
- তাই?
- হুম।
- লাগবে না আমার এমন ভালোবাসা। যাও রুমে যাও।
-এখনও একজন ঘুমায় নি। তাই রুমে টকিং করতে পারবো না কিন্তু চ্যাটিং করবো; ওউম?
- পারবো না।
- কেন?
- রাত কয়টা বাজে হিসাব আছে?
- না।
- তিনটা বাজে। ঘুমাবে না তুমি?
- না।
- সত্যি তুমি পাগল হয়ে গেছো। আর আমাকেও পাগল করে ছাড়বে।
- তুমি কি ছেলে? যে, পাগল হবে। তুমি তো হবে পাগলি।
- ভালো হচ্ছে না কিন্তু।
- হা...হা...হা..হাহা...হাহাহা।

মেয়েটি ছেলেটিকে পাগল বললেও মেয়েটিও কিন্তু পাগলী কম নয়। ওরা দু'জন একে অপরের জন্য পাগল।

সেই রাতে আর তাদের টকিং বা চ্যাটিং কিছুই হয় না। দু'জন-ই ঘুমিয়ে পারে। কারণ, সকাল হলেই একজনের অফিস আর আরেকজনের প্রাইভেট ও ভার্সিটিতে ক্লাস আছে।



-সোহাগ তানভীর সাকিব
মার্চ-২০১৯
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১:৪৭
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×