somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফাউ টাকার গল্প

১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময় ২০১৪ সাল...

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার কাবাবে খাওয়াবে!

আমরা তো টাস্কি খেয়ে গেলাম। যে ছেলে টাকা বাঁচানোর জন্য প্রতিদিন গাজিপুর থেকে বনানী ট্রেইনে বিনা টিকেটে আসে আর টিটির ভয়ে পুরোটা সময় বাথরুমে বসে থাকে, সে হঠাৎ এমন হাতেম তাই হয়ে গেল ক্যামনে? বিস্তর জেরা করার পর আসল কাহিনি বেরিয়ে এল। আসার পথে রাস্তায় সে একটা ৫০০ টাকার নোট পেয়েছে। নোটটা নাকি একেবারে আঠার মতো ওর জুতোর তলায় সেঁটে ছিল। ও নাকি আবার নোটটা পকেটে ঢোকানোর আগে অত্যন্ত সততার সাথে তিনবার মনে মনে চিৎকার করে বলেছে, 'টাকাটা কার? টাকাটা কার? টাকাটা কার?' যেহেতু কেউ মনে মনে এসে দাবি করেনি, তাই ও ধরে নিয়েছে টাকাটা এখন ওর!

রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকায় স্টার কাবাবে কাচ্চি খাওয়াটা কেমন দেখায়, এই নিয়ে আমার আর শাওনের বিবেকে একটু খচখচানি শুরু হলো। শেতু তখন পরম সাধুর মতো অভয় দিল। ওর সাফ কথা, টাকা ও পেয়েছে, সুতরাং কাচ্চি খেয়ে গুনাহ হলে ওর একারই হবে, আমরা শুধু গিলব। বন্ধু মানুষ এত করে খাওয়াতে চাইছে, এরপর আর না করি করে! তবে ৫০০ টাকায় তো আর পাঁচজনের কাচ্চি খাওয়া সম্ভব না। তাই ঠিক হলো, বাকি যে টাকা লাগবে সেটা আমরা সবাই মিলে চাঁদা তুলে দিয়ে দেব।

সোজা চলে গেলাম স্টার কাবাবে। এলাহি খাওয়া দাওয়া শেষে ওয়েটারকে বিল দিতে বললাম। বিল এল ৭৯৯ টাকা, যার মধ্যে আবার ১০৪ টাকা ভ্যাট! স্টুডেন্টদের আবার কিসের ভ্যাট! এই নিয়ে ম্যানেজারের সাথে আমাদের একচোট তুমুল তর্ক হয়ে গেল। শেষমেশ তিনি ৫০ টাকা ছাড় দিলেন। আমরাও বেশ ভাব নিয়ে শেতুকে বললাম ওই জাদুকরী ৫০০ টাকা বের করতে। শেতুর ৫০০ আর আমাদের চাঁদা মিলে ৭৫০ টাকা ম্যানেজারের হাতে ধরিয়ে দিয়ে যেই না বীরদর্পে বেরিয়ে আসব, ঠিক তখনই ঘটল সেই মহাট্র্যাজেডি!

পেছন থেকে ম্যানেজার ডাক দিলেন। বললেন, স্যার এই ৫০০ টাকার নোট তো জাল! আমি বললাম, কী যে বলেন, ভালো করে দেখেন। ম্যানেজার বিরস মুখে নোটটা আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমরা সবাই মিলে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলাম, সত্যিই জাল নোট!

শেতুর দিকে তাকিয়ে দেখি ব্যাটার চেহারায় কোনো বিকার নেই। যেন ভিনগ্রহ থেকে সবেমাত্র পৃথিবীতে ল্যান্ড করেছে! আমার তখন তীব্র ইচ্ছে করছে ব্যাটাকে ওই কাচ্চির ডেচকিতেই ওরে ভরে রাখি। কিন্তু পরিস্থিতি তখন আর আমাদের হাতে নেই। কাচ্চি যখন পেটে গেছে, টাকা তো দিতেই হবে। এদিকে হয়েছে আরেক বিপদ। সেদিন আমাদের সবার পকেটের অবস্থা সাহারা মরুভূমির মতোন। অন্যদিন সবার পকেটে কিছু না কিছু থাকে, আর আজ সবার অবস্থা এক্কেবারে 'আল-খায়রাতুন'। শাওন আর শেতুর পকেট হাতড়ে সাকুল্যে বাসভাড়াটুকু জুটল। শেষমেশ আমি, তামিম আর মেহনাজ নিজেদের মানিব্যাগের চিপাচাপা হাতড়ে, সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে কোনোমতে ইজ্জত বাঁচিয়ে স্টার কাবাব থেকে বের হলাম।

ফেরার পথে পকেট শূন্য, মনটাও খারাপ। এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছি। মনে মনে একটাই প্রতিজ্ঞা করলাম, জীবনে আর কোনোদিন মাগনা জিনিসের নাম শুনেই লাফ দেব না। ফাউকিছুর নাম শুনলে এখন থেকে একশ হাত দূরে থাকব!

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার কাবাবে খাওয়াবে!

আমরা তো টাস্কি খেয়ে গেলাম। যে ছেলে টাকা বাঁচানোর জন্য প্রতিদিন গাজিপুর থেকে বনানী ট্রেইনে বিনা টিকেটে আসে আর টিটির ভয়ে পুরোটা সময় বাথরুমে বসে থাকে, সে হঠাৎ এমন হাতেম তাই হয়ে গেল ক্যামনে? বিস্তর জেরা করার পর আসল কাহিনি বেরিয়ে এল। আসার পথে রাস্তায় সে একটা ৫০০ টাকার নোট পেয়েছে। নোটটা নাকি একেবারে আঠার মতো ওর জুতোর তলায় সেঁটে ছিল। ও নাকি আবার নোটটা পকেটে ঢোকানোর আগে অত্যন্ত সততার সাথে তিনবার মনে মনে চিৎকার করে বলেছে, 'টাকাটা কার? টাকাটা কার? টাকাটা কার?' যেহেতু কেউ মনে মনে এসে দাবি করেনি, তাই ও ধরে নিয়েছে টাকাটা এখন ওর!

রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকায় স্টার কাবাবে কাচ্চি খাওয়াটা কেমন দেখায়, এই নিয়ে আমার আর শাওনের বিবেকে একটু খচখচানি শুরু হলো। শেতু তখন পরম সাধুর মতো অভয় দিল। ওর সাফ কথা, টাকা ও পেয়েছে, সুতরাং কাচ্চি খেয়ে গুনাহ হলে ওর একারই হবে, আমরা শুধু গিলব। বন্ধু মানুষ এত করে খাওয়াতে চাইছে, এরপর আর না করি করে! তবে ৫০০ টাকায় তো আর পাঁচজনের কাচ্চি খাওয়া সম্ভব না। তাই ঠিক হলো, বাকি যে টাকা লাগবে সেটা আমরা সবাই মিলে চাঁদা তুলে দিয়ে দেব।

সোজা চলে গেলাম স্টার কাবাবে। এলাহি খাওয়া দাওয়া শেষে ওয়েটারকে বিল দিতে বললাম। বিল এল ৭৯৯ টাকা, যার মধ্যে আবার ১০৪ টাকা ভ্যাট! স্টুডেন্টদের আবার কিসের ভ্যাট! এই নিয়ে ম্যানেজারের সাথে আমাদের একচোট তুমুল তর্ক হয়ে গেল। শেষমেশ তিনি ৫০ টাকা ছাড় দিলেন। আমরাও বেশ ভাব নিয়ে শেতুকে বললাম ওই জাদুকরী ৫০০ টাকা বের করতে। শেতুর ৫০০ আর আমাদের চাঁদা মিলে ৭৫০ টাকা ম্যানেজারের হাতে ধরিয়ে দিয়ে যেই না বীরদর্পে বেরিয়ে আসব, ঠিক তখনই ঘটল সেই মহাট্র্যাজেডি!

পেছন থেকে ম্যানেজার ডাক দিলেন। বললেন, স্যার এই ৫০০ টাকার নোট তো জাল! আমি বললাম, কী যে বলেন, ভালো করে দেখেন। ম্যানেজার বিরস মুখে নোটটা আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমরা সবাই মিলে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলাম, সত্যিই জাল নোট!

শেতুর দিকে তাকিয়ে দেখি ব্যাটার চেহারায় কোনো বিকার নেই। যেন ভিনগ্রহ থেকে সবেমাত্র পৃথিবীতে ল্যান্ড করেছে! আমার তখন তীব্র ইচ্ছে করছে ব্যাটাকে ওই কাচ্চির ডেচকিতেই ওরে ভরে রাখি। কিন্তু পরিস্থিতি তখন আর আমাদের হাতে নেই। কাচ্চি যখন পেটে গেছে, টাকা তো দিতেই হবে। এদিকে হয়েছে আরেক বিপদ। সেদিন আমাদের সবার পকেটের অবস্থা সাহারা মরুভূমির মতোন। অন্যদিন সবার পকেটে কিছু না কিছু থাকে, আর আজ সবার অবস্থা এক্কেবারে 'আল-খায়রাতুন'। শাওন আর শেতুর পকেট হাতড়ে সাকুল্যে বাসভাড়াটুকু জুটল। শেষমেশ আমি, তামিম আর মেহনাজ নিজেদের মানিব্যাগের চিপাচাপা হাতড়ে, সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে কোনোমতে ইজ্জত বাঁচিয়ে স্টার কাবাব থেকে বের হলাম।

ফেরার পথে পকেট শূন্য, মনটাও খারাপ। এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছি। মনে মনে একটাই প্রতিজ্ঞা করলাম, জীবনে আর কোনোদিন মাগনা জিনিসের নাম শুনেই লাফ দেব না। ফাউকিছুর নাম শুনলে এখন থেকে একশ হাত দূরে থাকব!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×