somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিল্লীর ডায়েরি-৬ঃ একটি জয়, জয় পরবর্তী মিছিল ও ইতিহাসের অংশ!!!!

২২ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০১১। প্রথমবারের মত ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ক্রিকেট বিশ্বকাপ বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ মুখোমুখি ভারতের। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ভারতের সেই সময়ের ওপেনার বিরেন্দ্র শেবাগ ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ একটি অরডিনারি দল। আর তা যেন প্রমান করতেই সেদিন সবচেয়ে বেশি তৎপর ছিল বাংলাদেশ দল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত গড়ল ৩৭০ রানের বিশাল স্কোর। যেখানে সেই সেবাগই করল ১৭৫ রান। ফলাফল বাংলাদেশ ৮৭ রানে পরাজিত।

একবার ভাবুন তো আপনি ম্যাচটি দেখছেন ভারতে বসে ভারতের এক ঝাক উগ্র সমর্থকের মাঝখানে কেমন হতে পারে ব্যাপারটি!!!!! যেখানে এর আগের বিশ্বকাপে ভারত্মাতার নাকের জল চোখের জল এক করে দিয়েই এই বাংলাদেশ ভারতকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়েছিল!!!!

আমরা ৪জন বাংলাদেশি আর সাথে হোস্টেল এর জনা পঞ্চাশেক ইন্ডিয়ান যার মধ্যে প্রায় ৩০ জন বিহারি যাদেরকে আমার আগের লেখায় ভারতের সবচেয়ে বিয়াদব এলাকার মানুষ বলেছিলাম। সেদিনের সেই অপমান আজও আমার মাথায় ঘুরে। গালাগালি আক্রমন করে কথা বলা কোন কিছুই বাদ যায়নি সেদিন। মিনোজ মনে করে সেদিন সব সহ্য করেছিলাম। প্রায় অনেকদিন ঘুমোতে পারিনি সেই কথা মনে করে। তবে বিশ্বাস করেছিলাম একদিন না একদিন সেই অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ অবশ্যই পাব। এবং অবশেষে ১৬ই মার্চ ২০১২ অর্থাৎ এক বছর এক মাস পর সেই সুযোগ এনে দিল আমার দেশের সোনার ছেলেরা।

সেদিন ম্যাচ শুরু হওয়ার পর হোস্টেলের টিভি রুমের পুরোটাই দখল করে নিল ইন্ডিয়ানরা। আমাদের হোস্টেলের অর্ধেক হোটেল হওয়ায় বাইরের অনেক ইন্ডিয়ান ও যোগ দিল তাদের সাথে। আমরা জনা বিশেক বাংলাদেশি টিভির আশেপাশে তো দুরের কথা পুরো টিভি রুমের আশেপাশেও থাকতে পারলাম না। তার উপর সেদিন তাদের ক্রিকেট ঈশ্বর করলেন শততম সেঞ্চুরি। তাদের কে কি আর ধরা যায়!!! তবে শচিনের সেই স্বার্থপরতায় মোড়ানো সেঞ্চুরি (১৪৭ বলে ১১৪) দেখেই কেন জানি বুঝে ফেলেছিলাম আজকে বাংলাদেশ জিতবে। বাংলাদেশ ব্যাটিংও শুরু করল ওইভাবে। তামিম ওই সময় একটু প্রেশারে থাকায় একটু ধীর ভাবে স্টার্ট করলেন। তবে মিরাকল টা ঘটল যখন জহির ৫০ পূর্ণ করল। আমার এক নেপালি বন্ধু আমাকে এসে বলল “ডুড ডোন্ট ওরি, ইয়উ আর গোয়িং টু ওয়িন অ্যান্ড অল দোজ সিটস আর গোয়িং টু বি এভাকুইয়েট ফর ইয়উ গাইজ”।

এর পর ক্রিজে আসলেন বাংলাদেশের জান বাংলাদেশের প্রান সাকিব আল হাসান। স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে খেলে গেলেন ৩১ বলে ৪৯ রানের মারকাটারি এক ইনিংস। পুরো বিশ্ব সেদিন দেখেছে “বেনিফিট অব ডাউট বলতে কিছু নেই সব মিডিয়ার সৃষ্টি” প্রমান করে দিয়ে কি নির্লজ্জ ভাবে শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার পালিয়াগুরুগে সাকিবকে স্ট্যাম্পিং এ আউট দিয়েছিলেন। মুশফিক আসলেন ক্রিজে। এসেই ইন্সাইড আউটে চার মারার সাথে সাথেই আস্তে আস্তে খালি হতে লাগলো টিভি রুম। সুনসান নীরবতা নেমে আসলো। সবাই ভুলে গেল ক্রিকেট ঈশ্বর আজ শততম সেঞ্চুরি করেছেন। আস্তে আস্তে সামনের সিট গুলো আমাদের দখলে আসতে শুরু করল এবং এক পর্যায়ে আমরা সব বাংলাদেশি আর কিছু নেপালি বাংলাদেশি সমর্থক ছাড়া কাউকে দেখতে পেলাম না। দুএকজন ইন্ডিয়ান কে জোর করে ধরে রাখতে চাইলাম। একজন শেষ পর্যন্ত বলল বন্দুক থেকে গুলি বের হওয়ার আগেই নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ। পরে মাহামুদুল্লাহ চার মেরে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করার সাথে সাথে আমরা ফেটে পড়লাম। আর সৃষ্টি করলাম এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে পুরো হোস্টেলে আমরা প্রায় ২০জন বাংলাদেশি পৈশাচিক আনন্দ করলাম। ইন্ডিয়াতে বসে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে জয় উদযাপন করলাম মিছিল করে। এটাই প্রথম কোন বাংলাদেশিদের মিছিল ইন্ডিয়ার বুকে।তাই সিউরলি আমি মনে করে এটা ইতিহাস। আর আমি গর্বিত যে আমি সেই ইতিহাসের অংশ যেখানে আমি সামনে থেকেই মিছিল ধরেছিলাম।




মিছিল পরবর্তী ছবি!!

আজ অনেকদিন পর সেই স্মৃতি মনে করার কারন নিশ্চয় ধরতে পেরেছেন!!!! আজ বাংলাদেশ আর মিনোজ নয়, কারো চোখ রাঙ্গানি কে পরোয়া করেনা। দাঁতে দাঁত চেপে পাল্টা জবাব দেয় সবকিছুর। রমিজ রাজারা এক সময় অপমান করে কথা বলত। আর এখন বাংলাদেশ সম্পর্কে কথা বলতে ওদের গলা ধরে যায়, গলা ধরে যায় মাঞ্জেরকারদের। দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ।

সো রেস্ট অব দ্যা ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড!! বি স্কিয়ারড বি ভেরি স্কিয়ারড!!! কজ

“টাইগার্স আর হান্টিং, প্লিজ এভাকুয়েট!!!!” :) :) :)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:১২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিস্কভারি অব ইন্ডিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৪



১৯৪৭ সালটা সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দেশবিভাগের বছর শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময়ে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×