somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একসময় ফ্রাইডে কে বলা হত শুক্রবার!!!!! তখন------ :|| :||

০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক সময় সবার পছন্দের একটি বার ছিল। বার’টির নাম শুক্রবার। সেই শুক্রবারে থাকতো না কারো স্কুল বা মাদ্রাসায় (অথবা অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষা) যাওয়ার তাড়া। না ছিল না কোন হোম টিউটর অথবা ঘুম থেকে উঠার তাড়া। মায়েরাও সেদিন তাদের সন্তানদের ঘুম থেকে তারাতারি উঠার তাড়া দিত না। সেই শুক্রবারের বেশির ভাগেরই প্লান থাকতো খেলাধুলা। সকালে এক সেশন কেটে যেত ব্যাট আর বল নিয়ে মাঠে। অথবা ফুটবল নিয়ে সদ্য কেটে ফেলা ধানের কাঁদা মাঠে কাঁদা মাখামাখিময় ফুটবল। তারপর ময়লায় মাখামাখি করে আসা জামা কাপড় নিয়ে পুকুরে লাফ। তারপর ইচ্ছেমত সাঁতার কাটা। পুকুরে আবার “হাইড এন্ড সিক” খেলা। তারপর মুরুব্বিদের তাড়া খেয়ে পুকুর থেকে উঠা। শুক্রবারের জুমা নামাজ পড়তে যাওয়া।


সেই শুক্রবারের বিকেলটা ছিল আরও সুন্দর। শুক্রবারের বিটিভির সিনেমা (আমাদের গ্রামের দিকে অনেকে বই বা ফিলিম বলত, এখনো বলে)নামে একটা ব্যাপার ছিল। সেই সিনেমার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা। সিনেমার আগে “টিউনিজ মিউটেন নিনজা টারটলস” নামে একটা কার্টুন দেখা। আর সিনেমা শুরু হতেই উত্তেজনা। উত্তেজনার বসে অনেকেই সিনেমার মাঝখানে কয়টা বিজ্ঞাপন দেয় সেটা গুনা, এমনকি অ্যাকশন মুভি হলে কয়টা মারপিট হত সেটা পর্যন্ত গুনা। সেই সব সিনেমায় অদ্ভুত সেন্সর ছিল। কোন ইন্তেন্স দৃশ্য আসলে দুটি ফুলের মাখামাখি দেখিয়ে আসল দৃশ্য গোপন করা B-) আবার হুহু করে হতাশার আহাজারি শুনা যেত যখন সিনেমার মাঝখানে বিদ্যুৎ চলে যেত :P সেই সিনেমা শেষ হলেও রেষ রয়ে যেত অনেক্ষন। কেউ কেউ হয়তো আবার রাস্তার ধারে বসে গবেষণায় বসে যেত “রুবেলের মাইরটা দেখসস বেটা, সেই সেই”। অথবা দেখতাম আবেগের বসে কেউ কেউ লুকিয়ে চোখের পানি মুছতে।


সেই শুক্রবারের সন্ধ্যায় পড়ার তেমন চাপ থাকতো না। হালকা ক্লাসের পড়া রেডি করে খেয়ে দেয়ে অনেকে বসে পড়ত “আলিফ লাইলা” (এখন ভাবি হায়রে মঞ্চ নাটক ক্যামনে দেখার জন্য বসে থাকতাম :P ) দেখার জন্য। সেই আলিফ লাইলাতে ছিল জিঙ্গালু জুংলা। ছিল মালিকা হামিরা। মালিকা হামিরার হাতে ছিল “আক্রাব” নামে এক বিষধর কীট। সেই আক্রাব ধরে “আক্রাব আক্রাব” করে আওয়াজ দিলে বের হত বিষ। সেই “আক্রাব” তখন আবার মার্কেটেও পাওয়া যেত। সেই সব শুক্রবারে রাত ৯টায় মাঝে মাঝে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি থাকতো। ইত্যাদিতে নানা নাতির পর্ব থাকতো। তা দেখে আমরা হাসতাম। হানিফ সংকেতের গাওয়া প্যারডি গান থাকতো। ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান শুভেচ্ছা থাকতো, সেখানে পাপ্পু নামে একজনের কমেডি থাকতো। সেই সব মাগাজিন অনুষ্ঠানের মাঝে ছিল না বিজ্ঞাপনের দৌড়াত্ব। আবার মাঝে মাঝে মাসের একদিন শুক্রবারের রাত ১০টার সংবাদের পর থাকতো ছায়াছবির গান নিয়ে অনুষ্ঠান “ছায়াছন্দ”। বড়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছোটরা সেই ছায়াছন্দ দেখত।

সেই শুক্রবার গুলোতে সমস্ত প্রকার সুখ-শান্তি,মজা নিয়ে আমরা ঘুমাতে যেতাম।

কালের বিবর্তনে সব কিছুর পরিবর্তন ঘটে গেছে। সেই শুক্রবার ও পরিবর্তন হয়ে আজ হয়ে গেছে “FRIDAY-The Weekend”

আজকালও ফ্রাই ডে তে কেউ তেমন সকালে উঠতে চাই না। তবে সকাল হয় ফেসবুকে "হ্যাপি ফ্রাই ডে" স্ট্যাটাস এর মাধ্যমে। আগের মত মাঠে যাওয়া হয়না। কারন ঘরে কি বোর্ড বা জয়স্তিক এর মাথায় যে সব খেলা। তার উপর মাঠ ঘাট সব দখল করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে গেছে বড় বড় দালান। বিকেল গুলো আগের মত নেই। বিভিন্ন চ্যানেলের ভিড়ে হারিয়ে গেছে বিটিভির বাংলা সিনেমা। হয়তো এখন ওই সময় কেউ বসে বসে চ্যানেল ঘুরায় অথবা ফেসবুকিং করে অথবা কেউ রেস্টুরেন্টে বসে "চেক ইন" দেয়। রাতের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানও দেখা হয়না। চ্যানেল ঘুরাতে ঘুরাতে কোন এক চ্যানেলে স্থির হলেও বিজ্ঞাপনের জ্বালায় চলে যেতে হয় অন্য চ্যানেলে। ছায়াছন্দও আর দেখা হয়না হাজারো মিউজিক চ্যানেলের ভিড়ে।

আজকাল ফ্রাই ডে গুলোতে অন্যদিনের মত হতাশা নিয়ে পরের দিন কর্মক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পড়ার চিন্তা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

সো হ্যাপি “FRIDAY- The Weekend” এর অগ্রিম শুভেচ্ছা সবাইকে। B-) B-)

বিদ্রঃ একটি আজাইরা পোস্ট ;) ;)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৯:৪৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×