somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথমপ্রেম এবং মেয়েটি।

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজ বন্ধ। ক্লাস নাই। পড়ালেখা নাই। সারাদিন বসে হয় কম্পিউটার গুতাই নাহলে ফেসবুকে থাকি। বিকালে খেলতে যাই, পরে টঙে বন্ধুবান্ধবের সাথে আড্ডা হয়। এক রাতে ফেসবুকে কোনো এক গ্রুপে দেখি এক মেয়ে বিড়াল নিয়ে পোষ্ট করছে, তার নাকি বিড়াল খুব ভালো লাগে, সে বিড়াল পালতে চায়। তাই সে ছোট্টো বিড়ালের বাচ্চা খুজচ্ছে। আমার বাসা একতলায় হওয়ায় বিড়ালের খুব আনাগোনা ছিলো। সেই বিড়াল খাটের তলায় বাচ্চা দিয়েছে। ভাবলাম ওই বিড়ালের বাচ্চাকে সে মেয়ের কাছে দিয়ে আপদ বিদায় করি। যেই ভাবা সেই কাজ, আমি এফবিতে বিড়ালের দুই-একটা ছবি মেয়েটাকে মেসেজ পাঠালাম। মেয়েটির বিড়াল খুব ভালো লাগছে। সে গ্রীনরোড থাকে, আমি যাতে একটু কষ্ট করে তার বাসার নিচে গিয়ে বিড়ালটি দিয়ে আসি। সে বের হতে পারবে না কারন তার স্কুল বন্ধ। আপদ বিদায় করার লক্ষ্যে রাজি হয়ে গেলাম। আমি থাকি ঝিগাতলা। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে তার বাসার নিচে গিয়ে দিয়ে আসলাম। মেয়েটা দেখতে বেশ সুন্দরী। চঞ্চল একটা ভাব আছে। বিড়াল দিয়ে আমি তাড়াতাড়ি কেটে পড়লাম। বাসায় এসে ভদ্রতার খাতিরে আমি মেয়েটিকে আমি ফ্রেন্ড্র রিকুয়েস্ট পাঠাই। সে সাথে সাথে এক্সেপ্টও করে।
অনেকদিন পরের কথা, আমি সে মেয়ের কথা ভুলেও গেছি। হঠাত দেখি সেই মেয়ে আমাকে নক করল,"কেমন আছো?"। আমি তো ভেবাচেকা খেয়ে গেলাম,এইটুকু মেয়ে আমাকে তুমি বলে ।তাও রিপ্লাই দিলাম,"এতো ভালো। তুমি কেমন আছো? বিড়ালটা কেমন আছো?" সে বলে,"টিমটিম তো খুব ভালো আছে। থ্যাংকইউ ভাই ওকে আমার কাছে দেয়ার জন্য। " আমি বললাম," আরে ব্যাপার না। " এইভাবে প্রায়ই কথা হতে থাকলো মেয়েটির সাথে। কথায় কথায় ওর ব্যাপারে অনেক কিছুই জানলাম। ওর মা-বাবা দুইজনই চাকরি করে। ওর এক বয়ফ্রেন্ড ছিলো,বেশ কিছুদিন হয়েছে ব্রেকআপ হয়ে। আমি ধীরেধীরে ওর ক্লোজ ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম। আমরা বাইরেও দেখা করতে লাগলাম। ওর কোথাও যাওয়া লাগলে আমি সাথে যেতাম।প্রায়ই আমরা এখানে ওখানে খেতাম। আমি ভালোই লাগতো ওর চঞ্চলতা,আমি কেমন জানি দূর্বল হতে লাগছিলাম ওর প্রতি। মনে হয় সেও আমার প্রতি কিছু অনুভব করতো।
বিকাল ৫টা। ফোনে একটা কল ওর কল আসলো। রিসিভ করে শুনি ওর গলা," এই তুমি কই? "। আমি উত্তর দিলাম,"আমি বাসায়। " ও বলল," বাসায় কি করতেছো? তাড়াতাড়ি আমার বাসার নিচে আসো। কাজ আছে। " আমি কথা না বাড়িয়ে বললাম,"আসছি।" বাসার নিচে গিয়ে ফোন দিলে সে বলে উপরে আসতে। আমি উপরে গেলাম। সে দরজা খুলে দিয়ে আমাকে ভিতরে গিয়ে বসতে বলল। আমি ওকে জিজ্ঞাস করলাম, "কি ব্যাপার? এইভাবে হঠাত ডাকলে যে? " ও বলল," মা-বাবা কেউ বাসায় নাই আর আমিও বাসা খালি রেখে বের হতে পারবো না।একা একা বোর হচ্ছিলাম তাই তোমাকে ডাকলাম " এই কথা গুলো বলে সে আমার কাছাকাছি এসে বসলো। আমার কেনো যেন লজ্জা লাগছিল। আমি সরে বসলাম। আমি বলল," দেখ তোমাকে আমি একটা কথা অনেক দিন ধরে বলব বলব ভাবছিলাম। আজকে সাহস করে বলেই দেই। জানি না তুমি আমার সম্পর্কে কি ভাবো কিন্তু আমি যখন তোমার সাথে থাকি তখন আমি একী সাথে খুব সুখী আবার খুব দুখী অনুভব করি কারন আমি তোমার সাথে আছি কিন্তু জানি না কাল থাকতে পারবো কিনা। তুমি আমাকে খুব সবল কর, আবার তোমার সাথে নিজেকে খুব দুর্বলও মনে হয়। আমি মনে হয় তোমাকে বুঝাতে পারছি না আসলে আমি কি অনুভব করি তোমার জন্য। " এইসব শুনে ও বলে," আমি বুঝতে পারছি তুমি আমাকে কতোটা ভালোবাসো। আসো আমার কাছে আসো " কথা গুলো বলতে বলতে ওর গলা ধরে আসে। তারপর আমাদের দিয়ে একটা ভুল হয়ে যায়।
সে দিনের পর কয়েকদিন ওর তেমন মেসেজ পেলাম না,কলও নাই কোনো। আমি বুঝতে পারলাম না কি হলো। কয়েকদিন পর আমি ওকে আরেকটা ছেলের সাথে ক্যাফে ম্যাংগোতে দেখলাম। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। কার সাথে ও বসে বসে গল্প করছে। আমি ওর কাছে গিয়ে বললাম,"কি অবস্থা? ওই দিনের পর তো কোনো খোজই নাই। এই ছেলেটা কে? " ও বলল,"আরে ভাইয়া। কেমন আছেন? আসঅলে না ভাইয়া আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম তাই আরকি। আর ভাইয়া ও হলো আমি খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড। " আমি বললাম,"আচ্ছা আচ্ছা ক্লোজ ফ্রেন্ড। ঠিক আছে। আমি আর ডিস্টার্ব করলাম না। " কি করবো বুঝে উঠতে পারলাম না, ভবঘুরের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকলাম। পরের কয়েকদিন আর বাসায় যাওয়া হলো না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×