somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমি এক ক্লান্ত প্রাণ, যে জীবনের উত্তাল ও সফেন সমুদ্রের বুকে যুগ যুগ ধরে পথ হেঁটে চলেছে। চারপাশের চতুর পৃথিবীর কোলাহলে যখন আমি অবসন্ন, তখন প্রকৃতির সুদূর অন্ধকার আর নির্জনতার মাঝেই আমি আমার শান্তি খুঁজে পাই । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https

প্রথম আলোর হেড অফিসে সেদিন

২৫ শে অক্টোবর, ২০২২ রাত ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পরিষ্কার বিকেলের আকাশ । নূর ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবো । বিজয়৭১ হলের ৫০০৪ নাম্বার রুমে বসে আছি আমি, ফাহিম আর রুমমেটরা । প্যান্ট পরতেই ফাহিম বললো, ‘কই যাবি?’। বললাম কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো অফিসে । ফাহিম বললো সন্ধ্যের মধ্যেই ব্যাক করিস নীলক্ষেতে যাবোনি দুই ভাই, একটা কাজ আছে ।

জিন্স আর টি-শার্ট পরে রওনা দিলাম টিএসসির দিকে । ওদিকে আবার সৌরভ ভাইও ফোন দিয়েছেন, টিএসসিতে বসে আসেন । একটু জোরেই হাঁটা দিলাম । অপেক্ষা কিংবা প্রতীক্ষা দু’টোই মানুষকে বড্ড যন্ত্রণা দেয় । টিএসসির ভিতরে গিয়ে কয়েকজনের সাথে সাক্ষাৎ হলো । সবাই সংস্কৃতির সঙ্গে আছেন তা বেশভূষা, কথাবার্তা দেখেই বুঝলাম ।

তারপর টিএসসি থেকে বের হয়ে শাহবাগে এসে বাসে উঠলাম কারওয়ান বাজারে যাওয়ার জন্য । খুব বেশী জ্যাম ছিলোনা অবশ্য, তাই তাড়াতাড়িই পৌঁছে গেলাম । কারওয়ান বাজারে কয়েকটা গলি মোটামুটি একই রকম লাগে । আমাদের প্রথম টার্গেট ভুল হলো, পরে ঠিকঠাক পৌঁছালাম । অফিসের নিচে গিয়ে নূর ভাইকে ফোন দিলাম । বললেন নিচে থাকা স্টাফদের তাঁর পরিচয় দিয়ে ঢুকতে । নাম, ঠিকানা, ফোন, সময় লিখে উঠে গেলাম লিফটের ছয় তে ।

নূর ভাই আইডি কার্ড পাঞ্চ করে গেট খুললেন । লিফটের মধ্যে একজন ফটোসাংবাদিকও ছিলেন, নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছেনা । উনার ছবিগুলো আমি পছন্দ করি সেটা উনার পরিচয় শোনার পর বললাম । অফিসের এক কোনে একটা রেডিও স্টেশন । সারি সারি ডেস্ক । নাইট শিফটে তিন জন কাজ করছেন । নূর ভাই ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্টে আছেন ।

সারা দেশ থেকে নিউজ পৌঁছাচ্ছে । উপর থেকে নিউজ যাচাই-বাছাই করে নিচে আসছে । সেসব নিউজ পরিমার্জন করে প্রকাশিত হওয়া মাত্রই সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য একজন প্রকাশ করে দিচ্ছেন ।

আমি প্রথম আলো ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেইজ রিফ্রেস করছি যে নিউজটা কতক্ষণ পর পাবলিশ হয় । সেকেন্ডের মধ্যেই নিউজ প্রকাশ হচ্ছে, হাজার-কোটি মানুষের কাছে সেসব নিউজ পৌঁছে যাচ্ছে । আমি বেশ অবাক-ই হলাম । এত জলদি এত মানুষের কাছে রিচ করছে নিউজগুলো ।

ভাইয়ের তুলে দেয়া(পাবলিশ করা) নিউজগুলোতে মুহূর্তের মধ্যেই হাজারও মানুষের রিয়্যাকশনে ভরে যাচ্ছে । ভরে যাচ্ছে নানানরকম মন্তব্যে ।

সেখান থেকে একটা সুস্পষ্ট ধারণা জন্মালো যে ইন্টারনেট আমাদের কতটা কাছাকাছি এনে দিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়গুলো কত তড়িঘড়ি করে মানুষের কাছে পৌঁছুচ্ছে । জাস্ট ইন সেকেন্ডে ।



ভাইয়ের কাজ দেখার পর গেলাম পাশের বিল্ডিংয়ে বন্ধুসভার কক্ষে । কক্ষে ঢোকামাত্রই সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন চেয়ার দেয়ার জন্য । কি দারুণ সৌজন্যতাবোধ । উত্তম দাদা নূর ভাইকে বললেন, তুই এদিকে কাছে এসে বোস । কথাতে কি দারুণ চঞ্চলতা, যেন এই মুহূর্তেই কিছু একটা করে ফেলবেন এমন মায়ামাখা তেজ । বন্ধুসভা করার প্রেক্ষিতে আবারও মুগ্ধ হলাম সবার আচরণে । যেখানে আসলেই সবাই বন্ধু । নিজের সিট ছেড়ে দিয়ে আমাদের আতিথেয়তায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লেন ।

বিভিন্ন কার্যক্রম চললো । এঁরই মধ্যে ইরানি এক হুরপরীসহ এন্ট্রি করলেন সাবেক সভাপতি মমিত স্যার । সবাই ভূত দেখার মতো চমকে উঠলাম । ইরানী হূর ইরানের ভাষায় কথা বলছেন মমিত স্যার সেগুলো আবার আমাদের ট্রান্সলেট করে দিচ্ছিলেন । ইরানী হূরের একটা কথা সেদিন আমার মনে গেঁথে গেছে তিনি বলেছিলেন, “রাস্তায় একজনকে মারা হচ্ছে । যিনি মারছেন তিনি হিরো নন । মারার সময় যিনি প্রতিবাদ করেন তিনিই হলেন প্রকৃত হিরো । যিনি হাসপাতালে পৌঁছে দেন তিনিই প্রকৃত হিরো ।” ভিনদেশী একজন মানুষের মধ্যেও কত মানবিকতা ।



এরপর নানানরকম খাবার আসতে শুরু করলো । সবাই মিলে একসাথে বেশ উপভোগ করলাম খাওয়ার সময় । যাঁরা টেবিল থেকে দূরে তাঁদেরকে টেবিলের কাছে থাকা বন্ধুরা খাবার এগিয়ে দিচ্ছে । মমিত স্যারের ইরানী স্ত্রী মিষ্টি নিয়ে কয়েকজনকে দিচ্ছিলেন ।

এ এক দারুণ স্মৃতি । এ এক দারুণ সময় কেটেছে আমার । প্রথম আলো-বন্ধুসভার বন্ধুদের সৌজন্যতা, সৌহার্দ খুব ভালোবাসি । প্রথম আলো থেকে কতকিছুইনা শিখলাম । গণতন্ত্র শিখলাম, সাম্যতা শিখলাম, আতিথেয়তা শিখলাম আরও কতকিছু যে শিখলাম । ‘ভালোর সাথে—আলোর পথে’র এই প্রথম আলোর জয় হোক । জয় হোক মুক্তপ্রাণ বন্ধুসভার বন্ধুদের ।

জয়তু প্রথম আলো
জয়তু বন্ধুসভা

সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৯ কার্তিক ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল | মঙ্গলবার | ২৫ অক্টোবর ২০২২ ইং | আপন নীড়, বগুড়া

#প্রথমআলো #বন্ধুসভা #ProthomAlo #Bondhushava
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২২ রাত ১২:৫৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাওরাত ও যুক্তি দিয়ে কথা বলুন - ইহুদীরা আত্মসমর্পন করবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০০

গানঃ 'My Name Is Palestine' - Garth Hewitt
লিংকঃ Click This Link



জ্ঞানী মানুষ যুক্তি পছন্দ করেন। জ্ঞানী মানুষ অজ্ঞানতার বেড়াজাল থেকে নিজেকে বের করে যুক্তির মাপকাঠিতে নিজের জীবনকে সাজায় বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোস্ট: বিদায়ের আগে

লিখেছেন অর্ক, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৭



আমি নিজের লেখা ও অনুবাদ করা কিছু বই বের করতে চাই। এক্ষেত্রে কেউ কোনওভাবে সহযোগিতা করতে পারলে জানাবেন। গতকাল একজন নিয়মিত ব্লগারের মন্তব্যে ব্লগ বন্ধ হবার জোর সম্ভাবনার কথা জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×