somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী

২৯ শে আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানুষ সমুদ্রে ডুব দিতে পারে, সমুদ্রকে ধারণ করার সক্ষমতা মানুষের নেই। নজরুল এক সমুদ্র, তাকে ধারণ করা সহজ নয়, তাতে ডুব দিতে হয়।

যে কবি লিখেছেন, "মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী, দেবো খোঁপায় তারার ফুল" তাকে রোমান্টিক কবি না বলে, শুধু বিদ্রোহী কবি বলা হয়।

যিনি লিখলেন, "যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই" তাকে উদার না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখেছেন,
"যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
"
তাকে অভিমানী নয়, শুধুই বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি নিজেই বলেছেন, "বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসিনি, প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম" তাকে প্রেমিক না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখেছেন "সুন্দরের অবহেলা আমি সইতে পারিনা, বন্ধু! তাই এত জ্বালা!" কিংবা "আমি কবি, আমি আঘাতকরলেও ফুল দিয়ে আঘাত করি। অসুন্দর কুৎসিতের সাধনা আমার নয়। আমার আঘাত বর্বরের কাপুরুষের আঘাতের মতো নিষ্ঠুর নয়"। আহা! তাকে সৌন্দর্যের কবি না বলে বিদ্রোহী কবি বলা হয়।

যিনি বললেন "ছেলেবেলা থেকেই পথে পথে মানুষ আমি। যে স্নেহে, যে প্রেমে বুক ভরে ওঠে কানায় কানায়, তা কখনো কোথাও পাইনি" তাকে অবহেলিত না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখেছেন, "শোনো শোনো ইয়া ইলাহি আমার মুনাজাত"
কিংবা
"মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই। যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই",
তাকে ধার্মিক না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখলেন, "আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ, এই পথে মোর চলে যেতেন নূর নবী হজরত" তাকে নবী প্রেমিক না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখলেন, "রোজ হাসরে আল্লাহ আমার করো না বিচার" তাকে ধর্মভীরু না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখেছেন,
"যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল?
"
তাকে শোষিত মানুষের বন্ধু না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখেছেন, "কারার ঐ লৌহকপাট ভেঙে ফেল কর রে লোপাট" তাকে প্রতিবাদী না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখেছেন,
"বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাড়া।
"
তাকে দুরন্ত কিশোর না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখেছেন,
"ভোর হলো দোর খোলো
খুকুমণি ওঠ রে!
ঐ ডাকে যুঁই-শাখে
ফুল-খুকি ছোটরে!
"
তাকে শিশুতোষ কবি না বলে বিদ্রোহী কবি বলা হয়।

যিনি লিখলেন,
"বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
"
তাকে সমতার কবি না বলে বিদ্রোহী কবি বলা হয়।

যিনি লিখেছেন,
"বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা।
"
তাকে অসহায় না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি লিখলেন,
"গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু -বৌদ্ধ -মুস্‌লিম -ক্রীশ্চান।
"
তাকে অসাম্প্রদায়িক না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

যিনি 'উমর ফারুখ' কবিতা লিখলেন তিনি রাজনৈতিক কবি নয়? বিদ্রোহী কবি?

যিনি খালিদ বিন ওয়ালিদকে নিয়ে 'খালিদ' লিখেছেন, যার এক হাতে রণতূর্য, তিনি যোদ্ধা না, তিনি বিদ্রোহী?

যিনি লিখেছেন, "ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। স্বপ্ন দেখে জেগে উঠে আবার লিখছি । কিন্তু আর লিখতে পারছিনে ভাই! চোখের জল, কলমের কালি দু-ই শুকিয়ে গেলো । তোমরা কেমন আছো, জানিও । তার কিছু খবর দাওনা কেন? নাকি সে মানা করেছে?" আহা! তাকে বিরহী, না বলে বিদ্রোহী বলা হয়।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:১০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০

কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------
































---------------------------------------------------------------



















------------------------------------------------------------------






















... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

মেট্রোরেল পুরো বাংলাদেশের জন্য শান্তির বিষয়।
শুধু মেট্রোরেল না পদ্মাসেতুও। দারুণ এক কাজ হয়েছে। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে খবর হয়ে যেতো। তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগতো। এখন মুহুর্তেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×