প্রশাসনে চাকরি করলে বলা হয় আমলা। আমলা শুনলে মনে হয়- ভারিক্কি গোছের কেউকেটা কেউ। অথচ বাংলা সাহিত্যে আমলাদের অবদান অনস্বীকার্য। সরকারি চাকরির মতো গাধার খাটুনি খেটেও তারা বসে থাকেন নি। সাহিত্য চর্চা করে গেছেন নিরলসভাবে। এশিয়াটিক সোসাইটির ইতিহাস ঘাটলেও দেখা যাবে- এর সমৃদ্ধির পেছনে আমলাদের অবদান রয়েছে।
এই আমলারা এখনো সাহিত্য চর্চা করে যাচ্ছেন। এখনো সমাজিক মাধ্যমে প্রশাসনের কবি সাহিত্যিকদের লেখা চোখে পড়ে। কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন প্রশাসনের এমন কয়েকজনের বিষয়টি উল্লেখ করছি। ঝিনাইদহ ও যশোরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। নওগাঁর এসডিও ছিলেন অন্নদাশঙ্কর রায়। মৌলিক কবি আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ খান ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সচিব। যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসর নিয়েছিলেন কবি আবুল হোসেন। শহিদুল জহিরের নাম গল্পাকার হিসাবেই বেশি প্রসিদ্ধ৷ এ তালিকা অনেক বড়। এ নিয়ে আরো অনেক গবেষণা করা দরকার।
সবশেষে এ বছর সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ১০ বিভাগে যে ১২ জন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষক বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তাদের মধ্যে দুইজনই প্রশাসনের কর্মকর্তা। সাবেক সচিব ও বর্তমানে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক কবিতায় এবং অনুবাদসাহিত্যে বিসিএস ৭ম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া পুরস্কৃত হয়েছেন।
অভিনন্দন তাদের। জয়তু প্রশাসন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


