somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুল মানুষে প্রেম

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ক্যাফেটেরিয়ার সামনে তাদের প্রথম দেখা। তবে প্রথম দেখাতেই কোন প্রকার চোখাচোখি হয়নি কিন্তু। ছেলেটা তাকিয়ে ছিলো এক-ধারসে, কিন্তু মেয়েটা একবারও না।
অবশ্য এমন একটি মুহূর্তকে মিনারে 'আহারে' গান দ্বারা কিছুটা প্রকাশ করা যেতে পারে-
'আমি কি দেখেছি হায় একলা পথে দাঁড়িয়ে সে ছিল দূরে দূরে তাকিয়ে আহারে আহারে কোথায় পাব তাহারে'।

না, তখনো তাকে পাবার জন্যে 'আহারে' আক্ষেপ মনে জন্ম নেইনি।
'এমন ক্ষণিকের প্রেমে তো রবীদ্রনাথ থেকে শুরু করে বারাক ওবামা পর্যন্ত পড়েছেন, তো আমি পড়লে কি দোষ?' - এমন দোষহীন ভাবনায় প্রেমটা সহসায় গুরুত্বহীন হলো।

কিন্তু এমন করে 'এক'ই জনের 'ক্ষণিকের প্রেমে' ছেলেটা বহুবার পড়তে লাগলো। মেয়েটাকে দেখলেই এমন 'প্রেমে পড়াটা' তার অভ্যাসে পরিনত হলো। এখন তার ক্ষনিকের প্রেমিকাকে প্রায়ই দেখতে ইচ্ছে করে! কি অদ্ভূত! তপন-মিজান কেন্দ্রিক ছেলেটা হটাৎ করে ক্যাফেকেন্দ্রিক হয়ে উঠলো। দলবল নিয়ে সে প্রতিদিন নিয়ম করে তিনবেলা যায় ক্যাফেটোরিয়ায়।
আর তাতে প্রতিদিন আনুপাতিক হারে অল্প অল্প করে ছেলেটা প্রেমে পড়তে থাকে। অল্প থেকে একটু বেশি অল্প, একটু বেশি অল্প থেকে আরেকটু বেশি অল্প। এভাবেই...অল্প অল্প গল্প গুলো বড় হতে থাকে।
ততোদিনে 'সাময়িক ভালোলাগা'টা 'সম্পূর্ন ভালোলাগাতে' পরিনত হয়েছে!

মেয়েটা যথেষ্ট চালাক না হলেও এমন পার্মানেন্ট 'ফলোয়ার'কে তার নজরে আসতে বেগ পেতে হলোনা।
কোনএক ক্ষণে তারা পরিচিত হলো। সেই ক্ষণটি শুভ না অশুভ ছিলো তা নির্ধারন করা যায়নি সেই সময়। ছেলেটি মনে করলো সেই ক্ষণটিই ছিলো বছরের সবচেয়ে শুভক্ষণ।

এরপর ছেলেটি প্রায়ই মেয়েটিকে ফোন দিয়ে 'জ্বালাতন' করতে শুরু করলো। সম্ভবত অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেয়েটি ছেলেটির সাথে কথা বলতো। কথা বলে বুঝিয়ে দিতে - আমি আপনার সেই জন নয় যাকে আপনি খুঁজছেন!

এভাবেই কেটে যায় বেশ ক'টা দিন। দিনে দিনে ছেলেটা বুঝতে পারে যে সে ভুল মানুষের প্রেমে পড়েছে। কি অদ্ভূত!-এই ভুলকে সত্য জেনেও সে ভুল মানুষটাকে সত্যি সত্যি মিস করতে থাকে।
ছেলেটি ভাবে এই মেয়েটিই সে যাকে কিনা - 'কফি মগের ওপর দিয়ে রেস্তোরার এপাশে ওপাশের টেবিলে চোরাচোখে তাকিয়ে দেখা যায়' কিংবা 'গেটের কাছে রেখে যাওয়া গোলাপ
পাপড়ি ছিঁড়ে ডায়রীর পাতায় রাখা গন্ধহীন অনুভূতিপূর্ন শুকনো পাপড়ি গুলো দিয়ে বলা যায়- 'ভালোবাসি'।
হটাৎ রাস্তায় অটোতে যদি ভীষণ বাতাসে মেয়েটিকে চুল এসে পড়ে তার নাকের উপর- 'তোমার ঐ রেশমি কালো চুল দেখে পাগল আমি হবোই তো' গানতো কেবল এই মেয়েটিকেই শুনানো যায়!
কিংবা হঠাত রাস্তায় সামনে দাঁড়িয়ে হৃদস্পন্দন থমকে দেওয়া যায়! এক মুহূর্তে যুগান্তর
কাটিয়ে দেওয়া যায়- মেয়েটি পাশে থাকলে।

মানুষ ভুল করে, ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে। কিন্তু ছেলেটা ভুল করে নয় যেন সজ্ঞানে ভুল মানুষের প্রেমে পড়েছে! ছেলেটি বুঝতে পারে যে- ভুল করছি, তবুও ভুলটাকে শুধরে নেওয়ার ইচ্ছে তার নেই। মেয়েটিকে ভালোবাসতেই সে ভালোবাসে। ভুল মানুষটাকে আরো বেশি ভালোবেসে ফেলে। ভুলটাকে সত্য বানাতে ইচ্ছে করে খুব।

প্রিয় সুপ্তী,
আমি জানি আমাকে তোমার খুব একটা পছন্দ না। কিন্তু তবুও আমি আজ তোমাকে লিখছি কেননা আজ থেকে ২০ বছর পরের কোন একটি সকালে আমি এমন একটি গিলটি ফীল নিয়ে ঘুম থেকে উঠতে চাইনা যে ২০ বছর আগে আমার তোমাকে আমার ভালোলাগার কথাটা জানানো উচিত ছিলো। আমি উত্তরটা জানি, কিন্তু না বলে যেন পারছিলামনা! আজ তোমাকে না বললে আমাকে সারাটা জীবন একটা 'না বলার যন্ত্রনা' নিয়ে কাটাতে হতো! তাই আজ বলে দিচ্ছি- তোমাকে ভালোলাগা, ভীষণ ভালোলাগে। এই ভালোলাগার মানুষটিকে নিয়ে যুগান্তর পাড়ি দিতে চাই। সঙ্গি হবে?
- অর্ঘ্য


সুপ্তী সেদিনও একটা ভাবলেশহীন ভাব নিয়ে চিঠিটা পড়ে। কোন উত্তর দেয়না।
অর্ঘ্য ফিরে আসতে চায়। ভুলমানুষকে কেন এতো ভালোবাসা?
অর্ঘ্য বিশ্বাস করতে চায় তার ভালোবাসায় কোন খুঁত ছিলনা। তার বিশ্বাসের কোন কমতি ছিল না। সে বিশ্বাস করতে চায় মানুষটা একদিন হয়ত বুঝবে। কিন্তু মানুষটা কখনোই বুঝেনি। সুপ্তী তাকে হয়ত তুচ্ছ করে ভাবছে। তুচ্ছ জিনিসের প্রতিতো আর মানুষের কোন আগ্রহ কাজ করেনা।

দিন কেটে যায়। অর্ঘ্য মেনে নেয়। যেন এমনটাই হবার কথা ছিল। অর্ঘ্য ভাবে- পৃথিবীতে ভুল মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশী নিরেট ভালোবাসা পাওয়ার ভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে জন্মায়!
ভুল মানুষকে ভালো করে ভালোবাসার মতন বিড়ম্বনা এই পৃথিবীতে আর একটাও নেই!
এভাবেই অর্ঘ্য একদিন ভালোবাসাহীন হয়ে পড়ে। অর্ঘ্য অবাক হয়না- যেন এইটাই স্বাভাবিক!
আসলে… যার মনে ভালোবাসা থাকেনা সে সহজে অবাক হয়না। ওরা অবাক হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:১৫
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ

লিখেছেন ডাঃ আকন্দ, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ হলে, তা হবে পাগলামি। ইউরোপকেই এই মরণ মরণ খেলা বন্ধ করতে হবে। ইউরোপকে অনেক ছাড় দিয়ে এ যুদ্ধ বন্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×