somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা যারা 'গণতন্ত্র ধর্ষন যুগের' সাক্ষী!

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত

বাংলাদেশ জন্মের পর এ অঞ্চলের মানুষ কখনো গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছে কিনা আমি জানিনা।
৭৫ এর পট পরিবর্তের পর প্রায় পনের বছর এদেশের মানুষ একপ্রকার সেনাশাসিত শাসন ব্যাবস্থার মধ্যে ছিলো। ৯০ এর পর যে গণতন্ত্র এসেছে তাকে গণতন্ত্র না বলে সর্বোচ্চ 'দখলতন্ত্র' কিংবা 'লুটপাটতন্ত্র' নামকরন করা যেতে পারে!

গত পাঁচ বছরে আমরা যে সরকারের অধীনে আছি, সেটা ছিলো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। অথচ এ নির্বাচনকে গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন বলা হলো। হাসি পায়, সাথে কান্নাও পায় শুনলে। আমরা যারা কমবেশী যারা রাজনীতি সচেতন তারা সকলেই জানি যে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন দ্বারা সরকার গঠন এবং পাঁচ বছর টানা সে সরকার ক্ষমতায় থাকায় গণতন্ত্রের বদলে ঠিক কতোটা 'গণতন্ত্রের ধর্ষন' হয়েছে! ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের বেপোরোয়া আচরণ তাদের স্ব-চিন্তার সীমাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। 'শিক্ষাব্যাবস্থা' বলে পরিচিত জাতীর মেরুদন্ডের শিকল ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে কি বিশ্রী ভাবে! ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে চাকরির পরীক্ষা পর্যন্ত ফাঁস ফাঁস আর ফাঁসে হাঁসফাঁস করে উঠছে সাধারন মানুষ। জাতীয় গ্রিডে হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন বাড়ার পরও যে এ জাতীর ভবিষ্যৎ ঠিক কতোটা অন্ধকারে তা হয়ত 'নিয়ম রক্ষার সরকার'ও অনুধাবন করতে পারছেন না। ফলে সংসদ, কার্যালয় ও রাজপথে শুধু উন্নয়নের বাণী শুনি! অনুধাবন করতে পারিনা সহজে।


ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত

অবাক হয়ে এসব দেখি। একদিকে সংসদে প্রধানমন্ত্রী জাতীর সিনিয়র সিটিজেনদের 'গাধা' বলে বেড়াচ্ছেন, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ছাত্রজোট দিনে দুপুরে নারী শীক্ষার্থীকে সকলের সামনে নগ্ন করছেন! ভিসির কাছে এর জন্য বিচারের দাবী নিয়ে গেলে, ভিসির সম্মান রক্ষার্থে তাদের উপর হামলা চালাচ্ছেন!
ভিসিকে বাঁচিয়ে রাখা এখানে পবিত্র দায়ীত্ব, দু'একটা নারী সহপাঠীর ইজ্জত ত্যামন কিছু নয়!

আমি অবাক হই এসব দেখে। সাথে ভাবি- আহারে! কী অসীম ধৈর্য্য দিয়েই না এমন গণতন্ত্রের দেশে ঈশ্বর আমাদের পাঠিয়েছেন! যেখানে সবাই প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছে। নিজের অধিকার আদায় করে নিতে ভুলে গেছে।

আপনি আমি প্রায়ই নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লাকে মনে করতে গিয়ে মীর জাফরকে গালি দিয়ে বসি। ইংরেজদের ২০০ বছরের শাসনকে জাস্টিফাই করতে 'বোকাচোদা হইলে তো পরাধীন থাকবেই' বলে পূর্বপুরুষের যাচ্ছেতাই জ্ঞ্যান করি। অথচ ভেবে দেখুন - আপনি তখন থাকলেও কি অবস্থার কোন পরিবর্তন হতো?
উত্তরটা হচ্ছে- হতোনা।
কেননা আপনি তখনো সরকারি চাকরিতে 'পুলিশ ভেরিফিকেশনের ভয়ে নিশ্চুপ থাকতেন'
আপনি তখনো 'যা হচ্ছে হোক, আমার কি' বলে চুপ থাকতেন!
আপনি তখনো 'আপনিই' থাকতেন। এখন যেমন আছেন!


ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:২৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাহমান কলমের সাহায্যে কোরআন ও বাইয়ান শিক্ষা দিয়ে থাকেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:১০



সূরাঃ ৯৬ আলাক, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন
২। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ হতে
৩। পড় তোমার রব মহামহিমাম্বিত
৪। যিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

লিখেছেন শেরজা তপন, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মাছে ভাতে বাঙালি - যায় না আর বলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫


মাছে ভাতে আমরা ছিলাম বাঙালি,
উনুন ঘরে থাকতো, রঙবাহারী মাছের ডালি
মলা ছিল -:ঢেলা ছিল, ছিল মাছ চেলা,
মাছে ভাতে ছিলাম বাঙালি মেয়েবেলা।

কই ছিল পুকুর ভরা, শিং ছিল ডোবায়
জলে হাঁটলেই মাছেরা - ছুঁয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×