somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদী আকাংক্ষা ও নিরাপত্তা মতবাদ এবং গোযওয়ায়ে হিন্দের পদধ্বনী.....

১২ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতের তেল মন্ত্রী এম ভিরাপ্পা মইলি গত বছর ১৮ই অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের এসএস৪ এবং এসএস৯ হস্তগত করার প্রাথমিক আয়োজন করার ঘোষনা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন,

"দেশের বাইরে তেল-গ্যাস সম্পদ হস্তগত করতে আমরা আরো আগ্রাসী হব। চীনকে পিছনে ফেলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।"

এছাড়া............................................................

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গত বছর ২২ নভেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সামনে "ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদী আকাংক্ষা ও নিরাপত্তা মতবাদ" পরিষ্কার করতে গিয়ে বলেন,

".............আমাদের কৌশলগত লক্ষের কেন্দ্রে থাকবে পন্য, জালানী ও খনিজের ব্যাপারে আমাদের সামুদ্রিক বাণিজ্যকে রক্ষা করা, বিশ্বজুড়ে প্রবাসী ভারতীয়দের স্বার্থরক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় পুঁজির পদচিহ্ন সম্প্রসারিত করা"

মার্কীন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের মত ভারতের কোন ঘোষিত নিরাপত্তা মতবাদ না থাকলেও মইলি ও মনমোহন সিংয়ের বক্তব্যে এর আগামীর রুপরেখা পাওয়া যায়। ঐদিন অর্থাৎ ২২ নভেম্বর মনমোহন সিং কম্বাইন্ড কমান্ডারস কনফারেন্সের সেই বক্তব্যের শুরুতে বলেন,

"অর্থনৈতিক পেন্ডুলাম পশ্চিম থেকে পূর্বে সরে আসছে।"

এ বক্তব্যের থেকে এটা স্পষ্ট যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনীতিতে চীনের উত্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের "পিভ টু এশিয়া" অর্থাৎ চীন ঘেরাও নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অনাস্থা ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আর তাই মার্কীন কতৃপক্ষের চোখে চোখ রেখে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পেরেছেন,

"ভারতের চোখ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের রাজনীতি দেখতে হবে"

ভারত খুব ভালোমতই বোঝে যে দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়ি ঘোরাতে হলে, চীন এবং রাশিয়ার স্বার্থ ভারতকে দেখতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কীন আধিপত্য খর্ব করতে হবে। আর তাই চলমান সিরিয়ান যুদ্ধের ব্যাপারে ভারতের অবস্থান মার্কীন পররাষ্ট্র নীতির বিপরীতে। ভারতের এ অবস্থান স্পষ্ট হয় ঐ দিন মনমোহন সিংয়ের বক্তব্যে। তিনি বলেন,

"পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও যুদ্ধ ভারতের জালানী নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে এবং সেখানে বসবাসরত ৭০ লক্ষ ভারতীয়র জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলবে।"

এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ব্যাপারে ভারতের আশংকা যে এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করে তুলবে এবং তাদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে। এজন্য ভারত প্রকাশ্যেই জামাতের মত মধ্যপন্থী দলেরও বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভারতের এই সাম্রাজ্যবাদী আকাংক্ষা পোষণ করার ব্যাপারে ভারত যে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও কুটনৈতিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে, একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে আমাদের হাসিনা সরকারও একই দৃষ্টিভঙ্গিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষণের এই জায়গাতে এসে হাসিনা সরকার ভুলে গেছে যে ভারতের কুটনৈতিক ও নিরাপত্তা সক্ষমতা আমাদের মত মেরুদন্ডহীন ভঙ্গুর না। আর মার্কীন পুঁজির থাবা থেকেও বাংলাদেশ এতো সহসা মুক্তি পাচ্ছেনা। আর তাই মার্কীন টুথপেষ্ট দিয়ে দাঁত মেজে ভারতীয় পানি দিয়ে কুলি করার এই আকাংক্ষা হাসিনাকে টিকফা বা রামপালের মত রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিতে অংশগ্রহনে উৎসাহিত করছে।

এই সকল রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক সিদ্ধান্ত গুলোর পিছনে যা প্রভাবক হিসাবে কাজ করছে তা হলো মার্কীন সাম্রাজ্যবাদের দূর্বল চিত্র এবং পরাশক্তি হিসাবে ভারত-চীন-রাশিয়া জোটের আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা। কিন্তু মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি ও নীরব জাগরণ বিশ্বের বর্তমান এবং সম্ভাব্য পরাশক্তি গুলোর পরাশক্তি হয়ে টিকে থাকার অথবা পরাশক্তি হবার সম্ভাবনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আলোচনার এই পর্যায়ে যদি আমরা মার্কীন যুক্তরাষ্ট্রের পরাশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশের গল্পের দিকে দৃষ্টি রাখি তাহলে দেখতে পায় যে দ্বিতীয় সারির একটা অস্ত্র বিক্রেতা দেশ কিভাবে নিজেকে পরাশক্তিগুলোর দূর্বলতার সুযোগে বিশ্ব মঞ্চে পরাশক্তি হিসাবে আবির্ভাব ঘটায়। একই প্রক্রিয়ায় যদি গোযওয়ায়ে হিন্দের উদ্ভব ঘটে এবং মুসলিম উম্মাহর বিশ্বমঞ্চে পরাশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাহলে খিলাফত প্রতিষ্ঠা হওয়ার সম্ভাবনা আর অমূলক বা ফ্যান্টাসী থাকেনা।

পরিশেষে একটা কথায় বলা যেতে পারে,

তারাও পরিকল্পনা করে, আল্লাহও পরিকল্পনা করেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী।” (সূরা আলে ইমরান ৫৪)
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×