somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাসের সিট বিড়ম্বনা ও কথোপকথন

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি বাসের পাশাপাশি সিটে দুই নারী-পুরুষের গন্ত্যব্যে যাওয়া ও কিছু কথোপকথন এমন......

নারীঃ এই যে ভাই, এতো গুলো সিট ফাঁকা থাকতে এই সিটেই কেন বসলেন আপনি?

পুরুষঃ কোন সিটে বসবো, সেটা কি আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে নাকি?

নারীঃ কেন, মেয়েদের পাশের সিট ফাঁকা দেখলে সেখানেই বসতে হবে কেন? আশেপাশে তো আরও অনেক সিট ফাঁকা আছে!

পুরুষঃ আরে, ভালো জ্বালাতো, আপনি এতো পিছনে এসে বসেছেন কেন? সামনে মেয়েদের সিটে বসলেই পারতেন?

নারীঃ আমি কোথায় বসবো সেটা কি আপনার কাছে শিখতে হবে নাকি? মেয়ে দেখলে পাশে না বসলে ভালো লাগেনা না! জত্তসব!
পুরুষঃ না লাগেনা, তাই বসলাম!

আশে পাশের অন্য সিটের যাত্রীরা এবার একটু এদিকে তাকাতে লাগলো, আড় চোখে আর কিছুটা উসখুস করতে লাগলো। কিন্তু কেউ কিছু বলল না। আর সেই দুই যাত্রীও চুপ করে গেল কিছু সময়ের জন্য।

একটু পরে আবার...... এবার সেই পুরুষঃ

পুরুষঃ এক্সকিউজমি, আপনি একটু জানালার পাশে চেপে যান-না! আমি ঠিক বসতে পারছিনা।

নারীঃ আমি আমার সিটে বসেছি, আপনার সমস্যা কি? আপনি অন্য সিটে যান, অনেক সিট ফাঁকা পরে আছে। আপনার পাশের সিটও ফাঁকা ওখানে যান, আরাম করে বসেন।

পুরুষঃ কেন আপনি যান অন্য সিটে আমি এই সিটেই যাব! আপনি চেপে বসেন।

নারীঃ কেন? চেপে বসবো কেন? আপনি আপনার কনুই সরান, গাঁয়ে লাগছে!

পুরুষঃ আপনি তো আমার সিটের অর্ধেক দখল করে নিয়েছেন, আমি কি করতে পারি?

নারীঃ তাই বলে আপনি আপনার কনুই কেন আমার গাঁয়ের সাথে লাগাবেন! ফাইজলামি নাকি?

পুরুষঃ শুনেন এক কাজ করেন......

নারীঃ কি কাজ?

পুরুষঃ আপনি আশে-পাশের মানুষকে আমার নামে কমপ্লেন করেন। যে আমি আপনাকে বিরক্ত করছি!

নারীঃ কেন কমপ্লেন করবো কেন? দরকার নাই আপনি একটু চেপে বসুন।

দুজনেই আবার চুপ, এবার আবার অন্য যাত্রীরা উশখুশ করতে লাগলো, তাকাতে লাগলো ওই নারী-পুরুষের দিকে, এঁকে অন্যদের দিকে জিজ্ঞাসু ভঙ্গিতে তাকাতে থাকলো। নারী-পুরুষ ও সেটা দেখতে লাগলো। কিন্তু চুপচাপ!

আবার শুরু হল......

পুরুষঃ আচ্ছা আপনার বাসায় কে কে আছে?

নারীঃ কেন?

পুরুষঃ না এমনি-ই জিজ্ঞাসা করলাম...!

নারীঃ সবাই আছে।

পুরুষঃ তাহলে কি.........

নারীঃ নাহ, আমার হাজবনড অনেক ভালো মানুষ।

পুরুষঃ নাহ, ভালো হতেই পারে, তবে হয়তো............!!

নারীঃ ফালতু ইঙ্গিত করবেন না......! নিজের চরকায় তেল দেন।

পুরুষঃ আমি কি এমন ইঙ্গিত করলাম, বললাম, মানে বলতে চাইলাম, হয়তো ঠিক জমছেনা আজকাল!

নারীঃ মানে, কি জমছেনা, একদম ফালতু কথা বলবেন না!

এবার আশে পাশের মানুষজন বেশ উৎসুক আর কিছুটা বিরক্তও, কিছু বলবে বা করবে কিনা তেমন অভিব্যাক্তি! কিন্তু আবার সেই দুই নারী-পুরুষ চুপচাপ! একেবারেই! কেউ কারো দিকে দেখছেও না, যে যার মতন!

আবার... এবার নারী......

নারীঃ পুরুষের গালে আলতো করে হাত ছোঁয়াল!

পুরুষঃ আঁতকে উঠে, কি করছেন?

নারীঃ কি করছি মানে? আমার যা ইচ্ছে!

পুরুষঃ ফাইজলামি নাকি, সরান, হাত সরান! দূরে যান।

এবার বাসের লোকজন ক্ষেপে উঠলো প্রায়, কিন্তু এখনো কিছু বলেনি, শুধু ফুঁসছে, ফেটে পড়বে যে কোন সময়! নারী-পুরুষ আবার চুপ! একেবারেই। নেই কোন কথা, কোন চাহুনি কারো দিকে! আজব!

এবার আবার পুরুষ......

পুরুষঃ চলেন বাসায় যাই!

নারীঃ মানে? কোথায় বাসায়? কার বাসায়?

পুরুষঃ আমার বাসায়! চলেন যাই!

নারীঃ না, আমি কেন আপনার বাসায় যাবো? আমি আমার কাজ শেষ করে আমার বাসায় যাব।

পুরুষঃ আজকে না হয় আমার বাসায়-ই গেলেন...!!

নারীঃ নাহ যাবনা............

এই বার লোকজন হইহই করে উঠতেই, একটু জ্যামে বাস থামলো আর নারী-পুরুষ দুইজন একই সাথে এই নামার জায়গা চলে এসেছে, চলে এসেছে......

পুরুষঃ ভাই একটু স্লো করেন, নামবো মহিলা আছে সাথে...!

নারীঃ ড্রাইভারকে ভাই একটু সাইড করেন, নামবো তো?

হেল্পারঃ ওস্তাদ মহিলা আছে, নামাইয়া দেন।

পুরুষটি আগে নামলো...

মহিলা গেটে গিয়ে রাস্তায় বাম পা বাড়াল...

পুরুষটি নেমে তার ডান হাত বাড়িয়ে দিল...!

মহিলা তার বাম হাত পুরুষটির ডান হাতে রেখে বাস থেকে নামলো...!!

বাস থেকে উৎসুক যাত্রীরা জানালা দিয়ে গলা বাড়িয়ে দেখতে লাগলো, আহাম্মকের মত! আজব কোন ঘটনা!

রাস্তা থেকে বাসের অন্যসব যাত্রীদের এই অদ্ভুত আর কিংকর্তব্যবিম্বুঢ় চেহারা দেখে সেই নারী-পুরুষ হেসেই কুটিকুটি!

কারণ? তারা দুজনেই এঁকে-অন্যের সঙ্গী আর সঙ্গিনী! বাসে উঠেছিল একেবারেই বাস ছাড়ার শুরুতে, দুজনেই, আর কোন যাত্রী তখন ছিলনা সেই বাসে।

যেটা বাসের হেল্পার আর ড্রাইভার জানতো!

কেমন হল...............!!!

শুক্রবারের রম্য...!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৫৬
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমুদ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

আমুদ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সে এক রাজ্যে রাজার রাজকন্যা
তাঁর রূপ, লাবণ্য, গড়নে মুগ্ধ!
সে বিকশিত গুণবতী
তাকে দেখে জাগে মনে প্রীতি!

তাঁর খুব রাগ কিন্তু মায়াবতী
তাকে দেখলে উদ্ভূত হয় প্রেম রাতারাতি।
সে উড়ে নীল আকাশে
আমি কাতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×