somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্য আনন্দের গল্প.........

০২ রা মার্চ, ২০১৬ সকাল ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবা বিছানায়, পিঠের নিচে বালিশ দিয়ে খাটে হেলান দিয়ে, পত্রিকা মুখের উপরে ধরে অফিস শেষের সন্ধার বিশ্রামে। পাশে ধোঁয়া ওঠা কফি, কানে নজরুল সঙ্গীতের আবেগে ভেসে যাওয়া। “চুপি চুপি শিয়রে বসে চুমিলে নয়ন, মোর বিকোশিল আবেশে তনু” অনেক বেশী-ই প্রিয় একটা গানে তখন নিমগ্ন!

মা অফিস শেষে, বাসায় ফিরে, চা শেষ করে, ছেলেকে আর স্কুলের পড়া নিয়ে বসেছে। বাংলা-ইংরেজি-আঁকাআঁকি শেষ করে, রান্না ঘরের দিকে যেতে যেতে...... ছেলের বাবার উদ্দেশ্যে......

শুধু অফিস, বাজার আর বাসাভাড়া দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলেই চলবে, সংসারের দিকেও একটু মনোযোগী হতে হয় যে? ছেলে বড় হচ্ছে, স্কুলে যাচ্ছে, পড়ালেখার পরিধি বাড়ছে, সব কিছু কি আর আমি একা পারি?

বাবা- এতো কথা না বলে, কি করতে হবে সেটা বললেই তো হয়? আগে দেখো করি কি না করি! তারপর নাহয় কথা শোনাও!

মা- আচ্ছা ঠিক আছে ছেলের অংকটা একটু দেখো তো! এই বয়সে স্কুলে আবার অংকও আছে!

মাঝখান থেকে ছেলে বলে উঠলো এখন সে টিভি দেখতে যাবে, সে আজ আর পড়বেনা, তার পড়া শেষ।

মা ভীষণ অবাক হয়ে, ছেলেকে কিছুটা তিরস্কার করে বলল, “কেনো ম্যাথ তো দেখিনি এখনো, ওটা করতে হবেনা? আগে বাবার কাছে ম্যাথটা দেখে নাও, ম্যাথটাই আসল, ওটা ভালো করে করে নাও, তারপর তোমার ছুটি!’

ছেলে- না মা, ম্যাথ লাগবেনা! ম্যাথ আমি আমি আগেই করে রেখেছি! ম্যাথতো খুবই সোজা! আমি সব পারি!!

এবার মা আর বাবা দুজনেই হতবাক, স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ হয়ে দুজন দুজনের দিকে তাকালো, যেন পৃথিবীর ৮ম আশ্চর্য দেখছে বা তার কথা শুনছে। বেশ কয়েক মুহূর্ত মা-বাবা দুজনেই নির্বাক হয়ে রইলো ছেলের কথা শুনে!

কেন এই কথা শুনে এতো এতো হতবাক হবার কি আছে? ম্যাথ ছেলের কাছে কোন ব্যাপার নয়, তাতে এতো আশ্চর্যের কি আছে?

কি আছে এতো আশ্চর্যের...... দু-তিনটি উদাহারন না দিলেই সেটা বোঝা যাবেনা! তবে কি সেগুলো? শুনি...

মা-বাবা দুজনেই গনিতে টিটিএমপি!!! (টেনে-টুনে ম্যাট্রিক পাশ!) মায়ের কথা না হয় বাদই দেয়া যাক, শুধু বাবার উদাহারনই শোনা যাক।

একঃ বাবা নবম শ্রেণীতে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ৩ পাওয়াতে পরের তিনমাস আর স্কুলে যায়নি! কারণ স্কুলে গেলে আর গনিত শিক্ষকের সামনে পরলে ৯৭ টি বেতের বারি খেতে হবে দুই হাতেই! কারণ সেই স্কুলের গনিত শিক্ষকের নিজস্ব নিয়ম ছিল ১০০ এর চেয়ে যত কম পাবে, ততগুলো বেতের বারি খেতে হবে! সুতরাং ৯৭ টা বেতের বারির চেয়ে স্কুলে যা যাওটাকেই শ্রেয় মনে করেছে!!

আর পুরো ৯ম আর ১০ম শ্রেণীর সবগুলো গণিত পরীক্ষা মিলিয়ে পেয়েছিল ০৯!! (নয়) হ্যাঁ, ঠিক-ই পড়েছেন ৯-ই পেয়েছিল!!! বাকিটা তো ইতিহাস! কোন মতে টিটিএমপি করে আর কোনদিন গনিতের গণ্ডির আশেপাশেও যায়নি!

দুইঃ কোন মতে দুইটা ডিগ্রী নিয়ে চাকুরীতে প্রবেশ করতেই, গনিত না হোক, অন্তত অফিসে যোগ বিয়োগ তো করতেই হবে। সেখানেই তার নার্ভাসনেস এমন পর্যায়ের যে, এক্সেল সিটে যোগ করে ৮+৪=১২ হয়ে যাবার পরেও, ম্যানুয়ালি ১২ এর জায়গায় ১৩ বসায়! এরপর আর যায় কোথায়? বসের প্রিয় অধস্তন কর্মীও সেদিন থেকে বসের সবচেয়ে চক্ষুশূল হয়ে যায়!! খুব স্বাভাবিক ভাবেই।

তো এই হল ছেলের বাবার গনিতের পারদর্শিতা, সেখানে সেই বাবার ছেলে যদি বলে যে ম্যাথ কোন ব্যাপারই না! ওটাতো খুবই ইজি! আমি সব পারি, সব করে ফেলেছি!! সে যত ছোট ম্যাথ আর যত কম অংকেরই হোকনা কেন, এরচেয়ে আনন্দের আর উচ্ছ্বসিত হবার আর কোন কারণ সেই মুহূর্তে অন্তত আর নেই! হতেই পারেনা।

যে কারণে সেই মা-বাবা ছেলের গনিতে ভীতিহীনতার কথা শুনে হয়েগিয়েছিল হতবাক-স্তব্ধ আর বাকরুদ্ধ!

তাই সেই মা-বাবার কাছে ছেলের গণিতের প্রতি সহজ বোধ্যতা বা বন্ধুতা.........

এক অন্য আনন্দের গল্প.........।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১৬ সকাল ৯:৫৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×