
আবারো নতুন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানী আমীর হোসেন। তার নাম ইন্জিন চালিত পালকী। কিছুদিন আগে তার একটি জ্বালানী বিহীন মটর গাড়ি আবিষ্কারের কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আজ আবার তার নতুন একটি আবিষ্কার আপনাদের সামনে তুলে ধরব। এবার আবিষ্কার করলেন পালকীর বিকল্প অটো পালকী। কি আছে এতে আসুন দেখি নিই একবার!
আপনারা যারা এখনো বিয়াসাদী করননি ছেলে বা মেয়ে, তারা সবাই এই অটো পালকিতে চড়ে বিয়া করতে পারেন। আর যারা ডেকোরেটর ব্যবসা করেন, তারাও এই অটো পালকি কিনে ব্যবসা করতে পারেন।
কি থাকছে আমীর হোসেনের এই পালকীতে-
পালকীর ছোট একটি ইতিহাস আগে জেনে নিই-
এক সময় কাঠের পালকি না হলে বিয়েই হতো না। ৩ জন করে বিয়ারা থাকতো। তাদের পোশাক ছিল লাল ফতুয়া এবং হাতে থাকতো লাঠি এবং লাঠির মাথায় থাকতো বল্লম। পরনে সাদা ধুতি, মাথায় গামছা বাঁধা থাকতো। বড় বড় গোঁফ। তাতে সরিষার তৈল মাখাইয়া গোঁফ পেঁচাইয়া রাখতো। পালকি চলমান অবস্থায় তাদের মুখে বুলি ছিল হু-হুম না, হু-হুম না। বর-কনে দু’জনই পালকিতে চড়ে বসে থাকতো। পালকিটি দু’জানালাবিশিষ্ট কাঠের তৈরি। জানালায় থাকতো পাতলা লাল-রেশমি কাপড়। পালকিটি যারা বহন করতেন তারা সংখ্যায় ৮জন। ৬ জন নিয়মিত বহন করতেন। আর ২ জন কাঁধ বদল করার জন্য রেডি থাকতো। এভাবে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়ার ব্যবস্থা হতো। এই পালকি করে জমিদার-জমিদারণীরাও বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শনের জন্য যেতেন। কারণ, এই পালকি ছিল তাদের বাহন। আজ তা প্রায় বিলুপ্তের পথে। এখনকার প্রজন্ম জানেই না বা দেখেওনি পালকি জিনিসটা কি বা কোন কাজে ব্যবহার হয়। তা দেখতে কেমন!
এবার নতুন যুগের পালকী-
তাই নতুন রূপে চাকা লাগায়ে ইঞ্জিনের সঙ্গে সেটিং করে ৩ থেকে ৪শ’ বছরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পালকি ২০১৪ সালের অটো পালকি রূপে ফিরিয়ে এনেছে বগুড়া তথা দেশের আলোচিত যন্ত্রবিজ্ঞানী আমির হোসেন। অটো পালকির চালানোর জন্য হারিয়ে যাওয়া স্টিম ইঞ্জিনে আদলে তৈরি করা হয়েছে। সেই আমলে কয়লা চালিত রেলগাড়ি এখনকার প্রজন্মরা দেখেনি কিভাবে ধোঁয়া বের হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। সেই গাড়িটা নির্ভুল ভাবে তৈরি করেছেন আমির হোসেন।
সরকারী সহযোগীতার অভাবে আমীর হোসেনের আবিষ্কার বিশ্বের দরবারে মুখ তুলে তাকাতে পারছেনা। একটু সরকারী সহযোগীতা পেলে বাংলাদেশের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা যেমন উপরে উঠে আসবে তেমনি বাংলাদেশের মুখ্ও বিশ্ব পরি মন্ডলে উজ্জল হবে। বাংলাদেশের সবকিছু নিয়ে রাজনীতি না করা হোক। কারণ আমাদের দেশের রাজনীতি আমাদেরকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা দেখছি অন্ধকার ভবিষ্যত, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। আসুন সবাই দেশের কথা ভাবি, দেশের জনগনের কথা ভাবি। আমরা অসুস্থ রাজনীতি চাই না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


