somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সালমা রহমান
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার সর্বদা।

"এক নীল ছোঁয়া কিংবদন্তী বিপ্লবী হেনা দাস"

২২ শে জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"জাগো জাগো সর্বহারা, সনাতন ও বন্দি কৃতদাস
শ্রমিক দিয়াছে আজি সাড়া
উঠিয়াছি মুক্তির আশায়........ মোরা মিলি একসাথ।"

কমিউনিস্ট পার্টির সন্মেলন আর হেনা দাসের গাওয়া এই গান, যেন একই তন্ত্রীতে ধ্বনিত বারংবার।২০০৯ সালের ২০ শে জুলাই তার জীবনাবসান ঘটে, সেদিন থেকে হঠাৎ করেই আমরা হয়ে গেলাম উদ্বাস্ত, আশ্রয়হীন।

অবিভক্ত বাংলার নারী আন্দোলনকে যারা অগ্রসর করে ন্রিয়ছেন, তাদের মধ্যে হেনা দাস অন্যতম। সিলেটে ১৯২৪ সালের ১২ ই ফেব্রুয়ারী তার জন্ম। ভারতীয় উপমহাদেশে ত্রিশের দশক ছিল বিক্ষোভ, বিদ্রোহ আর আন্দোলনের সূচনাকাল। নবম ও দশম শ্রেনীতে পড়ার সময়ই প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।১৯৪০ সালে ম্যাট্রিক পাশ করার পর তিনি সুরমা ভ্যালি গার্লস স্টুডেন্টস কমিটি গঠনের কাজে যুক্ত হন।১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। একই বছরের আগস্টে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি আইনসঙ্গত বলে ঘোষিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে সারাদেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট বাড়তে থাকে, দেখা দেয় ভয়ঙ্কর মন্বন্তর ( বাংলা ১৩৫০)। একদিকে ফ্যাসিস্ট শক্তির আক্রমন প্রতিরোধ করার প্রশ্ন, অন্যদিকে আত্মরক্ষার প্রশ্ন। ওই অবস্থায় সারা বাংলায় গড়ে উঠে নতুন মহিলা সংগঠন 'মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি'। সিলেটে এই সংগঠনের নেতৃত্ব দেন হেনা দাস। নারী আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি গননাট্যেরও নেতৃত্ব দেন। জনগন বিপুল ভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল সেই নতুন ধরনের সাংস্কৃতিক চেতনায়। সে সময় কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে এবং উদ্যোগে সারা ভারতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন প্রগতিশীল ধারার সৃস্টি হয়েছিল। এ ধারা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রবল জোয়ারকে নতুন রসে সঞ্জীবিত করেছিল। ১৯৪৬ সালে সিলেট জেলায় ছাত্র আন্দোলনকে আরো জোরদার করার কাজে যোগ দেন হেন দাস। ১৯৪৪ সালে তিনি বি,এ পাশ করেন। ১৯৪৮ সালে রোহিনী দাসের সঙ্গে হেনা দাসের বিয়ে হয়। রোহিনী দাস ছিলেন সিলেট জেলায় কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেতা। দুইজনের চিন্তায় আরো ঋদ্ধ হয়েছে তৎকালিন সমাজ। স্বাধীনতা আন্দোলনের পাশাপাশি হেনা দাস যুক্ত হয়েছিলেন নানাকার আন্দোলনের সঙ্গে। নানাকার নারীদের সচেতন করে তোলা ও আন্দোলন সংগঠিত করার দায়িত্বে ছিলেন হেনা দাস।
১৯৫০ সালে মুসলিম লীগ সরকারের উস্কানিতে পূর্ব পাকিস্তানে দাঙ্গা বাধানো হয়েছিল। তখন ঢাকাতেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলছিলো। এ সময় তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ১০ বছর আত্মগোপন থাকার পর হেনা দাস শিক্ষকতায় ফিরে আসেন ১৯৫৮ সালে। শুরু হয় নতুন জীবন। এরপর ৬৯ এর গন- অভ্যুত্থান এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য।
তার জীবনাবসানের এক বছর পেরিয়ে গেছে গত কিছুদিন আগে, কিন্তু তার প্রতি, তার কাজের প্রতি আমরা কতোটুকু সন্মান প্রদর্শন করতে পেরেছি। তাকে নিয়ে কোনো স্মারক গ্রন্থ আমার জানা মতে এখনো প্রকাশিত হয়নি। অথচ তিনি আমাদের জন্য এক অনির্বাণ অনুপ্রেরনা। হেনা দাস আজো আমাদের স্মৃতিতে- কর্মে উজ্জ্বল হয়ে আছে, এক নীল ছোঁয়া কিংবদন্তীর মতো।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক
কৃজ্ঞতায়: গোলাম রসুল মারুফ
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্থ ইসরায়েলি জনপদ!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২



সুরা আ’রাফের ৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে,”আর এমন বহু জনপদ রয়েছে, যা আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। তখনই আমাদের শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল রাতে অথবা দুপুরে যখন তারা বিশ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×