somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোপনে চুপচাপ বাঁচতে চাই (গল্প)

১১ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(১)
ধেৎ ! আর ভাল্লাগছে না । ঘন্টাখানেকও তো হল না কম্পিউটার-স্ক্রিনের সামনে বসেছি । তবুও কেন জানি ভিতরে অস্বস্তি শুরু হয়ে গেছে । ইদানিং কেন জানি কাজে মনই বসতে চাচ্ছে না । অথচ ওই যে ছেলেটা— এদিক ওদিক একদম দৃষ্টি নেই; কাজে ডুবে আছে । খুব মনোযোগী । মাত্র সপ্তাহখানেক হল জয়েন করেছে । এরই মধ্যে বসের একটা বিশেষ সন্তুষ্টির জায়গা দখল করে নিয়েছে । আর আমি ? ছয় মাস আছি এখানে । সন্তুষ্টি তো দূরের কথা— এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার রেড ওয়ার্নিং পড়েছে । মুটকো শালার মুখে খালি একই বাক্য— ‘সিরায়াস্‌ হোন মাসুদ সাহেব, আরো সিরিয়াস হোন— আরো এক্টিভ হোন ।’ কী যে জিদ চাপে তখন ! মন চায়, চাকরির কপালে লাত্থি মারি ।
অসহ্য লাগছে বসে থাকতে ! ক্যান্টিন থেকে ঘুরে আসা যাক । সিগারেটের নেশাটাও ঠোঁটের আঙিনায় এসে ভীষণ সুড়সুড়ি দিচ্ছে । ঘুরে আসা যাক । একা ? একা যেতে ভাল্লাগছে না । ছেলেটাকে ইনভাইট করলে কেমন হয় ? না, না— ডিস্টার্ব ফিল করতে পারে । আলাপ-টালাপও তেমন হয় নি এখনো । কেমনে হবে ? যখনই তাকাই, ব্যাটা মনে হয় চৈতন্যদেবের মত গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়ে আছে । নাহ, যথেষ্ট ইয়াং ছেলে— এখুনি যদি এমন কাজ কাজ করে মরে, ব্যাটা লাইফের আসল মজাটার সন্ধান পাবে কখন । লাইফে সাইন করতে হলে ক্যারিয়ারের প্রতি সুদৃষ্টি থাকা দরকার । তাই বলে ওটাই সব নয় । জীবিকার তাগিদে গোটা জীবনটাকে বিসর্জন দেওয়ার কোন মানে হয় ! জীবনটাকে এত ক্ষুদ্র সংকীর্ণ জায়গা থেকে দেখার দলে আমি অন্তত নই । এই ছেলেটার মগজের ভিতরে নিশ্চয়ই কোন কূপমন্ডূক ওই ধারণাই ঢুকিয়ে দিয়েছে— উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরকে ছোঁয়া চাই । আর তার জন্য চাই, কাজ— শুধু কাজ । পরিশ্রম ও উদ্যম— দুটোর সমন্বয়ে কাজ । ওসব বন্ধু-গল্প-আড্ডা-মজা-মাস্তি আজে বাজে দিকে একদম মন দেওয়া যাবে না ।
ছেলেটাকে ওইসব ব্যর্থ চিন্তা-চেতনার বন্দিশালা থেকে মুক্ত করে আনা চাই । সমস্ত রকমের সংকীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে জীবনের মুক্ত আঙিনায় এসে দাঁড়াক । দেখুক, বুঝুক, শিখুক— এই ক্ষুদ্র জীবনের প্রকৃত সার্থকতাটা কোথায় ?
(২)
আমি ছেলেটার দিকে পা বাড়ালাম । ওর ডেস্কের কাছাকাছি আসতেই মাথা তুলল । একটু হাসল । নিঃশব্দ হাসি ।
‘কেমন আছেন মাসুদ ভাই ?’ ছেলেটার মুখে এখনো হাসি লেগে আছে । হাতদুটো ওর ঠিক-ই কম্পিউটারের কী-বোর্ডে ।
‘ভালো নেই মিস্টার ! আমাকে দিয়ে সত্যিই মনে হয় এসব চাকরি-বাকরি হবে না । বড্ড অস্বস্তিতে ভুগছি । এই চার দেয়ালের অফিসঘর, চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার— কী যে অসহ্য লাগছে ইদানিং জানো !’
‘কেন ভাই ? পারিবারিক কোন জটিলতা ? বিয়ে-টিয়ে তো এখনো করেন নি ।’ ছেলেটার মুখে বেশ কৌতূহল । কী-বোর্ড থেকে হাতটা সরিয়ে নিল ।
‘আরে নাহ্‌— ওসব ফ্যামিলি-কেন্দ্রিক ফাউল চিন্তা আমি করি না । মনটা বড় বাউণ্ডেলে বুঝলা । সারাদিন এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করে । আড্ডার নেশাটাও আমার প্রবল, সেই কলেজ লাইফ থেকে । ভার্সিটি লাইফে এসে তো শুধু পলিটিক্সের পিছনেই দৌঁড়ালাম । কত ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশেছি, কত জীবনের উত্থান দেখেছি, পতনও দেখেছি অনেক । তবুও সর্বক্ষণ ভিতরটায় এক চরম অতৃপ্তি— যেন আরো অনেক কিছু দেখা এখনো বাকি । শুধু ছটফটাচ্ছে, ভিতরে একটা বাউণ্ডেলে মন সর্বক্ষণ ছটফটাচ্ছে ।’
দেখলাম বিশেষ আগ্রহ নিয়েই আমার কথাগুলো ও শুনছে । এই মুহূর্তে ক্যান্টিন থেকে ঘুরে আসার নিমন্ত্রণটা নিশ্চয়ই করা যায় ।
‘ আমি কিন্তু একদমই আপনার বিপরীত । আপনার মত আমার পৃথিবীটা অত বিস্তৃত নয় । বড় ক্ষুদ্র পৃথিবীতে আমার বসবাস । ছোট বোন মিলি , মা আর বাবা— এটাই আমার পৃথিবী । এর বাইরে যা কিছু আছে— ওসব নিয়ে আমার একদম মাথা-ব্যথা নেই ।’ সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে কথাগুলো বলল ছেলেটা । আমি কোন রিপ্লাই না দিয়ে চুপ হয়ে আছি । আমি ওর সম্পর্কে পূর্বে যা অনুমান করেছি তার মধ্যে কিঞ্চিত ভুলের চিহ্ন খুঁজে পাচ্ছি । ও কাজ-পাগল হলেও পুরোপুরি কাজ-পাগল নয় । কাজের ফাকে টুকটাক গল্পগুজবের প্রত্যাশা থেকেই তো নিঃসঙ্কোচে আমার সাথে বেরিয়ে এসেছে । তবে বুঝাই যাচ্ছে, ফ্যামিলির প্রতি ছেলেটার বিশেষ একটা কর্তব্যবোধ আছে । এই ধরনের ছেলেকে আমাদের সমাজে কমবেশি সবাই পছন্দ করে । যদিও এরা সমাজ নিয়ে কখনো খুব মাথা ঘামায় না । আমৃত্যু এরা ‘পরিবার’ নামক বৃত্তের মধ্যেই পড়ে থাকে ।
(৩)
ক্যান্টিনে পৌঁছতেই নিঃশব্দতা ভেঙে বললাম, ‘ সিগারেট খাও ?’
‘তেমন না । টুকটাক ।’
‘এখন চলবে ?’
‘হুম । নিতে পারেন ।’
সিগারেট ধরালাম । দুজনেই । ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ছেলেটা বলল, ‘জানেন মাসুদ ভাই , এই চাকরিটা না পেলে আমি হয়ত আত্মহত্যা করতাম ।’
‘কেন ?’
‘খুব দুঃসময় পার করছিলাম । সদ্য মাস্টার্স শেষ করে বেকার । চাকরির সন্ধানে ঘুরছি দুয়ারে দুয়ারে । কিছুতেই কিছু হচ্ছে না । বাবা রিটায়ার করেছেন বছরখানেক হল । ছোটখাট চাকরি করতেন । অবসর ভাতা যা পেয়েছেন সবটাই চলে গেছে মায়ের চিকিৎসায় !
‘কী অসুখ হয়েছিল মায়ের ?’
‘মা দুবার হার্ট এটাক করেছেন । বোনটিরও ইউনাভার্সিটি ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে আসছিল । যাক, অবশেষে খোদার মেহেরবানি— চাকরিটা মিলল ।’
সিগারেটে টান মেরে একটা প্রশান্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল ও ।
হ্যাঁ , এতক্ষণে কিছুটা বুঝা গেল কাজ নিয়ে ওর সিরিয়াসনেসের রহস্য । না, এটা অন্যায় নয়— কর্তব্যবোধ থেকে কেউ যদি নিজেকে অন্যের জন্য বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকে । হোক সেটা আপন কারো জন্য কিংবা পরের জন্য ।
আমার ধারণা তো কেবল পাল্টেই যাচ্ছে । ওকে শিখাতে এসে আমি নিজেই ওর কাছ থেকে শিখছি ।
হঠাৎ ক্যান্টিনের চৌদ্দ ইঞ্চি কালার টিভিটার দিকে আমার দৃষ্টি পড়ল । ব্রেকিং নিউজ : নির্দলীয় নিরেপক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের টানা ৭২ ঘন্টা হরতাল ঘোষণা ।
‘এইসব হরতাল-ফরতাল দিয়ে এই সরকারের টনক নড়ানো যাবে না । খামোকাই দেশের গরীব-নিরীহ মানুষগুলার ভোগান্তি ।’ কথাগুলো বলে আমি ছেলেটার দিকে দৃষ্টি ফেরালাম । প্রতিক্রিয়া জানানো তো দূরের কথা— আমার কথা সে শুনেছে কিনা সন্দেহ । সে অন্যমনস্ক ।
‘মিস্টার, ৭২ ঘন্টা হরতাল ! দেশের রাজনীতির কী হালচাল বুঝো ।’ আমি ওর মনোযোগ এদিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করলাম ।
ছেলেটা একটু হাসল । তারপর বলল, ‘রাজনীতি ব্যাপারটা যে কী— আমি একদম বুঝি না । বুঝার চেষ্টাও করে নি কখনো । এই ব্যাপারটা নিয়ে আমার ইন্টারেস্ট জিরো ।’
‘কিন্তু আমি তুমি— কেউই তো রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন নই । প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে এটা তো আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করেই চলেছে । দেখুন, ৭২ ঘণ্টা হরতাল ! এটা কি তোমার জীবনে কোনো প্রভাবই ফেলবে না মনে কর ? প্রতিদিন তুমি যেমন স্বাভাবিক গতিতে অফিস থেকে বাড়ি ফিরো, আজ কি সেই গতিটা একটু হলেও কি অস্বাভাবিক হয়ে উঠবে না ? এতটা রাজনীতি-বিমুখ...’
আমি কথাটা শেষ না করতেই ও বলল, ‘দেখুন মাসুদ ভাই । আমি হয়ত আপনার মত অতটা বুঝি না । আসলে, রাজনীতি ব্যাপারটাই আমার কাছে কেন জানি হই-হট্টগোল, কাঁদা-ছুঁড়াছুঁড়ি, খুন-খারাবি— ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না । গোপনে চুপচাপ বাঁচতে চাই ।’
আমি চুপ হয়ে গেলাম । যার যেটার প্রতি আগ্রহ নেই, সেটা নিয়ে আলোচনা বৃথা । আগ্রহ জাগা তো দূরের কথা, বরং বিরক্তির উদ্রেক ঘটে । বিলটা মিটিয়ে দিয়ে আমরা উপরে উঠে যে যার কাজে মন দিলাম।

(৪)
রাত ৮টার আগেই অফিস থেকে ফিরলাম । বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসেই টিভির সুইচটা অন করলাম । ব্রেকিং নিউজ : মতিঝিলে লোকাল বাসে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ ২১; নিহত ৯ ।
খুব একটা চমকে উঠলাম না । এ আর নতুন কী ! বরং হরতাল-অবরোধে এরকম ঘটনা এখন খুব স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছি । বরং এমনটা না ঘটলেই সবাই বিস্মিত হয় ।
মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল । স্ক্রিনে দৃষ্টি নত করতেই নামটা দেখতে পেলাম— সুমন । আমার আরেক কলিগ । হঠাৎ এই সময়ে !
সুমন এইমাত্র আমাকে যে নিউজটা দিল— শুনতেই গা শিউরে উঠল ! সত্যিই ছেলেটা নেই ! ওই যে সেই ছেলেটা— রাজনীতি নিয়ে যার ইন্টারেস্ট জিরো; গোপনে চুপচাপ বাঁচতে চেয়েছিল যে । আর বাঁচল কই ! রাজনীতির পেট্রোল বোমা তাকেও ঝলসে দিল !
মৃত দগ্ধ ছেলেটাকে সেই রাতে তার বাসায় দেখতে গিয়ে তার মুখের পাশে আরো কয়েকটা ঝলসানো মুখ দেখলাম; অশ্রুর আগুনে ঝলসানো সেইসব প্রিয় মুখ !
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×