somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিড়িয়াখানা

১৭ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৫:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মূল গল্প: এডওয়ার্ড ডি হচ

আগস্ট মাস আসলেই শিশুদের মন আনন্দে ভরে উঠে। বিশেষ করে তেইশ তারিখ নিকটবর্তী হলে তো কথাই নেই। প্রত্যেক বছর আগস্টের তেইশ তারিখে প্রফেসর হুগোর আন্ত:গ্রহ চিড়িয়াখানা শিকাগোতে উপস্থিত হয়। রুপালি রঙের বিশাল মহাকাশযানটা একটা বেশ বড় পার্কিং এরিয়াতে এসে নামে। প্রত্যেক বছর ছয় ঘন্টার জন্য যানটা সেখানে অবস্থান করে।
সূর্য উঠার অনেক আগে থেকেই লোকজন ভিড় জমাতে শুরু করে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবালবৃদ্ধবনিতা হাতে এক ডলার নিয়ে প্রফেসরের আন্ত:গ্রহ চিড়িয়াখানা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। এই বছর প্রফেসর নতুন কোন প্রাণি আনবেন সেটা দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে থাকে।
পূর্বে তারা শুক্র গ্রহ থেকে আনা তিন পায়ের প্রাণি দেখেছে। মঙ্গল গ্রহের লম্বা চিকন মানুষও দেখেছে। আবার অনেক দূরের কোন গ্রহ থেকে ধরে আনা সাপের মত ভয়ঙ্কর প্রাণিও দেখেছে।
এই বছর রুপালি মহাকাশযানটা যখন শিকাগোর বাইরে অবস্থিত বিশাল পার্কিং এরিয়ায় নামল, শিশুদের মনে ভয় ঢুকল। তারা মহাকাশযানের দরজা খুলে যেতেই খাঁচার মোটা শিকগুলো দেখতে পেল। খাঁচার ভিতরে কিছু বন্য, ছোট ছোট ঘোড়ার মত প্রাণি ছুটাছুটি করছে, তীক্ষ্ণ স্বরে চেঁচাচ্ছে।
পৃথিবীর নাগরিকেরা মহাকাশযানের চারপাশে ভিড় করতেই প্রফেসরের ক্রুরা দ্রুত ভাড়া তুলতে লাগল। শীঘ্রই প্রফেসর নিজে হাজির হলেন। উনি একটা রঙচঙে জামা পরে আছেন, মাথায় একটা লম্বা হ্যাট।
"পৃথিবীবাসী," উনি মাইক্রোফোনে বলে উঠলেন। কোলাহল থেমে গেলে উনি আবার বলতে লাগলেন। "পৃথিবীবাসী, এই বছর আমরা এমন এক জাতের প্রাণি নিয়ে এসেছি যেটা দেখে আপনারা স্বীকার করবেন যে আপনাদের এক ডলার উসুল হয়েছে। এরা প্রাণিগুলো আপনাদের অপরিচিত কান গ্রহের ঘোড়া-মাকড়সা অধিবাসী। শত শত আলোকবর্ষ দূরের গ্রহ থেকে এদের নিয়ে এসেছি আমরা। কান গ্রহের আশ্চর্যজনক ঘোড়া-মাকড়সা অধিবাসীদের দেখুন। ওদের কথা শুনুন, ওদের নিয়ে গবেষণা করুন। আপনার বন্ধুদের এদের কথা জানান। কিন্তু দ্রুত করতে হবে! মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য আমার মহাকাশযান এখানে থাকবে!"
সাথে সাথে লোকজন লাইন ধরে ভয় আর বিস্ময় নিয়ে প্রাণিগুলোকে দেখতে লাগল। অদ্ভুত প্রাণিগুলো দেখতে প্রায় ঘোড়ার মত কিন্তু মাকড়সার মত খাঁচার দেয়াল বেয়ে উঠানামা করতে পারে। "আসলেই এক ডলার উসুল হয়েছে।" একজন মন্তব্য করল। "আমি বাসায় গিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে আসব।"
পুরোটা সময় জুড়ে এভাবেই চলল। শেষ পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার পৃথিবীবাসী মহাকাশযানের খাঁচাগুলো দেখেছে। এরপর নির্ধারিত ছয় ঘন্টা সময় শেষ হতেই প্রফেসর হুগো আবার মাইক্রোফোনটা হাতে নিলেন।
"এবার আমাদের যেতে হবে," প্রফেসর বললেন। "কিন্তু আগামী বছর একই সময়ে একই জায়গায় আবারও আমরা হাজির হব। এ বছরের আন্ত:গ্রহ চিড়িয়াখানা যদি আপনাদের ভাল লেগে থাকে, তাহলে আপনাদের অন্য শহরের বন্ধুদের ফোন করুন, তাদেরকে চিড়িয়াখানা সম্পর্কে জানান। আগামীকাল আমরা নিউইয়র্কে যাব। এর পরের সপ্তাহে আমরা লন্ডন, প্যারিস, রোম, হংকং আর টোকিওতে যাব। তারপর আমাদের অন্য গ্রহগুলোতে যেতে হবে!"
প্রফেসর সবাইকে বিদায় জানালেন। আর মহাকাশযানটা উপরে উঠতে থাকলে নিচের পৃথিবীবাসী সিদ্ধান্তে পৌছাল যে এবারের চিড়িয়াখানাটা সবচেয়ে ভাল ছিল...
দুই মাস পর তিনটা গ্রহ ঘুরে প্রফেসর হুগোর রুপালি মহাকাশযানটি কান গ্রহের পাথুরে মাটিতে নেমে আসলো। ঘোড়া-মাকড়সার মত প্রাণিগুলো দ্রুত খাঁচা থেকে বের হয়ে গেল। প্রফেসর হুগো তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বললেন। এরপর প্রাণিগুলো পাথরের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দিকে নিজ নিজ বাসস্থানের দিকে চলে যেতে লাগল।
এরকমই একটা বাসস্থানে মহিলা প্রাণিটি তার স্বামী-সন্তানকে ফিরে আসতে দেখে খুব খুশি হল। সে অদ্ভুত এক ভাষায় স্বামীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের সন্তানকে জড়িয়ে ধরল। "কত দিন পর ফিরলে!" মহিলাটি বলল। "তা কেমন লেগেছে?"
পুরুষ প্রাণিটি মাথা দোলাল। "আমাদের সন্তান বেশি উপভোগ করেছে," সে বলল। "আমরা আটটা দুনিয়া ঘুরেছি আর অনেক কিছু দেখেছি।"
ছোট বাচ্চাটা গুহার দেয়ালের উপর দৌড়াতে লাগল। "পৃথিবী নামের জায়গাটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে। ওখানকার প্রাণিগুলো গায়ের উপর কাপড় পরে আর দুই পায়ে হাঁটে।"
"বিপজ্জনক কিছু হয়নি তো?" মহিলাটি জানতে চাইল।
"নাহ," পুরুষটা উত্তর দিল। "আমাদের রক্ষা করার জন্য মোটা মোটা শিক লাগান ছিল। আমরা মহাকাশযানের ভিতরেই ছিলাম। এরপর তোমাকেও নিয়ে যাব। সত্যি, উনিশ কমক্স উসুল হয়ে গিয়েছে।"
ছোট বাচ্চাটা মাথা দোলাল। "এটা ছিল আমার দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ চিড়িয়াখানা..."
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৫:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×