somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই রিভিউ: The Three by Sarah Lotz

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটা আর্টিকেলে পড়েছিলাম, স্টিফেন কিং Day Four by Sarah Lotz পড়ার জন্য সাজেস্ট করেছেন। গুডরিডসে গিয়ে দেখি বইটা একটা সিরিজের দ্বিতীয় বই। একারণে প্রথম বই The Three দিয়ে শুরু করেছিলাম।
The Three কে হরর জনরার বলে ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু পড়ার পর দেখি গতানুগতিক হরর বই এটা নয়। কোনও ভূত, আত্মা, শয়তান-কিছুই নেই। তবুও গা ছমছমে একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পুরো বই জুড়ে। হাতে গোণা কয়েকটা বাক্য আছে যেগুলো শিউরে তুলতে যথেষ্ট।
একই দিনে কয়েক ঘন্টার মধ্যে চারটি মহাদেশে বিধ্বস্ত হয় চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ। তিনজন বাদে বাদবাকি সব যাত্রী নিহত হয়। দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে মিল শুধু একটাই-বেঁচে যাওয়া তিনজনই শিশু। অলৌকিক ঘটনা বটে! ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয় যখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সন্ত্রাসী যুক্ত থাকার সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়। কেঁপে উঠে পৃথিবী, অস্থিরতা জাগে জনমনে। সুবিধা নেয়ার সুযোগ ছাড়ে না স্বার্থান্বেষীরা। মিডিয়াগুলো যেন হাতে পায় সোনার কাঠি।
এদিকে ধর্মান্ধগোষ্ঠীরা দাবি বেঁচে যাওয়া তিন শিশু নিছক কোনও মানুষ নয়। বরং বাইবেলে বর্ণিত কেয়ামতের দূত হর্সম্যান। তবে কি সত্যিই সমাপ্তি ঘটতে চলেছে মানবজাতির সুদীর্ঘ ইতিহাসের?
ভয়, দ্বিধা, মানবিকতা, বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচলে দুলতে থাকে সাধারণ মানুষ।
দুর্বিষহ হয়ে বেঁচে যাওয়া শিশুদের অভিভাবকদের জীবন। স্বাভাবিক বলে কিছু আর থাকে না তাদের জন্য। এমনকি শেষ পর্যন্ত সন্দেহ জাগে তাদের মনেও।
তাদের মতোই, পাঠকও পুরো বই জুড়ে খুঁজে যাবে একটা প্রশ্নের উত্তর: সত্যটা কী?
এই বইকে আর দশটা বইয়ের চেয়ে আলাদা করেছে এর রচনাভঙ্গি। মিথ্যাকে লেখিকা এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে সত্য বলে ভুল হয়। বইটা মূলত স্বাভাবিক বর্ণনাভঙ্গিতে না লিখে লেখিকা লিখেছেন জবানবন্দির সংকলনরুপে। একারণে মনে হতে থাকে, যেন ঘটনাটা বাস্তবেই ঘটেছে।
চমকপ্রদ একটা তথ্য দিয়ে শেষ করব। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা নিশ্চয় মনে আছে। এই বইয়ে ট্রাম্পের মতোই মনোবৃত্তির এক ক্যারেক্টার আছে যে নির্বাচনে দাঁড়াতে ইচ্ছুক। তার ক্যাম্পেইন মোটো-Make America Moral। মিল পাচ্ছেন? জানিয়ে রাখি, বইটা প্রকাশিত হয় ২০১৪ তে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:০৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাওরাত ও যুক্তি দিয়ে কথা বলুন - ইহুদীরা আত্মসমর্পন করবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০০

গানঃ 'My Name Is Palestine' - Garth Hewitt
লিংকঃ Click This Link



জ্ঞানী মানুষ যুক্তি পছন্দ করেন। জ্ঞানী মানুষ অজ্ঞানতার বেড়াজাল থেকে নিজেকে বের করে যুক্তির মাপকাঠিতে নিজের জীবনকে সাজায় বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোস্ট: বিদায়ের আগে

লিখেছেন অর্ক, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৭



আমি নিজের লেখা ও অনুবাদ করা কিছু বই বের করতে চাই। এক্ষেত্রে কেউ কোনওভাবে সহযোগিতা করতে পারলে জানাবেন। গতকাল একজন নিয়মিত ব্লগারের মন্তব্যে ব্লগ বন্ধ হবার জোর সম্ভাবনার কথা জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×