somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

#আমি_মিথ্যা_বলছি!

২০ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ ছোট বেলা থেকেই বুঝে না বুঝে কবিতা, ছড়া লিখেছি। কেউ ই জানতো না, জানতাম শুধু আমি। আমার কবিতাগুলো আমার কথা শোনে, আমি ওদেরকে বিশ্বাস করি। ওদের প্রতি আমার ভরসা অনেক বেশি। পাঠক জমানোর জন্য কখনওই আমি কিছু লিখিনি। তবুও কিছু পাঠক জমে যায়। তারা গালাগালি করে আমার কবিতা পড়ে আবার অনেকে আছে অঝরে কেঁদে জানান আমার লেখা কবিতা তাকে কতটা ছুয়ে গেছে। তেমন ই একজনের কথা আমি বলছি, শুনুন। আমার এক বড় ভাই এর মত আছেন জিনি সারাক্ষণ আমার খারাপ বিষয়গুলো নিয়ে আমাকে পরামর্শ দেন। আমি অবশ্য এর জন্য উনাকে কখনও চা ও সেধে দেখিনি। তবুও উনি নিরাশ হন নি। কিছুদিন আগে আমার এক্তা কবিতার বই বেড়িয়েছে। আমি জানতাম কেউ কিনুক আর না কিনুক উনি কিনবেন, আমার প্রচুর ভুল ধরিয়ে দিবেন, মন ফুরফুরা থাকলে কিছু গালিগালাজ করবেন। এইটুকুই আমি ভাবতে পারছি, ভাই অবশ্য আর অনেক কিছু করলেও করতে পারেন। এই যে বই মেলা গেল, বহু মানুষকে অটোগ্রাফ দিতে হয়েছে। কিন্তু এই মানুষটা কখনওই আসবেনা এই আবদার নিয়ে। আমি উনার কোন ক্ষতি করেছি বলে মনে পড়ে না। তবুও উনি...। যাক সে কথা। একদিন রাতে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। এইত কয়েকদিন আগেই। এতা তো এখন জুন মাস, এই মাসেই। আমার রুমের ২ টা বারান্দা। অনেক্ষন বৃষ্টি দেখে রুমে ঢুকে শুয়ে পড়বো। সিঙ্গেল মানুষ, কষ্ট বাড়িয়ে কি লাভ। তার চেয়ে ঘুমাই, স্বপ্নে হলেও যদি কেউ আসে তবে এই আবহাওয়ায় খারাপ হবে না। হটাত শুনতে পেলাম কে জেন ডাকছে, হৃদয়, হৃদয়......। আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না যে এই বৃষ্টি তে কে আমাকে এভাবে ডাকতে পারে। আমি বিছানা ছেড়ে বারান্দায় গেলাম। দেখি এক তরুন নিল পাঞ্জাবি পড়ে দারিয়ে আছে, আমি চিনতে পারলাম লোকটাকে। বিনে পয়সায় আমাকে উপদেশ দেওয়া লোকটি ই এই যুবক। তাকে দেখি আমি দৌড়ে নিচে নামলাম। তাকে টেনে গেঁটের কাছে আনলাম যেন আর না ভিজে যায়। একটু ভেতরে এসে দারাতেই তার হাতের দিকে চখ পরল। ভেজা হাতে আমার লেখা কবিতার বই, বই টি ভিজে গেছে অল্প। বুঝা যাচ্ছে খুব সামলে এনেছে বইটিকে। আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। হটাত করেই বলল, আজ আমার ভালবাসা আমার কাছে নেই, আজ তার জন্মদিন। কি মনে করে যেন তোমার বই টা পরতে শুরু করলাম একটু আগে। বই খুলতেই চোখে পড়লো " অন্তহীন " কবিতাটি। বিশ্বাস কর যে বেথা ভুলতে আমি বই হাতে তুলে নিয়েছিলাম সেই বেথার আগুন আর জলে উঠেছে তোমার কবিতার কথাগুল পড়ে। আমি জানি তুমি জীবন ক্ষয় করে কবিতা লিখেছ। আমি মুগ্ধ, প্রচণ্ড ভাবে দগ্ধ। " এসব কথা শুনে আমি অবাক , কিছুই বলতে পারছিলাম না। হুট করেই কলম বের করে বললেন, একটা অটোগ্রাফ হবে, কবি? বইটি আমি ৯০ টাকা দিয়ে কিনেছি। পাঠক হিসেবে অটোগ্রাফ তো আমার অধিকার, তাই না?" আমার চোখে পানি চলে আসলো। আমি মানুষটাকে জরিয়ে ধরলাম। শীতল দেহ। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। কান্নার নোনা পানি মিশে গেল বৃষ্টির সাথে। আমি চোখ মুছে অটোগ্রাফ দিলাম। মানুষটা নিজে হেসে আমাকে কাদিয়ে আবার নেমে পড়লো থই থই পানিতে। ঠিক এই মুহূর্তে আমার একটা কথাই মনে হচ্ছিলো, আমার আর কি চাই এইটুকু যখন পেয়েছি। পেছন ফিরে দেখি আম্মা দারিয়ে আছেন। আমি উপরে উঠে গেলাম। পরদিন শুনলাম ভাই টা আত্মহত্যা করেছে। এও শুনলাম যে উনার প্রেমিকার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। বোকা মানুষ, সত্যি ই খুব বোকা মানুষ ভাইটা আমার।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:২৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×