somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হয়তো এই শেষ সুযোগ.....।

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দারুণ জমেছিলো ভাইবোনদের আড্ডাটা…হাসতে হাসতেই মারা যাচ্ছিলাম আমরা…হঠাৎ একটা ঝাঁকুনীতে সবার চেহারা পাল্টে গেলো…আরে প্রচণ্ডভাবে দুলছে সবকিছু…এমন সময় মায়ের চিৎকার ”ভূমিকম্প হচ্ছে বের হও তোমরা সবাই”…শুরু হয়ে গেলো চারপাশে সবার চিৎকার…সবাই কলেমা শরীফ পড়তে লাগলো…কি হচ্ছে এসব??? মুহুর্তেই চোখের সামনে সব ঝুর ঝুর করে ভেঙে পড়ছে সব …এদিকে ওদিক, কে যে কোথায় হারালাম, টেরই পেলাম না…


নিজেকে হঠাৎ আবিস্কার করলাম একটা ধ্বংসস্তুপের নীচে…শরীরের ওপর বড় একটা পাথরের টুকরার মতো চেপে আছে…নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে....নড়তে পারছি না…দম যেনো বন্ধ হয়ে আসছে….প্রচণ্ড ব্যাথায় মুখে শুধুই গোঙ্গানীর শব্দ….শুনতে পাচ্ছি দূর থেকে বাঁচার জন্য এমন শত আহাজারি,চিৎকার আর আর্তনাদ...ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ শব্দ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে …আল্লাহর কাছে বাঁচার ফরিয়াদ আর আর্তনাদটা আমার মুখেও….কিন্তু কে বাঁচাবে??? হঠাৎ দেখি লম্বা তিনটা মানুষ সাদা কাপড় পড়া…একজন একটু বেশি লম্বা…তিনি কি যেনো নির্দেশ দিচ্ছেন আর অন্য দুজন পালণ করছেন ঘুরে ঘুরে….মনে হচ্ছে এরা উদ্ধারকর্মী….আমিও তাই জোরে জোরে তাদের ডাকতে শুরু করলাম সাহায্যের আশায় কিন্তু গলা দিয়ে যেনো শব্দই বের হচ্ছে না….


হঠাৎ দেখি লোক তিনজন আমার সামনে…নেতা টাইপের লোকটা আঙ্গুল ইশারা কোরে কি যেন নির্দেশ দিলেন সহোচর দুজনকে...উনারা আমার শরীরে চেপে থাকা পাথরটা টেনে সরালেন…আমার শরীরটা পুরো প্যারালাইজের মতো মনে হলো…প্রচণ্ড ব্যাথা, নড়ার একটু শক্তি নেই….এবার নেতা লোকটা একটা হাত বাড়ালেন আমাকে ওঠার জন্য…আমি তার হাত ধরতেই কোথা থেকে যেনো শরীরে শক্তি চলে এলো…তুলোর মতো হালকা মনে হতে থাকলো শরীরটাকে…আমি লাফিয়ে উঠে দাড়ালাম…এতটুকু কষ্ট আমার আর নেই, যেটা প্রচণ্ডভাবে এতক্ষণ অনুভব করছিলাম…নেই সেই শ্বাসকষ্ট…সব কিছু যাদুর মতো মনে হতে থাকলো…


নিজের কষ্ট দূর হতেই মনে পড়ে গেলো আপনজনদের কথা….ভাবলাম পৃথিবীতেই ইয়া নফসি ইয়া নফসি করছি…নিজের কষ্ট যখন ছিলো তখন হে আল্লাহ, বাচাঁও বাচাঁও করেছি…তখন এভাবে ভাবিনি আপনজনদের কথা… এবার প্রচণ্ড কষ্ট এসে ভীড় করলো বুকে…কোথায় ওরা?? কেমন আছে??? বেঁচে আছে তো??? কি করে আমি যাবো ওদের কাছে??? কথাগুলো বলেই কাঁদতে শুরু করলাম চিৎকার করে…


”তুমি আমাদের সঙ্গে যাবে”…হঠাৎ পেছন থেকে দুই সহোচরের একজন বলে উঠলো… ”মানে কি??? কই যাবো আমি আপনাদের সাথে??…আমার আপনজনরাই বা কই???” অপর লোকটা বলে উঠলো “তোমার আপনজনদের কেউ-ই নেই তোমার সাথে আর কেউই যাবে না তোমার সঙ্গে”….বিষয়টা পরিষ্কার হতে মাথা উচুঁ করে লম্বা নেতার মুখের দিকে তাকালাম….তিনি আমাকে পেছনে ঘুরে আঙ্গুল ইশারা করে কিছু একটা দেখতে বললেন….আমি পেছন ঘুরতেই চমকে উঠলাম…..দেখলাম আমার নিথর দেহটা তখনো মাটিতেই এলিয়ে…চোখ দুটো শান্ত…মুখে নেই কোন গোঙ্গানীর শব্দ…..মুহুর্তেই পরিষ্কার হয়ে গেলো সব কিছু….কিছুক্ষণ আগে আমি এই পৃথিবীর মাথা ত্যাগ করেছি প্রচণ্ড এই ভূমিকম্পে…...সব পরিষ্কার হয়ে গেলো……”এ যে পরকাল…পরিনতির কথা মনে হতেই বুক ফাটা আহাজারি শুরু করলাম……কি আছে সম্বল???…এখন কি জবাব দেবো আল্লাহর কাছে.. ভূমিকম্পের চাইতেও যে কঠিন আযাবে পড়তে হবে এখন”…চিৎকার করে আমাকে ওদের সাথে না নেয়ার জন্য অনুরোধ করতে লাগলাম….আর বলতে লাগলাম “হে আল্লাহ আমাকে আরেকটা সুযোগ দাও…আমার পাপগুলো মাফের জন্য সুযোগ দাও...পৃথিবীতে থাকার আর কটা দিন সুযোগ দাও”….কিন্তু শুনলো না ওরা…. টেনে হিঁচড়ে আমাকে নিয়ে যেতে লাগলো অজানার উদ্দেশ্যে….আর আমি চিৎকার করেই যাচ্ছি….…..


আবারো ভূমিকম্পের মতো প্রচণ্ড ঝাঁকুনী খেলাম….সারা শরীর ঘেমে গেছে…চোখ ভিজে আছে…বৃকের ওপর চেপে আছে ভারী একটা বালিশ....বুঝলাম তখন আল্লাহ আমার ফরিয়াদটা রেখেছেন…আমাকে আবারো একটা সুযোগ দিতে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন……এই ছিলো আমার ২০১৩ সালে ভূমিকম্প নিয়ে দেখা স্বপ্ন….সোমবার ভোরের ভূমিকম্পের পর বার বার মনে পড়ছে স্বপ্নটা…..সত্যিই তো আল্লাহ আমাদের বার বার সুযোগ দিয়ে যাচ্ছেন….আমরা কতটুকু তার কাজে লাগাচ্ছি??? সত্যিকারভাবে আমরা কি অনুভব করতে পারছি সামনে কি হতে যাচ্ছে??? এ সুযোগ অদৌও কি আর পাবো??? সময় কিন্তু খুব কম…সুযোগের সম্ভাবনাও আর বেশী নেই…কে জানে হয়তো আমাদের টেনে হিঁচড়ে নেবার লোকগুলো প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন...অপেক্ষা করছেন ভূমিকম্পের মতো কোন উসিলার…..এরপরও কি বসে থাকবো আমরা???? আল্লাহ আমাদের সহায় হোন…..তিনি যেনো তার অসীম দয়ায় আমাদের সবাইকে ঢেকে নেয়ার তৌফিক দান করেন….তবে অবশ্যই সেটা আমাদের কর্মের বিনিময়ে….তিনি পরম করুনাময়….আমরা নিরাশ হবো কেন??? এখন থেকেই না হয় আমাদের চেষ্টা শুরু হয়ে যাক…তার সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত দেখা করে এই ফরিয়াদটুকুই জানাবার সুযোগটা এখন থেকেই না হয় কাজে লাগাই....
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৫৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে এর কোনো বিকল্প নেই।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫

সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে এর কোনো বিকল্প নেই।
যারা ভাবছেন ঘরে বসে থাকলেই সবকিছু আপনাআপনি হয়ে যাবে, তারা ভুল ভাবছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩



চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

উনি আমাদের ভবেরচর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়টা শুধু পোস্ট অফিসের প্রয়োজনের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×