somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয়তু দি এইডেড হাই স্কুল...

০৫ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একত্রিশ হাজার পঁচিশ দিন। ৮৫ বছর। ৭ যুগের বেশী। চারটেখানী কথা নয়। দীর্ঘসময়, দীর্ঘ পথচলা। এই দীর্ঘসময় ধরে তিনশো ষাট আউলিয়ার স্মৃতিধন্য পূণ্যভূমি সিলেটের শিক্ষাঙ্গণে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে বিদ্যালয়টি। সাত যুগের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় হাজারো সোনার ছেলে গড়ে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকরা। নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সকল শ্রেণীর মানুষের ছেলে সন্তানের জন্য এক বাতিঘরের নাম ‘দি এইডেড হাই স্কুল’। বিদ্যালয়ের কপালে ইতোমধ্যে জুটেছে অজস্র সাফল্যের তিলক। সিলেটের শিক্ষাঙ্গনে বটবৃক্ষের ছাঁয়ার মতো কাজ করছে বিদ্যালয়টি। এই লিখাটি দু’টি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশ এইডেড’র যাত্রা শুরুর কথা। দ্বিতীয় অংশ কিছু অপ্রিয় কথা। অপ্রিয় এ কারনেই বলছি আবেদন বেশীর ভাগের কাছেই অপ্রিয় বোধ হয়। তাঁতিপাড়ায় যে স্থানে বর্তমান স্কুলটি অবস্থিত সেখানে ‘ন্যাশনাল স্কুল’ নামে একটি স্কুল ছিলো। ১৯০৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠা পায়। তৎকালীন শ্রীহট্টের প্রবীন আইনজীবী শারদা চরন শ্যাম ও আরো কয়েকজন শিক্ষানুরাগী এটির উদ্যোক্তা ছিলেন। আজকের হাসান মার্কেট যেখানে, তার নিকটে ‘গিরিশ এম.ই’ নামে আরো একটি বিদ্যাপীঠ ছিল। রাজা গিরিশ চন্দ্রের মৃত্যুর পর এটির ব্যয় পরিচালনা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। শিক্ষকগন স্কুলটি স্থানান্তর করেন। তৎকালীন আয়কর অফিসের পশ্চিম দিকে একটি ছন-বাঁশের ঘরে হয় এর নতুন ঠিকানা। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর নতুন ঠিকানায়ও চলে আসলো নতুন বাধা। বাঁশ-ছনের বাতিঘর ছাড়তে বাধ্য করা হলো ‘গিরিশ এম.ই’ স্কুলকে। এরই মাঝে বন্ধ হয়ে গেলো ‘ন্যাশনাল স্কুল’টিও। গিরিশ এম.ই স্কুলের নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর শিক্ষাবিভাগের সাগ্রহে গিরিশ এম.ই বিদ্যালয় ঠাই হয় তাঁতীপাড়ায়, বন্ধ হওয়া ন্যাশনাল স্কুলের জায়গায়। তখনকার প্রাদেশিক সরকারের সাহায্যে গিরিশ এম.ই বিদ্যালয় “দি এইডেড এম.ই স্কুল” নামে যাত্রা শুরু করে। এদিকে উনবিংশ শাতব্দির গোঁড়ার দিকে নয়াসড়কের খ্রিস্টান মিশন এলাকায় একটি বিদ্যালয় ছিলো। মিশনারীরা তাদের নিজ উদ্যোগে এটি পরিচালনা করতেন। আর্থিক সংকট কিংবা অন্যকোনো কারনে স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংবাদটি শ্রীহট্টের শিক্ষাদরদি ব্যক্তিত্ব বিরজাকান্ত চক্রবর্তীর কাছে পৌঁছে। বিরজাকান্ত একটি স্কুল স্থাপন করার কথা ভাবছিলেন। বিরজাকান্ত ১৯২৫ সালে সদ্য বন্ধ হওয়া মিশন স্কুলের প্রধানশিক্ষক জোসেফ ফারডিনেন্ডকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গ্রাজুয়েটস ইন্সটিটিউট’। মিশনেরই একটি ঘরে ভাড়ায় চলতো স্কুলটি। মেট্রিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করছিলো স্কুলের শিক্ষার্থীরা। নতুন ঠিকানায় দি এইডেড এম.ই স্কুল ও গ্রাজুয়েটস ইন্সটিটিউট দু’টিই আর্থিক সংকটে পড়ে। কোনোরকমে চলছিলো শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকরা বিনাবেতনে পড়াতেন। স্কুল দু’টির অর্থনৈতিক দুরাবস্থা আর ভালো ফলাফল আসামের তৎকালীন ভি.পি.ই কানিংহামের নজর কাড়ে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯২৮ সালে স্কুল দু’টির শিক্ষা কার্যক্রম এক করে দেওয়া হয়। নামেও আনা হয় পরিবর্তন। নতুন রূপে নাককরন করা হয় ‘দি এইডেড হাই স্কুল’ নামে। আসাম সরকার স্কুলটির জন্য প্রতিমাসে দেড়শ’ টাকা অর্থ সাহায্যও চালু করে। গ্রাজুয়েটস ইন্সটিটিউটের প্রধান শিক্ষক বিরজা কান্ত চক্রবর্তীকে নতুন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অর্পন করা হয়। আর এইডেড এম.ই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গিরিশ চন্দ্র দেবকে করা হয় সহকারী প্রধান শিক্ষক। এভাবেই শুরু হয় বর্তমান দি এইডেড হাইস্কুলের যাত্রা। নতুন রূপে যাত্রা শুরু হওয়া এইডেড হাইস্কুলের ছাত্র সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে তিনশ। এভাবেই ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে আধুনিক ‘দি এইডেড হাইস্কুল’র গল্প। বিস্তৃত হতে থকে ইতিহাস। যা আজ সোনাঝরা।
গোটা বাংলাদেশের সীমারেখায় আজ এক সুপরিচিত নাম দি এইডেড হাই স্কুল। জানামতো-সিেেলটর সবচেয়ে বড়ো ক্যাম্পাস হচ্ছে এ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছাত্রসংখ্যাও বিশাল। প্রতিবছরে বাড়ছে ছাত্রসংখ্যা। নিয়ম করে কিংবা প্রয়োজনে বাড়ছে পাঠকক্ষও। এই বাতিঘরটি কারোরই একক প্রচেষ্টা বা অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় তিল তিল করে আজ এ পর্যন্ত এসেছে এইডেড স্কুল। আজ আর পিছনে তাকানোর সময় নেই। এখন শুধু সামনে দৃষ্টি প্রসারিত করার পালা। যুগের পরিবর্তনের সাথে এগিয়ে যেতে হবে সম্মুখে। এই তাগিদ পূরনে প্রয়োজন সবার অকুন্ঠ সমর্থন। যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই করতে পারেন তা। স্বনামধন্য এই বিদ্যানিকেতন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আজ অনেকেই স্বনামধন্য। অকেকেই পালন করছেন বড় বড় দায়িত্ব। সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও ডাক্তার আজ অনেকেই। এদের কেউ কেউ স্কুলের খোঁজ খবর রাখলেও বেশীরভাগের নাম নেই এ তালিকায়। যা ব্যথিত করারই খবর। সিলেটে আজ অনেক স্কুল ও কলেজ। একেকজনের মালিকানায় ৪/৫টি পর্যন্ত স্কুল রয়েছে নগরীতে। কিন্তু যে স্কুলটি সিলেটের সিংহ ভাগ শিক্ষার্থীকে মানুষ করে গড়ে তোলার দায়ভার কাঁধে চেপে নেয়, তার খবর আমরা কতোটুকুনইবা রাখি। হাল আমলে বিদ্যাপীঠটিতে আধুনিকতার মৃদুপরশ লাগলেও আরো অনেক পরিবর্তন প্রয়োজন স্কুলটির। তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের এই যুগে আজ অবধি একটি ওয়েবসাইট নেই বিদ্যালয়টির। স্কুল ক্যাম্পাসে নেই ইন্টারনেটসংযোগ সমৃদ্ধ আধুনিক পাঠাগার ও অডিটোরিয়াম। যা আছে তা নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বড় সংকট স্কুলবাসের। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য দু’হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ছোটোখাটো একটি স্কুলবাস কোনো রথী মহারথী, কোনো সরকারই দিতে পারেনি। দিতে পারেননি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। অনেকেই অনেক জায়গায় অর্থ ঢালছেন, স্কুল-কলেজ নির্মান করে দিচ্ছেন। এ তালিকায় স্কুলের অনেক প্রাক্তন ছাত্রও আছেন। স্বনামধন্য এ বিদ্যাপীঠে রয়েছে আরো অগনিত সংকট। ক্লাসরুম সমূহে আধুনিকতার ছোঁয়া এখনও লাগেনি। সাউন্ড সিস্টেমের এই যুগে এখনও শিক্ষকদের উচ্চস্বরে পাঠদান করতে হয়। এখনও ডাস্টার, ব্লাকবোর্ড আর চকের সাদা গুড়োয় তাদের একাকার হতে হয়। বর্তমান এই একবিংশ শতাব্দির গোঁড়ায় দাড়িয়ে এসব কথা বড্ড বেমানান। অপ্রিয়। বলতে গিয়ে মনটা ব্যথিত হয়ে উঠে। সবাই যদি একটু খেয়াল করি তবে এসব সমস্যা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায় নিমেষেই। এসব সমস্যা আঁটি করে সুরমা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া যায় পলকেই। এই খেয়ালটুকু আপনার প্রাণের বিদ্যাপীঠ আপনার কাছে, দাবি কি করতে পারেনা? আসুন না আমরা একটু দৃষ্টি রাখি আমাদের প্রাণের বিদ্যালয়টির প্রতি.......
জয়তু দি এইডেড হাই স্কুল। জয়তু আমাদের প্রাণের স্কুল।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চনাটক: "এনিমেল ফার্ম"

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দেখে এলাম জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নাটক "এনিমেল ফার্ম"। পরিবেশনায় ছিল রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ। নির্দেশনা দিয়েছেন ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×