সেই তো এলে কুড়ি বছর পর,
তোমার কবিতার ভেলায় এলে আমার গল্পের জলে ভেসে।
ছাড়াছাড়ির সেই দিনগুলিতে বিভীষণের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম,
দেখা যদি হয় আবার......কুড়ি বছর পর, চিনে নেবে কি আমাকে?
কোথায় খুঁজিনি তোমায়!
শস্যক্ষেতের আলে আলে, আনকোরা নদীর পাড়ে,
দেখেছি পাখির চঞ্চুতে আছো নাকি তুমি, নাকি আছো
কোন গৃহস্থের ঘরে হেঁসেলের ধারে।
কোথায় খুঁজিনি তোমায়!
অরণ্যের পেটে আদিমের টানে, নির্জনে-কোলাহলে,
এভিন্যুর পথে জনারণ্যে, শীত-গ্রীষ্ম খরায়, নির্জন বৃষ্টি ভেজায়
খুঁজেছি তোমায়, শুধু তোমার জন্য শীতল সন্ধ্যা বেলায় কুয়াশা মাথায়
অলিগলি হেঁটে বাড়ি ফিরেছি কত...যদি হঠাৎ তোমার দেখা পাই!
শিশির ঝরার শব্দ-ফোঁটায় ফিরে চেয়ে দেখেছি...
এই বুঝি তুমি এলে!
খোলা প্রান্তরে যেতে যেতে দূরে ধুপছায়ায় কোন কুলবধূকে
ভুল করে তোমাকেই ভেবে লজ্জায় অবনত হয়েছি কতবার।
দালানের কার্নিশে দাঁড়ানো ঐ কাকটি ডেকে ডেকে
আমায় কতবার কেবল পেছনে টেনে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসী সুখের দিনগুলিতে!
সেই তুমি এলে কুড়িটি বছর পর।
কত কথা হলো, কত কথা জানালে,
শুধালে আমার কবিতারা কেমন আছে!
তোমার কাছে ধার করা শব্দের কবিতারা ভালই আছে, বলেছি তোমায়।
তুমি চলে গেছ বলেই কি না জানি না, কবিতারা থাকে নি আমার সাথে।
নতুন কিছুই লেখা হয়নি তেমন, শব্দেরা বড্ড প্রবঞ্চনা করে আজকাল
এইসব টানাপোরেনের দিনে, অথবা শব্দেরা সম্ভবতঃ তোমার খুব অনুগত।
আজকাল গদ্যেরা খুব এসেছে কাছে, ওরা সখ্য গড়তে চায় বড়!
কুড়িটি বছর বড্ড সকরুন মনে হয়। বদলে গেছে সবকিছু,
এই শহর, শহরের মানুষগুলো, দালান-কোঠা লতিয়ে উঠেছে আকাশ ছুঁবে বলে......
যেন জাহাজের মাস্তুল। গাছপালাগুলোকে গিলে ফেলেছে কংক্রিটের দৈত্যগুলো।
গুলশান-বানানী ঢুকে গেছে বানিজ্যের জঠরে।
এখন সকল কিছুই দেখি যা এ চোখে কেবলই গদ্যময়।
বদলে গেছো তুমিও, এখন আড়ষ্ট অনেক। দ্বিধা আমারও তাই।
কুড়িটি বছর আগে ছিলেম দু’জনে দু’জনার নিঃশ্বাসের কাছাকাছি,
কোনদিন হাত ছাড়বো না বলে হেঁটেছি কত হাতে হাত ধরে,
আজ তোমার হাতের একটি আঙ্গুল স্পর্শ করতেও রাজ্যের যত সংকোচ!
কবিতা লেখা শুরু করলে কবে থেকে? প্রশ্ন শুনে কেবল হাসলে।
না বোঝার সেই হাসি।
জানালে তুমি, ভালই ছিলে, আছো বেশ।
অপ্রার্থিত দূরত্বে বললে কত কথা,
শুধু শুধালে না...আমি কেমন ছিলাম, কেমন আছি!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


