কালো কুচকুচে হ্যাংলা বুড়ো লোকটার নাম
বরকত।
স্কুলের চৌকাঠ পেরোনোর মত সৌভাগ্যটা
কোনদিন হয়ে ওঠেনি।
বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি।
একমাত্র মেয়ে সালমাকে নিয়েই তার
পৃথিবী।
সালমা অন্ধ বলে কেউ তাকে বিয়ে করার
মত
দুঃসাহস দেখায় না।
তবে বরকত মিয়ার অনুপুস্থিতিতে এই অন্ধ
মেয়েটার শরীরের
ফায়দা লুটতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা
চলে
বস্তির যুবকদের
মধ্যে।
ঠিকমত সুযোগ মিলে গেলে ১০ বছরের
বাচ্চা
ছেলেটাও ২৫ বছরের
এই মেয়েটার ওড়না ধরে টান দেয়ার
আনন্দটা
হাতছাড়া করে না।
সকাল সকাল বরকত মিয়ে তার বেঁচে
অবলম্বন
রিকশাটা নিয়ে
বেরিয়ে পড়লেন।
রিকশার ৩ টা চাকা আর ২ টা প্যাডেলের
মধ্যেই
তার জিবন।
রিকশার চাকা ঘোরে তো জিবনের চাকা
ঘোরে,
আর যেদিন
রিকশার চাকা ঘোরে না সেদিন বাপ
বেটি
দুজনকেই না খেয়ে
থাকতে হয়।
বুড়ো লোক, বাহুতে জোর নেই বলে বরকত
মিয়ার
রিকশায় পৃথিবীর
গতি পাগল মানুষগুলো উঠতে চায় না।
তাই দিনের বেশিরভাগ সময়ই
যাত্রীবিহীন
রিকশাটা নিয়ে ছুটতে
হয় এ রাস্তা থেকে ও রাস্তায়।
বেলে গড়িয়ে বিকেল হতে চলল।
সকাল থেকে রিকশা চালিয়ে মাত্র ৬০
টাকা
রোজগার হয়েছে।
মেয়েটার কথা মনে হতেই রিকশার
প্যাডেলের
উপর দেহের সমস্ত
শক্তি দিয়ে ছুটে চলছে বস্তির উদ্দেশ্যে।
সকাল থেকে পানি ছাড়া কিছুই খায়নি।
শরীরটা প্রচুর ক্লান্ত।
কি মনে করে যেন হঠাৎ রিকশাটা থামিয়ে
দিল
পথের মধ্যে।
পিছন থেকে একটা বাইক এসে ধাক্কা মারল
রিকশাটাকে।
বরকত মিয়ে রাস্তার উপর পরে গেলেন।
ছেলের বয়সী যুবক ছেলেটা বাইক থেকে
নেমে
এসে টেনে হিচড়ে
উপরে তুলে এক চর বসিয়ে দিল বরকত মিয়ার
গালে।
চারিদিকে সবাই তাকিয়ে দেখছে
ঘটনাটা।কিন্তু
কেউ প্রতিবাদ
করার জন্য এগিয়ে আসছে না।
যুবকটা বরকত মিয়ার গলার গামছাটা নিয়ে
নিজের পায়ের ধুলা
মুছে গামছাটা বরকত মিয়ার মুখে ছুড়ে
ফেলল।
বরকত মিয়া নির্বাক হয়ে দাড়িয়ে আছে।
ছেলের বয়সী যুবকটার হাতে মার খাবার
পরও
প্রতিবাদ করার মত
সাহস পাচ্ছে না।
কারন ওরা যে শিক্ষিত, ভদ্রলোক।
দেশের সরকার থেকে জনগণ সবাই যে ওদের
পক্ষে।
পুরো ব্যাপারটা চিন্তা করে একটা মৃদু
হাসি দিল
বরকত মিয়া।
সত্যি কথা বলতে, অন্যায়, অত্যাচারে
হাসতে
পারে বলেই বরকত
মিয়ার মত লোকজন এই পৃথিবীতে এখনও
বেঁচে
আছে।তবে আর কত
দিন বরকত মিয়ার মত মানুষগুলো
অত্যাচারিত হবে
শিক্ষিত
ভদ্রলোকদের দ্বারা? দেশ কি বদলাবে না?
বরকর
মিয়ারা আমৃত্যু
অত্যাচারিত হবে?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


