somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাখাওয়াত হোসেন  বাবন
ব্লগিং শুরু করি প্রথম আলো ব্লগে "আমার কবিতা নামে" আমি ব্লগিং করি মূলত নিজের ভেতরে জেগে উঠা ব্যর্থতা গুলোকে ঢেকে রাখার জন্য । দুনীতিবাজ, হারামখোর ও ধর্ম ব্যবসায়িদের অপছন্দ করি ।

হজ করা সত্যিই অর্থের অপচয় ..

০২ রা অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী যে মহা-বেকায়দায় পরেছেন তা কারো জানতে আর বাকি নেই । ধর্ম স্তম্ভ ধরে টানাটানি করলে যা হবার তাই হয়েছে । সত্যি বলতে, তিনি যে ভাবে পবিত্র হজ্বকে নিয়ে কথা বলেছেন তাতে যে কোন মুসলমানের অন্তরে আঘাত লাগারই কথা ।
লতিফ সাহেবও বেশ ভাল করেই জানেন, মুসলমানরা হজ্ব পালন করে শুধু আল্লাহ্‌ হুকুম পালন করার জন্য । যেহেতু প্রতিটি সামর্থবান মুসলমানদের উপর হজ্ব ফরজ করা হয়েছে - সেহেতু জীবদ্দশায় একবার না একবার হজ্ব পালন করতেই হবে।
বাংলাদেশসহ প্রতিবছর সমস্ত বিশ্ব থেকে কোটি কোটি মুসলমান হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়ে থাকেন । আর তা শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ র সন্তুষ্টি পাওয়ারই আশায় করে থাকেন ।
হজ্ব এর সাথে অর্থনৈতিক ব্যাপারটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত । একজন মানুষের হজ্ব পালন করতে বাংলাদেশের টাকায আড়াই থেকে তিন লাখ বা তারও অধিক-টাকা খরচ হয়ে থাকে । সেই হিসাবে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বিদেশে যে চলে যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই ।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ব্যাপারটি দেশের চিন্তার বিষয় । কিন্তু অর্থনৈতিক দৃষ্টি কোন থেকে ব্যাপারটি দেখার কোন অবকাশ নেই । হাজি সাহেবরা তাদের নিজ উপার্জনের টাকা ব্যয় করে হজ্ব পালন করে থাকে । আমার টাকা আমি মদ খেয়ে ব্যয় করতে পারি আবার দুধ খেয়েও ব্যয় করতে পারি সেটা আমার ইচ্ছা ।
এ পর্যন্ত যা লিখলাম তা ঠিক আছে কিন্তু এখন যা লিখবো তা অনেকের কাছে ভাল লাগতে নাও পারে । কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা অধিকার কারো নেই । এতোটা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা করো নেই বা থাকা উচিত নয় । আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এখানে ভুল করেছেন ।
মুহাম্মদ ( স : ) কে নিয়ে কথা বলেছেন তিনি বলেছেন, আবদুল্লার পুত্র মুহাম্মদ ছিলেন বুদ্ধিমান । তার উচ্চারণের মধ্যে নবীর প্রতি কোন সম্মানবোধও ছিল না । যেমন ছিল না জয়কে নিয়ে কথা বলার সময়। জয়কে স্যার, স্যার বলে সন্মধন করলে হয়তো মন্ত্রিত্ব হারাতে হতো না । আমরা হচ্ছি আবেগপ্রবণ জাতি অতি আবেগে আশ্রাব সাহেব যেমন বলেছিলেন- তিনি হিন্দুও না আবার মুসলমানও না । কথা হচ্ছে - মরার পর আশ্রাব সাহেবের দেহটি কি করা হবে ?
কালো টাকা দিয়ে হজ্ব করলেও হাজি আবার সাদা টাকা দিয়ে হজ করলেও হাজি । কোন পার্থক্য নাই । সৎ মানুষের যেমন দাম নাই তেমনি সাদা টাকা দিয়ে হজ পালন করা হাজিদেরও বেইল নাই ।
আমরা হজ্ব আর হাজি নিয়ে কামড়া কামড়ি করি আর ফায়দা লুটে সৌদি সরকার । সৌদি বাদশার হেরেম চলে অর্থের ঝনঝনানি । গরিব দেশের টাকা হজের উ-ছিলায় চলে যায় সৌদি সরকারের হাতে । সৌদি সুলতানেরা নারীদের শরীরে টাকা উড়ায় । ঘোরার , উটের দৌড় খেলে । নিরীহ বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন না দিয়ে নির্যাতন করে । প্রতিবাদ করলে আকামা কেরে নেয় । দেশ থেকে বের করে দেয় ।
বাংলাদেশ থেকে যারা প্রতিবছর হজ করতে সৌদি আরব যান তাদের ভোগান্তির কোন শেষ নেই । ভোগান্তি শুরু হয় - এদেশের দালাল আর সৌদি এম্বাসি থেকে । ভিসা দেয় মিসকিনের মতো । তা ছাড়া নানান রকম হয়রানি সৌদি সরকার কর্তৃক হাজি-গন সহ্য করে থাকেন । মক্কা মদিনায় নানান রকম প্রতারকরা ওৎ পেতে থাকে । বয়স্ক হাজিদের কোরবানি করে দেবার নামে টাকা মেরে দেয়ে । একটি পশু জবেহ করে দশজনের থেকে টাকা নেয় । এটা যদিও সৌদি সরকার করে না । তবুও এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না ।
কাবা শরীফের চার পাশে এতো বড় বড় সুউচ্চ অট্টালিকাগুলো যে, দেখা যায় সেগুলো কি জানেন ? যেগুলোর বেশির ভাগই হচ্ছে হোটেল । জি হা পাঁচ তারকা হোটেল । ডিস টিভি থেকে শুরু করে সব আছে সেখানে । ইচ্ছে করলে সেই সব হোটেলের জানালা দিয়ে সরাবের গ্লাস হাবে হাজিদের তোয়াবের দৃশ্যও দেখা যায় । আর এই সব হোটেলের মালিক হচ্ছে বদমাইশের শিরোমণি সৌদি বাদশা ও তার ভাই ভ্রাতা-গন এবং তাদের ছেলে মেয়েরা । ব্যবসায়ের নেশায় মক্কার শরীফের সীমানা কমতে কমেতে এবং জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, হাজিদের তোয়াব করারও উপায়ও নেই । যেখানে পাখিরাও কাবা-শরীফের উপর দিয়ে উড়ে না তা উপর উঠে গেছে মানুষ । নবীর রওজা শরীফ ও তো কিছুদিন পূর্বে সরাবার পায়তারাও তারা করে ফেলেছিল কিন্তু বিশ্বব্যাপী মুসলমানের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি ।
এতো কিছু দেখার পর যখন লতিফ সাহেবরা যখন বলেন, হজ করে হাজি সাহেবেরা দেশের অর্থ নষ্ট করছেন তখন আর কোন প্রতিক্রিয়া হয় না । ক্যামন যেন চুপসে যাই । একটি বার হজ্ব করতে অনেক হাজির সারা জীবনের সঞ্চয় চলে যায় । অথচ সৌদি সরকার ইসরাইলের ফিলিস্তিনি হত্যার প্রতিবাদ করে না । মিসরে নির্বিচারে ভ্রাদার হুডের সমর্থক মুসলমানদের হত্যার মদদ দিয়ে যায় ।
এসব দেখার পর মনে হয়, হজ করা আসলেই অর্থের অপচয় । সে টাকা দিয়ে বাড়ির পাশের, দেশের ভেতরের দরিদ্র মানুষগুলোর সেবা করলে আল্লাহ মনে আরও বেশি সন্তুস্ঠ হতেন ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৩:৪৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০০




জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth মূলত এমন এক উপন্যাস, যেখানে বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, শ্রেণিবৈষম্য, বিচারব্যবস্থা, প্রতিশোধ এবং বুদ্ধিমত্তার লড়াই একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। উপন্যাসটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×