
যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী মহাকর্ষীয় তরঙ্গকে শনাক্ত করেছেন বলে খুবই হইচই হচ্ছে । একটি থ্রিডিও ভিডিও তৈরি করা হয়েছে । সেটি ফেবুতে অসংখ্যবার শেয়ার করা হয়েছে ।
আমার এ ব্যাপারে একটি বক্তব্য রয়েছে, সেটির অল্প কিছু অংশ এখানে লিখলাম । যদি কারো আরো ব্যাপক কিছু জানা থাকে তা হলে সেটা আমার সাথে শেয়ার করতে পারেন ।
প্রথমেই বলতে চাই এই বিজ্ঞানী দল যাকে "মহাকর্ষীয় তরঙ্গ-সংকেত" বলছে সেটা নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে । বিষয়টি "ঈশ্বর কণার" মতো ভাঁওতাবাজি না হলেই হয় । আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক বলছে, মহাবিশ্বের সর্বত্র তরঙ্গ রয়েছে । সেটি যতো ক্ষুদ্র পরিসরেই হোক না কেন ।
তরঙ্গ কি ? সেটা আমাদের সবার জানা আছে । "তরঙ্গ" হচ্ছে, কম্পন । একটি বস্তুর সঙ্গে অন্য একটি বস্তুর আঘাত বা ঘর্ষণের ফলে তরঙ্গের সৃষ্টি হয় । এটি অতি সাধারণ একটি বিজ্ঞান । আজ পর্যন্ত "ব্ল্যাক হোল" নিয়ে যতোগুলো গবেষণা হয়েছে এবং তার ফলে যেসব তথ্য উঠে এসেছে সেগুলোতে সব বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেন নি । বিতর্ক থেকে গেছে । কেননা ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ন গহব্বরের কোটি কোটি দূর থেকে এসব গবেষনা চালানো হয়েছে ।
"ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর হচ্ছে, মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তাড়িতচৌম্বক বিকিরণকেও (যেমন: আলো) নয়। প্রকৃতপক্ষে এই স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশী হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্য সকল বলকে অতিক্রম করে।"
এই সংজ্ঞাটি কিন্তু অনুমানের উপর ভিত্তি করেই দেওয়া হয়েছে্ । আমরা যতোটুকু জানতে পেরেছি তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু অজানা রয়ে গেছে । পরিস্কার ভাবে যদি বলতে যাই, তা হলে বলা যায়, ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর আসলেই কি এবং কি দিয়ে তৈরি আমরা তা জানি না । কিছু দিন আগে যেমন বলা হয়েছে, ষ্টার বা তারা জ্বলে জ্বলে নিভে গিয়ে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরে পরিনত হয় ।
"মহাকর্ষীয় তরঙ্গ-সংকেত" ক্ষেত্রে আমার পরিষ্কার বক্তব্য হচ্ছে, একশন, ইভেন্ট যাকে বলে বস্তু থাকলে সেখানে একশন হলে ইভেন্টও হবে । বাংলায় বললে, বলা যায় ঘাত প্রতিঘাত । ব্যাপারটা যদি এভাবে চিন্তা করি, মনে করি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর হচ্ছে একটি নদী । এখন কেউ যদি সেই নদীতে একটি ঢিল ছুড়ে মারে তা হলে কি হবে ? হ্যা ঠিক ধরেছেন, তরঙ্গের সৃষ্টি হবে । কিন্ত সেহেতু বিজ্ঞানীরা বলছেন, হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না,তা হলে তরঙ্গ সৃষ্টি না হওয়ার ই কথা। ঘনত্ব যতো বেশি তরঙ্গ সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা ততো কম । কিন্তু সূত্র বলছে, ভর যতো বেশিই হোক না কেন অতি ক্ষুদ্র মাত্রায় হলেও তরঙ্গের সৃষ্টি হবেই হবে । আঘাত হলে প্রতিঘাত আসবেই । এটি নতুন কোন আবিস্কার নয় ।
দেখুন ভেবে যেখানে "ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর" জিনিসটা আসলেই কি তার সঠিক ব্যাখ্যাই কেউ দিতে পারলো না অথচ তার ভেতরের তরঙ্গ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আগে ব্ল্যাক হোলের সঠিক নির্ভুল ব্যাখ্যা চাই । তারপর দেখবো ভেবে এই নতুন ইস্যুটি নিয়ে হইচই করার কিছু আছে কিনা । দু'টি ব্যাক হোলের সংঘর্ষের ফলে তরঙ্গের সৃষ্টি হতেই পারে সূত্র তো একই "একশন এন্ড ইভেন্ট" ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


