somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আয়না কুমার (রূপকথা)

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আয়না কুমার (ছোট গল্প)
(শামীম জাহাঙ্গীর)

আনমনে ঘুরতে ঘুরতে অচেনা এক রাজ্যে এসে পড়লো আয়না কুমার । এদিকের বাতাসে কেমন যেন একটা কান্নার সুর বয়ে যাচ্ছে । যতই সামনে যায় কুমার, কান্নার শব্দ যেন ততই বাড়ে । মন খারাপ করা সেই বাতাসই যেন তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সেই করুণ কান্নার উৎসের দিকে ।

রাজা শয্যাশায়ী । একমাত্র কন্যা হারানোর শোকে রাজার সাথে সাথে তার পুরো সাম্রাজ্যও শোকাহত । পথে কোন মানুষ পাওয়া গেল না এবং পথ-ই কুমারকে রাজার বাড়িতে পৌছিয়ে দিল । সেখানে অনেক মানুষের ভীড় । সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে নিরবে হাহাকার করছে শুধু । কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলেও কেউই আকাশের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে রাজকুমারের দিকে তাকালোই না ।

রাজ জোতিষীর গণণা মতে কেউ একজন আসছে রাজকুমারীর উদ্ধারে ! সেই আশায় এখনো টিমটিম করে জ্বলছে রাজার জীবন প্রদীপ । এই পর্যন্ত এই জোতিষীর একটা গণণাও ভুল হয়নি । সেই কুমারের অপেক্ষায় পায়চারি রত জোতিষী কুমারকে দেখেই চিনতে পারে যে এই-ই তার সেই কাঙ্ক্ষিত জন। জোতিষীর কাছ থেকে সব জেনে কুমারের মনটা খুব খারাপ হয়ে যায় । জোতিষী আকাশের দিকে তাকিয়ে এক টুকরো কালো মেঘ দেখায় কুমারকে । ঐখানেই রাজকুমারীর বন্দি আছে বলে জোতিষীর স্থির বিশ্বাস । কুমার এতক্ষণে বুঝতে পারলো এখানকার সবার আকাশের দিকে তাকিয়ে হাহাকারের কারন ।

এতদিন পর মেয়ের মুখ দেখে শয্যাশায়ী পিতার দেহে কিছুটা শক্তি ফিরে এল । বিছানা থেকে উঠে কুমারকে জড়িয়ে ধরলো । কুমারের সাথে থাকা আয়নায় ঘুমন্ত রাজকুমারীকে দেখা যাচ্ছে শুনে রাজ বাড়ির বাইরে প্রজাদের মাঝে তীব্র উল্লাস ছড়িয়ে পড়লো । কুমার হিসাব করে বলে গেল আগামী এগারো দিন পর আপনার মেয়ে ফিরে আসবে । আমার উপর ভরসা করতে পারেন ।

কুমারের আশ্বাসে রাজা জোতিষীর দিকে তাকালে জোতিষী মাথা উপর নীচ করে সম্মতি দিতে ঈশারা দেয় । রাজা তাই করে । জোতিষী কুমারের কাঁধে হাত রেখে একবার নিজের বাবা মা কে দেখে তারপর রওনা দিতে অনুরোধ করে । রাজা তখন কিছু না বললেও কুমার যাওয়ার পর তার কারন জানতে চায় জোতিষীর কাছে । জোতিষীর ইচ্ছাকৃত দেরি করানোর কারন বুঝতে পারে না শোকার্ত পিতৃত্ব । "কারণ তো ছিলই মহারাজ । এর বেশি কিছু বলতে আমি অপারগ । গুস্তাফি মাফ করবেন।" জোতিষী এর বেশি বলেওনি তখন।

কুমার জোতিষীর অনুরোধে সাড়া না দিয়ে সরাসরি রাজকন্যার উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়ে । কুমারের ।। একের পর এক মেঘমালা পেরিয়ে যাচ্ছে ঝড়ের বেগে । কুমার আয়নায় নজর রাখছে । সেই আয়নায় রাজকুমারীকে একাই ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে এখনো । কে নিয়ে গেল রাজকুমারীকে ? কাউকে রাজকুমারীর পাশে কাউকে না দেখে চিন্তিত কুমার ।

কুমারের মনে প্রশ্ন উদয় হওয়া মাত্রই আয়নায় ভয়ালদর্শী এক রাক্ষসের চেহারা ভেসে উঠে । একে পরাজিত করেই রাজকুমারীকে উদ্ধার করতে হবে বূঝতে পারে কুমার । একটা মাত্র রাক্ষসকে পরাজিত করা তার জন্য কঠিন কিছু হবে না ।

ময়ূরপঙ্খি নীচে নামতে শুরু করায় কুমার তার আয়নার দিকে তাকায় । এটা কোন মেঘমালা নয় । দূর থেকে তেমন দেখা গেলেও এটা শূন্যে ভাসমান একটা মরুভূমি । চারিদিকে ধূ ধূ বালুকা বেলা । তার মাঝে ছবির মতো একটা মরূদ্যান । চারপাশে দেয়াল দিয়ে ঘেরা সেই মরূদ্যানের গেটে ঘুমিয়ে আছে ভয়ানক সেই রাক্ষস । কুমার ঘুমন্ত রাক্ষসের মাথা এক কোপে ঘাড় থেকে আলাদা করে ফেলল ।

বলতে গেলে কোন কষ্ট ছাড়াই উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার তৃপ্তি নিয়ে কুমার তার সুলেমানি তলোয়ার খাপে রাখতে গিয়ে যা দেখলো তাতে কিছুটা ভয়-ই পেয়ে গেল যেন । রাক্ষসের প্রতি ফোটা রক্ত মাটিতে পড়তেই তা থেকে একটা রাক্ষসের বাচ্চা জন্ম নিচ্ছে । যেভাবে দ্রুত বড় হচ্ছে এরা, এদের নির্মূল করা কিভাবে সম্ভব?

সাথে সাথে আয়নার মাঝে ভেসে উঠলো রাক্ষসের কাটা মূন্ডুটাকে চার খন্ড করে চারটা আলাদা আলাদা মেঘমালায় রেখে আসতে হবে । তবেই রাক্ষস বংশের কেল্লা ফতে ।

সেইমতো সব কিছু সম্পাদন শেষে ক্লান্ত কুমার রাজকন্যার শিয়রের সোনার কাঠি রূপার কাঠির প্রান্ত বদল করতেই জেগে উঠে রাজকুমারী । বিস্মিত রাজকুমারী অবাক হয়ে দেখছে, এখানে বন্দি অবস্থায় আধ ঘুম আধ জাগরণে এই কুমারই সর্বক্ষণ তার পাশে পাশে ছিল ।

রাজকুমারী যতটা বিস্ময় নিয়ে কুমারের দিকে তাকিয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্মিত হয়ে গেল যখন দেখল তার চাঁদ মুখটার দিকে একবারও না তাকিয়ে শুয়েই চোখ বুঁজলো কুমার । তাঁর মতো সুন্দরীরা এই অপমান সইবে কেন? অতি সুন্দরীগণের বেশিরভাগই প্রচন্ড অভিমানী ও নিষ্ঠুর হয়ে থাকে ।

ঠিক এগারো দিনের দিন আকাশে ময়ূরপঙ্খি দেখে রাজ্যের মানুষ আনন্দে হৈ হৈ করে উঠলো । ময়ূরপঙ্খি কিছুক্ষণের মাঝেই মাটিতে নেমে এলো । তাতে একা রাজকুমারী । আর তার হাতে কুমারের সেই আয়না । আয়নাটা যেন এখন একটা ছবির ফ্রেম। অথবা তাতে এখন শুধু ঘুমন্ত কুমারের অবস্থানই দেখা যায় । ঘুমন্ত কুমারের শিয়রে সোনার কাঠি রূপার কাঠি। আয়না কুমারের ঘুম ভাঙ্গবে না আর কোনদিন ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৩:২৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?
============================================
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃশ্যমানতা এখন একধরনের পুঁজি

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০০

মানুষ শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য কনটেন্ট নির্মাতা হতে চাইছে না। দৃশ্যমানতা নিজেই এখন একটি মূল্যবান সামাজিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।

অনুসারীর সংখ্যা একজন মানুষকে পরিচিতি, আমন্ত্রণ, প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Movie-Obsession(2026)

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বিশিদবার রাতে খুব বাজে আর একটা ছিনেমা দেখলাম। ভাই-রে ভাই কি বলবো, ঐ রাতে আর ঘুমাতে পারি নাই। মানে দেখার পর থেকে এখনো গা শিরশির করছে। চোখ বন্ধ করলেও চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×