somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আধুনিক শকুন্তলা ..!!

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের "শকুন্তলা" অবলম্বনে]


অতি পূর্বকালে ভারতবর্ষে দু্নন্ত নামে এক সম্রাট ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জানতে পেরেছেন, বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় সুন্দরবন স্থান পেয়েছে। তাই তিনি বেশ কজন বিশ্বস্ত সঙ্গীসাথি নিয়ে সুন্দরবনে মৃগয়ায় এসেছেন। সুন্দরবনের সুন্দর রূপ দেখে রাজা দু্নন্তের মন একেবারে দ্রব হয়ে গেল। প্রচণ্ড আবেগে তিনি গান গাইতে লাগলেন। গান শুনে আশপাশের গাছ থেকে বানরেরা প্রাণভয়ে দ্রুতবেগে পালাতে লাগল। রাজাও গান বন্ধ করলেন। কারণ তাঁর গান শুনে সব পশুপাখি পালিয়ে গেলে তিনি শিকার করতে পারবেন না। রাজা একটি অত্যাধুনিক জিপে বসেছিলেন। সুন্দরবন জিপ চালানোর জন্য উপযোগী না হওয়ায় তিনি হেঁটে হেঁটেই মৃগের সন্ধান করতে লাগলেন। কিন্তু কোথাও কোনো মৃগ দেখতে পেলেন না। রাজা বনের আরও গভীরে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেনাপতি রাজাকে বাধা দিতে চাইলেও ভয়ে কিছু বলতে পারলেন না।

দীর্ঘক্ষণ হাঁটার পর হঠাৎ একটা হরিণশাবক দেখতে পেয়ে থমকে দাঁড়ালেন রাজা। রাজাকে দেখেই হরিণশাবক দৌড়ে পালাতে লাগল। সম্ভবত রাজার গানের খবর তার কানেও পৌঁছে গেছে। রাজাও হরিণশাবকের পেছনে দৌড়াতে লাগলেন। বেশ কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর হরিণটাকে বাটে পেয়ে রাজা সেনাপতিকে আদেশ দিয়ে বললেন, ‘সেনাপতি, আমার তীর-ধনুক রেডি করো। হরিণশাবককে বাটে পাইয়াছি।’

সেনাপতি বললেন, ‘মহারাজ! এই ডিজিটাল যুগে তীর-ধনুক দিয়া হরিণশাবক মারিলে মানসম্মান এই বাদাবনের কাদায় গিয়া নিপতিত হইবে। এই বনের হরিণেরা অত্যন্ত বিটলা প্রকৃতির। তীর-ধনুকে এদের কিছু হয় না। আপনি এই উন্নত রাইফেল দিয়া হরিণ শিকার করুন।’ এই বলে সেনাপতি রাজার হাতে রাইফেল তুলে দিলেন। সামান্য হরিণশাবককে এত শক্তিশালী রাইফেল দিয়ে হত্যা করতে রাজার বিবেক সাড়া দিচ্ছিল না। পরক্ষণেই রাজা ভাবলেন ইসরায়েলের কথা। নিরীহ মানুষকে মারতে ইসরায়েল যদি হোয়াইট ফসফরাস ব্যবহার করতে পারে, তাহলে হরিণ মারতে তিনিও রাইফেল ব্যবহার করতে পারবেন। রাজা হরিণশাবকের দিকে রাইফেল তাক করলেন। এমন সময় চারপাশ থেকে ধুপধাপ আওয়াজ করে অদ্ভুত পোশাক পরা কতগুলো মানুষ এল। রাজা ভাবলেন, এরা নিশ্চয়ই সুন্দরবনের তপস্বী। রাজা একটু মনঃক্ষুণ্ন হলেন। এই তপস্বীদের জন্যই তিনি তপোবনে বাটে পেয়েও হরিণ মারতে পারেননি। এখানেও একই ঘটনা।

তপস্বীদের মধ্যে একজন দুই হাত তুলে উচ্চ স্বরে বলল, ‘খবরদার! এইটা আমাগো এলাকার হরিণ। এরে মারার চেষ্টা করলে পিটাইয়া হাঁটুর বাটি খুইলা ফালামু।’

রাজাকে অপমান! সেনাপতি গর্জে উঠলেন, ‘খামোশ! ওহে পামর, বর্বর, তোমরা চন্দ্রবংশীয় রাজা দু্নন্তের সঙ্গে বেয়াদবি করছ। আমি চাইলে এখনই তোমাদের গ্রেপ্তার করতে পারি।’ সেনাপতির কথায় ওরা হাসতে হাসতে বলল, ‘মহারাজ, আপনার অস্ত্র বাসায় রেখে দেওয়ার জন্য, হরিণ মারার জন্য নয়।’ আরেকজন বলল, ‘শোনেন, এইটা ত্যাড়া আক্কাসের এলাকা। চলেন আমাদের সঙ্গে। ওস্তাদের দাওয়াত কবুল করেন। ওরা রাজাকে ধরতে এগিয়ে আসতেই সেনাপতিসহ রাজার সঙ্গীরা অস্ত্র তাক করল। কিন্তু ওরাও পাল্টা অস্ত্র তাক করল। ওদের অস্ত্রগুলো আরও আধুনিক। সঙ্গী সাথিসহ ত্যাড়া আক্কাস বাহিনীর হাতে আটক হয়ে রাজা বনের আরও গভীরে প্রবেশ করলেন। রাজা ভাবলেন, ত্যাড়া আক্কাস নিশ্চয়ই অনেক বড় তপস্বী। কিন্তু তার লোকজনের ব্যবহার মোটেই ভালো নয়। এ ব্যাপারে তিনি ত্যাড়া আক্কাসের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে ঠিক করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘মহর্ষি কি আস্তানায় আছেন?’ একজন বলল, ‘জি না, উনি জরুরি কাজে সিঙ্গাপুর গেছেন। তবে ওনার পালিত কন্যা শকুন্তলা আছেন, তিনিই আপ্যায়ন করবেন।’

পথের ধারে গুলির খোসা, সিগারেটের বাঁট দেখে রাজা বুঝলেন, তিনি আস্তানার কাছে চলে এসেছেন। আস্তানার কাছে আসতেই রাজার বাম চোখ লাফাতে লাগল। সুন্দরবনে বিপদসূচক লক্ষণ দেখে রাজা বি্নিত হলেন। অতঃপর আস্তানায় প্রবেশ করে রাজা দেখলেন, গাছের নিচে একজন অতি রূপবতী তরুণী বসে আছে। ত্যাড়া আক্কাসের একজন লোক বলল, ‘ম্যাডাম, এরা হরিণ মারতে আইছে। মালপানি ভালোই আছে। কী করুম?’ রাজা বুঝলেন ইনিই শকুন্তলা। শকুন্তলার রূপে রাজা মুগ্ধ হয়ে শকুন্তলাকে বললেন, ‘তোমার অধরে নবপল্লবশোভার আবির্ভাব; বাহুযুগল কোমল বিটপের মতো বিচিত্র শোভায় বিভূষিত। এরূপ রূপবতী আমার অন্তঃপুরেও নাই।’

শকুন্তলা ঈষৎ হাস্য করিয়া বলিল, ‘এই কে আছিস, এদেরকে সাইজ কর।’


কার্টেসীঃ প্রথম আলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:৪০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×