somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার রাজ রাজেশ্বরী

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার ছানাটা দিন দিন যত বড় হচ্ছে, আমার মধ্যে দেখি মায়া জাতীয় গরল পদার্থটা ততই বাড়ছে। প্রথম যখন হল, অপারেশন টেবিলে কোন এক নার্স আমাকে দেখালেন, 'এই দেখুন আপনার কি ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়েছে," আমি অর্ধচেতন চোখ মেলে দেখলাম- মোমের মত অদ্ভূত এক দেব শিশু। আমি তো অবাক, এটা আমার বেবী,এত সুন্দর- ধ্যাত তাই হয় নাকি? নার্স নিশ্চই আমার ভ্যাবাচ্যাকা মুখ দেখেছিলেন, নইলে বলবেন কেন, কি খুশী হননি?
যতই খুশী হইনা কেন? প্রথম কয়েক দিন তো ওকে আমি আমার কাছে রাখিনি। আরে এত ছোট একটা বাচ্চা আমি রাখবো কি করে? আর আমার সাইজ তখন মাশাল্লাহ ছোটখাটো একটা হাতির মত।আর এখন? ওকে ছাড়া আমি ঘুমাতেই পারি না।মোদ্দা কথা আমার পুরো জগৎ টাই এখন ছানাময় হয়ে গেছে।
মা হিসেবে আমি অবশ্য আমি কখনই ততটা ভালো নই। তার নানান রকম সাক্ষ্য প্রমাণ ওর জন্মের পর থেকে দিয়ে যাচ্ছি, তবুও মেয়েটা কেন যে আমার ন্যাওটা বুঝতে পারি না।
আমি যে ভালো মা নই, তার একটা ঘটনা বলি, ওর তখন মাস ছয়েক হবে বা তারও কম।একদিন রাতে ওকে দুহাতে দাঁড় করিয়ে রেখে কথা বলছি. কারণ ও তখনও দাঁড়াতে শেখেনি। হঠাৎ এক বিশাল সাইজের তেলাপোকা কোত্থেকে উড়ে এসে আমার মুখের উপর পড়লো। আর আমিও আত্মরক্ষার জন্য আমার দুই হাত ব্যবহার করলাম। ব্যাস দেখি
আমার ছানা সরাসরি মেঝেতে। দুম করে শব্দ পেলাম শুধু। (পৃথিবীর সব মায়েরাই বাচ্চার জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিতে পারেন অথচ আমি কিনা তেলাপোকার ভয়ে----------) যাই হোক মেয়ে তিনগুন বেশী নিরাপদ তার বাবার কাছে। কোন বাবা যে এতটা করতে পারেন, না দেখলে বিশ্বাস হয় না। মেয়েটা ক'দিন আগেও চাঁদ মামাকে বলতো, চাবান্না, চানাচুর কে তাতালুম। সেই মেয়েটা আমার চোখের সামনে বলা নেই কওয়া নেই অনেক বড় হয়ে গেল। এখন তার কল্পনা গুলোর সাথে, প্রশ্নের সাথে পেরে উঠি না। এই বলে মেঘ খেতে কেমন লাগে- ঐ বলে, আল্লাহ কেন সারাদিন জেগে থেকে সব দেখে- সাপ কেন কামড়ায়- ভূত কেন দুষ্টু হয়, ভালো
ভূত রা দেখতে কেমন হয়? সমস্যা আরও আছে, মেয়েটা হয়েছে খুবই নরম এক্কেবারে মাখনের মত। কোন দাবি দাওয়া নেই, খেলনা নিয়ে জেদ করেনা। কেউ চাইলেই নিজের খেলনা দিয়ে দেয়।খেলনা পিস্তল দেখলে ভয়াবহ ভয় পায়। ওর বয়স যখন আড়াই। তখন বেবী'জ ডে আউট ছবিটা
দেখে কেঁদে বুক ভাসালো, কেন বেবীটা ওর আম্মুকে খুঁজে পাচ্ছেনা।
শখ করে নাম রেখেছি রাজ রাজেশ্বরী---- যে কোন একদিন আমার ছানাটা রাজ হাঁসের মত গ্রীবা উঁচিয়ে চলবে। আপাততঃ তার কোন লক্ষণ ই নেই। আস্ত একটা ভীতুর ডিম। সেদিন ঘুম থেকে উঠে শোবার ঘর ছেড়েছি মাত্র হঠাৎ শুনি বেড়াল ডাকছে আমার পেছনে, আমি তো চমকে উঠে যেইনা ঘুরে তাকিয়েছি, অম্নি দেখি আমার মেয়েও চমকে উঠেছে। চুপি চুপি আমার পেছনে উঠে এসেছে মিহি গলায় মিউ মিউ করতে করতে। এত ভয় পেলে চলে নাকি? বেড়াল ছানা সাজতে ওর জুড়ি নেই। নিজেও সব আল্লাদ প্রকাশ করবে মিহি গলায় মিউ মিউ করে, আর আমাকেও মা বেড়াল বানিয়ে ছেড়েছে। ওর অভিমান হলে যখন কোন কিছুতে কাজ হয় না, তখন মিউ মিউ করে দুহাত বাড়িয়ে দিলেই কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এটা ওর নিজের আবিস্কার। এ খেলায় আমার কোন কৃতিত্ব নেই।
ইদানীং স্কুলের বাচ্চাদের হাতে বেশ মার খায়। কিছু কিছু বিচ্ছু আছে, চান্স
পেলেই ছোটখাটো মার দেয়, আর আমার মেয়ে নাকি শুধু বলে, ইয়ামেতে ইয়ামেতে (থামো, আমাকে মেরো না টাইপের।) এটা ওর বাবা দেখেছে। ওর বাবা ক'দিন খুব ট্রেনিং দিল- কেউ তোমাকে মারলে, তুমি পাল্টা মার দেবে। মেয়ে শুধু বাবা কে বলে, বাবা কাউকে মারা তো দামে (খারাপ) কেন তমোদাচিদের (বন্ধুদের) মারবো। আমিও মেয়ের সাথে সহমত।
সেদিন মেয়েকে নিয়ে তার বাবা স্কুলে গেছে, একটা বাচ্চা ওর সামনেই আমার বাচ্চাটাকে মেরেছে। এবার মেয়ের বাবা ঐ ভিলেন বাচ্চাটাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্কুলের এক কোনায় গিয়ে জোরে কান মলে দিয়ে, চুপ করে চলে এসেছে। শুনে আমি তো ভয়ে অস্থির। কেউ দেখে ফেল্লে কি কেলেংকারীই না হত।
আমি আবার খুব বাস্তববাদী। মেয়ের বয়স পাঁচ হল আর ক'দিন পর তো আমাকে পুছবেই না। মেয়ের এই একটা বিষয়ে মেয়ের বাবাও আমার সাথে এক মত। তাই মায়া টায়ার বেশী ধার ধারি না, কিন্তু বিচ্ছু টা যখন নরম কোমল হাত বাড়িয়ে আমাকে আঁকড়ে ধরে, আমাকে ছাড়তেই চায় না তখন মনে হয়------ ওকে ছাড়া আমার একটা মুহূর্ত
চলবে কি করে?


পুরোনো একটা লেখা। আবার রিপোষ্ট করলাম। লেখা টা মুছে ফেলেছিলাম। ব্লগার ছন্ন তার প্রিয় লেখার ভান্ডার থেকে ফিরিয়ে দিয়ে আমাকে বলেছিল, পারলে লেখাটা আবার দিও। আর ব্লগার তাজীন লেখাটা পড়ে বলেছিল, লেখা টা কখনই মুছবেন না। তাই নতুন বছরে একটা পুরোনো কে ফিরিয়ে আনলাম।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২২
৬২টি মন্তব্য ৫৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুকেশ আম্বানি । বিশ্বের চতুর্থ ধনী

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:৪৩



ধীরুভাই আম্বানি , রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা যার কথা পড়ছিলাম ১৯৯৮ সালে ঢাকার একটি পত্রিকাতে । ১৯৭৪ সালে তার কোম্পানির ১০০ রুপির শেয়ার তখন ১৯৯৮ তে ৮০০০০ আশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৯ আগস্ট ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসঃ চাই আদিবাসী হিসেবে তাদের স্বীকৃতি

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:৩৩


আজ ৯ই আগষ্ট'২০২০ ইং ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। । এ বছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের ঘোষণা হচ্ছে COVID-19 and indigenous peoples resilience. যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘কোভিড-১৯ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরণখাদ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন ঐশিকা বসু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:২৩

সত্যস্বর পত্রিকার একটি প্রতিবেদন
২৩শে অক্টোবর, ২০০৮
অমরগিরিতে যুবতীর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদন – অমরগিরিতে সাগরের উপকণ্ঠে এক যুবতীর ক্ষতবিক্ষত দেহকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিখা দাস নামে ঐ যুবতী স্থানীয় একটি ধাবায় কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলোহীন প্রদীপ একজন নয় এমন আরো বহু আছে বাংলাদেশে।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৫৭

জেলে ভাল আছেন ওসি প্রদীপ বাবু। বাবুর মতোই ফুরফুরে মেজাজে দিন পার করছেন । তিনি জেলকর্মীদের সঙ্গে হাসিখুশি কথা বলছেন। তাদের কাছে শুধু একা থাকার সুবিধা চেয়েছেন। ওসি প্রদীপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাস্কো দা গামা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:২১



যুগ যুগ ধরে নানা দেশের, নানা জাতির লোকেরা ভারতে এসেছে, ভারতকে শাসন করেছে, বসতি স্থাপন করে থেকেছে। বছরের পর বছর এদেশে থাকতে থাকতে তাদের রীতি-নীতি, আদব-কায়দা, শিল্প-সংস্কৃতি-ভাষা, খাওয়া-দাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×