somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার রসগোল্লা বানানোর ইতিহাস। (একটা পড়লে আরেকটা ফ্রী) :D :D

০৭ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আমার এই লেখাটা আমার আদরের মেয়ে জিনাতের জন্য।


সে এক বিরাট ইতিহাস। :#) আমার মেয়ে স্কুল শেষে যেখানে থাকে, সেখোনে অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে মাঝেমধ্যে সে হাড়ি-পাতিল নিয়ে খেলে এবং খাবার বানানোর সময়, সে প্রায়ই লাড্ডু জাতীয় কিছু বানায়। তো সেই লাড্ডু দেখে- তার অতি উৎসাহী এক শিক্ষক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন; রোজ রোজ এসব তুমি কি বানাও?X(
আমার কন্যা স্মার্টলি জবাব দিল, এর নাম রসগোল্লা।:|
আর যায় কোথায়? এবার রসগোল্লা কি দেখাও?
আমি পড়লাম মহা ফাঁপড়ে। গতকাল আসল কারিগররে খবর দিলাম। তারপর বানালাম, সাধের রসগোল্লা।
আমি ছিলাম কারিগরের এ্যাসিষ্টেন্ট। এই ফুটফরমাস খাটা আর কি! মিষ্টি বানানো তো আর যা তা কথা নয়। অবশ্য মূল কারিগরকে আমার কন্যা যথেষ্ট সাহায্য করেছে।

বিচ্ছুগুলো যখন আগ্রহ ভরে মিষ্টিগুলো খাচ্ছিল, তখন মনটা ভরে গেল। কাল ৪ ঘন্টা ধরে আমরা তিনজনে এগুলো বানিয়েছি।

এই সেই শিক্ষক যার প্ররোচণায় রসগোল্লা কি দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম।;);)
আজ জুলাইয়ের সাত। আজ যখন মিষ্টিগুলো নিয়ে গেলাম, 'তখন বেশ ভাব নিয়ে বল্লাম, আমাদের দেশে কোন উৎসব হলে আমরা সেখানে মিষ্টি পাঠাই। তাই তোমাদের জন্য বিশেষ মিষ্টি এনেছি।'
কারণ আজ আবার ওদের একটা বিশেষ উৎসব।(বাঙ্গালী তো! একঢিলে দুই পাখি মারলাম আর কি!);););)

এই উৎসবকে বলে তানাবাতা। তানাবাতা মানে হল, 'সাতের সন্ধ্যা।' সাত তারিখের সন্ধ্যায় কি হয়েছিল, আসুন সেটাই বলি।
আকাশের রাজা তেনতেই এর মেয়ে ওরিহিমে। খুবই লক্ষী। এক্কেবারে আমার মেয়ের মত।:D
সে খুব সুন্দর কাপড় বুনতে পারে। সেটা আবার রাজা তেইতেনের খুব পছন্দ। সেটা আবার তিনি কথায় কথায় মেয়েকে জানিয়ে দিলেন। মেয়ে শুনে তো খুশীতে একেবারে দিশেহারা। সারাক্ষণ স্বর্গের নদী আমানোর ধারে বসে কেবল কাপড়ই বুনতে লাগলো আর কাপড়ই বুনতে লাগলো। আর কোন দিকে রাজকন্যার মন নেই। এদিকে দিন যায়, বছর আসে---। রাজনকন্যারও বয়স বাড়তে লাগলো। রাজা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। "এত কাজপাগল মেয়েও হয় নাকি! এখনও মেয়েটার মনে কাউকে ধরলো না। বিয়ে দিতে হবে না?"
রাজা চুপি চুপি মেয়ের মন কাড়ার ব্যবস্থা করলেন। তিনি ডেকে পাঠালেন, আকাশের আরেক সাহসী তারা হিকোবোশিকে। তিনি স্বর্গের রাখাল। বাঁশি বাজান সময় পেলেই। তো হিকোবশি রাজার আদেশে নদীর ওপারে বসে বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, সেই বাঁশি শুনে এপারে ওরিহিমে পাগল হলেন। দুজন দুজনের সাথে দেখা করলেন। তারপর মন বিনিময় এবং বিয়ে।

আহা! নতুন নতুন বিয়ে, তায় আবার দুজন দুজনের প্রেমে মত্ত। অরিহিমে আর হিকোবশি কাজ ভুললেন। অরিহিমের কাপড় বোনায় কোন মন নেই। তারা স্বর্গের উদ্যানে বাংলা সিনেমার গান গাইতে লাগলেন, "সন্ধ্যার ছায়া নামে, এলামেলো হাওয়া/ভালো লাগে জীবনের এই গান গাওয়া" সন্ধ্যার ছায়া নামে, এলোমেলো হাওয়া
আর রাখালের গরু গিয়ে ঢুকলো স্বর্গের উদ্যানে।
এসব দেখে, স্বর্গে তো ছি ছি পড়ে গেল। শুনে রাজা ক্ষেপে আগুন। রাজা তেনতেই আবার ওদের আলাদা করে দিলেন। দুই প্রেমিক প্রেমিকা পড়ে রইলেন, স্বর্গের নদী আমানোর দুই পারে। রাজার আদেশ অমান্য করে, কেউ কাউকে দেখা দিতে পারলেন না।
অরিহিমে স্বামীর জন্য কেঁদে কেঁদে আকুল। তিনি রাজাকে আর্জি জানালেন, " বাবা আমি একবার শুধু হিকো কে দেখতে চাই।" রাজা তেনতেই রাগী হলেও, মেয়ের দুঃখে কাতর হয়ে পড়লেন। তিনি বল্লেন, " ঠিক আছে, তুমি তাকে দেখতে পাবে সাত মাসের সাত তারিখ সন্ধ্যায়।"

আজ জুলাইয়ের সাত। সকাল থেকে অরিহিমে ব্যস্ত। তার হাতের সব কাপড় বুনে শেষ করতে হবে। কিন্তু মনটা বেজায় চঞ্চল। কখন সন্ধ্যা হবে আর তিনি প্রিয়তমকে দেখবেন!
সন্ধ্যায় আলোটা যখন ফিকে হয়ে এল, চারিদিকে আলো আঁধারির খেলা, তখন রাজকন্যা ছুটলেন নদীর ধারে। তার প্রিয়তমকে দেখবেন বলে।
দূরে রাজকন্যা ছায়ার মতন কি যেন একটা দেখতে পেলেন, কিন্তু তার হিকো কে দেখতে পারলেন না। কারণ হিকো ছিলেন, নদীর ওপারে। রাজকন্যা পার হবেন কি ভাবে? কারণ নদীতে কোন সেতু ছিলো না।
দুজন দুপারে ভীষন কাঁদতে লাগলেন। তাদের কান্না শুনে এগিয়ে এলো- এক দোয়েল। সে রাজকন্যাকে কথা দিল, সে তার দুটো ডানা মেলে বানিয়ে দেবে নদীর ওপর সেতু।
এই গল্পের শেষ হল, দোয়েলটা রাজকন্যাকে বলেছিল, যদি জুলাইয়ের সাতে বৃষ্টি হয়, তাহলে আমি কিন্তু উড়তে পারবো না। মেলতে পারবো না আমার ডানা দুটো। সে ক্ষেত্রে তোমাদের দুজনকেই অপেক্ষা করতে আগামী বছরের এই দিনের জন্য।
আজ এখানে বৃষ্টি ছিল, তাই এবছর বুঝি আর দুজনের দেখা হল না। কি আর করবেন, বেচারা হিকো অরিহিমের জন্য গাইলেন, নদীর ওপার থেকে----আমার সারাটাদিন
আহারে! ভালোবাসায় কত পরীক্ষা যে দিতে হয়।

আজকাল ছেলেমেয়েরা অবশ্য এই সন্ধ্যায় বিভিন্ন ইচ্ছা রাখে অরিহিমে আর হিকোবশির কাছে।

যেই উইশকে সামনে রেখে এই উৎসব, সেটা হল মেয়েরা উইশ করে যেন তারা ভালো কাপড় বুনতে পারে আর ছেলেরা উইশ করে, যেন তাদের হাতের লেখা ভালো হয়।

[
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ দুপুর ১২:১৯
২৩টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চরিত্রহীন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬


নিপীড়িত ভেবে যাকে করে যাবে মায়া,
সর্বস্ব বিলিয়ে দেবে যার উপকারে;
কলির সন্ধ্যা কাটলে পাবে না তো তারে,
সে তখন হয়ে যাবে নিশ্চিন্ত প্রচ্ছায়া।
যাবে না ধরা হাঁটলেও সে কাছে-ধারে;
ভুজঙ্গের ন্যায় দেখাবে বিষাক্ত কায়া,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে যে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য দুর্বল বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×