somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুর্বলতাকে কাটিয়ে স্বপ্নের জয় হবেই

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যা স্বপ্ন দেখছি তা সত্যি হতে বাধ্য , আমি যা ভাবছি তা হবেই... এই বিশ্বাস নিয়ে চলতে পারতে হবে।
কত দ্বিধা , কত ঝড় আসবে সামনে , মনে রাখতে হবে স্বপ্ন যে দেখে, যে আশা নিয়ে বেঁচে থাকে, সে পারবেই।
অনেকেই ভাবে বাংলাদেশ একদিন পালটে যাবে, এদেশের মানুষ অন্য ভাবে দেখবে একদিন সব..



হয়তো কোন কিছুই হবেনা, হয়তো কিছুই সত্যি হবেনা, কিন্তু যে স্বপ্ন দেখে বেচে থাকতে পারবে সে পারবেই।
স্বপ্ন বেশি বেশি দেখা উচিত, শেষ পর্যন্ত স্বপ্নই টিকে থাকবে।
যে মানুষ একবার চিন্তা করে “আমি কি পারবো? সে কোনদিন ও সেটা পারবেনা,”
যে চিন্তা করবে , “আমি তো পেরে গেছি, আর একটু সময় বাকি,এই- যা”

অনেকে স্বপ্ন-ই দেখে না, স্বপ্ন বা আশা করার করার আগেই নেগেটিভ চিন্তা করে বসে, সে তুলনায় আমরা বেশ ভাগ্যবান।

বাইবেলে একটা কথা আছে, “যে বেঁচে থাকে, এবং বিশ্বাস করে বেঁচে থাকে, সে মরেনা”

আমি ভীষন অবাক হই, এতো এতো ব্যার্থতার কথা, এতো অসফলদের ভীড়েও কিভাবে নিরাশ না হয়ে আমার শ্রধ্যেয় স্যার আমার প্রান প্রিয় বন্ধু খুব বেশি পজিটিভ।
তাঁদের কাছে কোন কিছুই অসম্ভব না।
আমার শক্তি আমার প্রেরনা সব আমার স্বপ্ন-ই।

এমনও অনেক দিন গিয়েছে আমি চিন্তায় ঘুমাতে পারিনি, কি করবো কি করবো ...
আমার শোরুমের অবস্থা খারাপ গিয়েছে, ঈদের পর পর পূজোর জন্যে খুব চাপ যাচ্ছিলো একা সাম্লে নিতে পারছিলাম না, অনেক সময়া হয়ে যাচ্ছিলো।

নতুন প্রোডাক্ট আনানোর জন্যে শোরুমের এমপ্লোয়ী বার বার তাগাদা দিতে লাগছিলো।

পরে আরো অনেক ধরনের সমস্যার ভীতর দিয়ে যাচ্ছিলাম।

বাসায় ফিরে বকুনি বা খোঁচা ।
কান ও দি-ই নি। পাত্তা দি-ইনি শুধু তা না, অনেক ঝামেলার বিষয় মাথাচারা দেয়ার আগেই নিজেকে ভাবতাম, টপ লিস্টের বিজনেসে সমস্যা থাকবেই।



যখন ল্যাপটপ বা নেট এর কোন ব্যাবস্থা ছিলোনা আমার আমি কি বিকল্প বের করিনি?

যখন শপ ছিলো না, আমি কি বিজনেস করিনি?
এর চেয়েও কি খারাপ অবস্থা হয়নি? সেগুলো উতরে যেতে পেরেছি না?

তবে দেখলাম, কেও একজন যখন একটা বিষয়ে ভালো করে, তার সামনে অনেক গুলো অপরচুনিটি এসে দাঁড়ায় । তাই তখন সে কোনটা নিবে, কিভাবে নিবে, বা কিভাবে ব্যালেন্স করবে সেতা সম্পুর্ন তার উপর।

একা কোন ডিসিশনে যেতে না পারলে বড় বড় বিশেষজ্ঞ্ব দের সাহায্য নিতে হবে, তারা অবশ্যই এসব বিষয়ে দারুন সুন্দর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

এর মধ্যে একটা কড়া সিধান্ত নিতে হল , বানিজ্য মেলা... মহিলা বানিজ্য মেলা। এই মেলায় যাবো কি যাবো যাবোনা, একমাস!! তার উপরে এত্তো ভাড়া, আবার সেখানে থাকবে কে, তাহলে শপ এ কে থাকবে, এই নিয়ে বেশি টেনশন করতে সময় ছিলোনা, একটাই সিদ্ধান্ত যাবোই, পরের টা পরে।

অনেকের ভয়, আরো অনেকে জামদানি নিয়ে আসবে , ডিরেক্ট নারায়নগঞ্জের মানুষরা অনেক গুলো জামদানির স্টল নিয়েছে, আমি এসব পাত্তা দেইনি, উড়িয়ে দিয়ে বলেছি কারো সেল হবেনা দেখেন,শুধু আমার স্টলে হবে :)
কেও হয়তো বলেছে, এখানে প্রচুর খরচ উঠে আসবে কি না...
কেওবা নানান নেগেটিভ কথা...
তবে ওয়ি যে বললাম না, আমি মারাত্ত্বক ভাগ্যবতী , আমার বাবা, আমার গুরু, আমার প্রিয় কাছের বন্ধুটি কিভাবে যেনো ৩জনেই পড়ে গেছে এক গোছের। ঠু মাচ পজিটিভ।

জানে আমার হাত একেবারেই খালি , তাও তারা নেগেটিভ ছিলোনা।
আল্লাহর রহমতে মোটামুটি না, দারুন ভালো করে যাচ্ছি।
গতকাল খবর পেলাম , সবার দূরাবস্থার কথা চিন্তা করে মেলা আরো ১০দিন বাড়িয়েছে, আমার টিম মেম্বার রা বিরক্ত হয়েছে, আরো এতোদিন থাকবো। আমি সাথে সাথে লুফে নিলাম সুযোগ, তাদের সাহস দিয়ে যাচ্ছি। এই ১০ দিনে সব হিসেব পালটে দিবো। আমরা তো অলরেডি সবার তুলোনায় খুব দারুন করেছি।



আমাদের তাদের সবার চেয়ে সেল শুধু ভালোই হয়নি, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছি। কত কৌশলে আমরা সময় করে নিচ্ছি।
আমা স্টলের ঠিক সামনেই পাকিস্তানি প্যাভিলিয়ন, ইন্ডিয়ান আর এশিয়ান প্যাভিলিয়ন...

তাদের প্ন্যের চেয়ে আমাদের টাই সেরা , এটা কি ভীড়ের লোকদের টেনে টেনে বোঝানো যায়? কত কুট কৌশলে আমরা পারছি!!

আমি বা আমরা রুপকথা ফ্যামিলির সবাই আল্লাহর রহমতে দারুন সাড়া পেয়েছি। অনেকের মুখে যখন শুনি, শুধু আপনার স্টলের জন্যেই মেলায় আসা, কি এক দারুন অনুভূতি!!

এবার অন্য কথা বলি, ধরা যাক , আমাদের সামনে পিছনের স্টল দের মত আমাদের ও তেমন সেল না হত, তাহলেও আমরা হতাশ হতাম? মোটেও না, যে পরিমান প্রোমোশন বা আগ্রহ দেখেছি সবার মাঝে, তা অসাধারন।

সবার এক্তাই কথা ছিলো , আমরা তো এই এক মাসের না , আমাদের সারা বছর তারা পাচ্ছে চট্টগ্রামে। কেও কেও খুব অবাকের সাথে, আনন্দের সাথে এড্রেস টা রাখছে আমাদের শোরুমের।

টানা দাঁড়িয়ে থেকে অনেকের সমস্যা শোনা, সবার সাথে কথা বলা কি যে এক শান্তি!!

তার উপরে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, সেল হউক না হউক আমাদের স্টলের সবাই আমরা ১২ ঘন্টা এতো মজা করে করে , এতো হাসি খুশীতে কাটাচ্ছি দিন, অন্যান্যরা সবাই এসে এসে জিজ্ঞ্বেস করে কি ব্যাপার আজ কে কত সেল, আজকে কত সেল।

আসলে আমরা সারাক্ষন মাস্তি করছি , কত রকম অভজ্ঞ্বতা নিয়ে কথা বলছি সবার সাথে।
একসাথে বাসায় ফিরে যাচ্ছি...

নারায়নগঞ্জ থেকে তাঁতিরা ফোন দিতে থাকে, তাদের সেল এর খবর জানাই।

আল্লাহর রহমতে আমরা অনেক বাধা অতিক্রম করে আজ দারুন ভালো আছি, অনেক সমস্যার মুখোমুখী হয়েও মনে হয়েছে ব্যাপার না, এটা হবেই।
আমি খুব বেশি কৃতজ্ঞ আমার প্রানের গ্রুপ এর কাছে। ভালো থাকুন। সামনে যেন সময় করে গুছিয়ে লিখতে পারি দোয়া করবেন। অনেক অনেক ভালো কিছু উপহার দিবো শীঘ্রই।



৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×