somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংখ্যা পূজা :: পীথাগোরাসের সংখ্যা প্রীতি :: শুভ ও অশুভ সংখ্যা!!!

১৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“মানুষের পদপুতো মাটি দিয়া,
দেবতা রচিছে পূজারী দল।
ঐ দেবতা স্বর্গে গেলো,
মানুষ রহিলো ধরনী তল।”
(নজরুল, পূজা অভিনয় কবিতার অংশ)

আমরা অনেক রকম পূজার কথা জানি। যেমন চন্দ্র, সুর্য, গ্রহ, নিহারীকা, তারা, ভেজ ও ননভেজ পশু, পাখি, গাছ, মাটির মূরতী ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু অবাক করার মত ব্যাপার হলো একসময় সংখ্যাকেও পূজা করা হতো। পিথাগোরাস নিজেও এই কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন। তখনকার দিনে প্রত্যেকটি সংখ্যাকে কোনো না কোনো মানবিক গুণের সাথে এক করে দেখা হতো।

পীথাগোরাস এভাবে সংখ্যাকে সন্নিবেশিত করেছিলেন যুগ্ন সংখ্যা (জোর সংখ্যা-২,৪,৬,৮...) কে মনে করা হতো বিশ্লেষণযোগ্য এবং সেই কারণেই ক্ষনস্থায়ী স্ত্রী জাতীয় এবং পার্থিব বস্তু সম্পর্কিত। আর অযুগ্ন সংখ্যা (বেজোর সংখ্যা ৩,৫,৭,৯....) গুলিকে মনে করা হতো অবিশ্লেষ্য, পুরুষ জাতীয় এবং পার্থিব বস্তু সর্ম্পকিত। তবে ১ কে অযুগ্ন সংখ্যা হিসেবে গণ্য করা হতো না, ১ কে সমস্ত সংখ্যার উৎস ভাবা হত। ১ ছিলো যুক্তির প্রতিক, কারণ এটি অপরিবর্তনীয়। ২ ছিলো মতের প্রতিক। ৪ ন্যায়ের প্রতিক, কারণ এটি প্রথম পূর্ণ বর্গ সংখ্যা অর্থাৎ দুটি সমান রাশির গুণফল। ৫ছিলো বিবাহের প্রতিক, কারণ এটি প্রথম স্ত্রী (২) এবং প্রথম পুরুষ (৩) সংখ্যার মিলনের ফল (২+৩=৫)-পীথাগোরাস এভাবে সংখ্যাকে সন্নিবেশিত করেছিলেন।

ব্যাবিলন সভ্যতায় ব্যাবিলনবাসীরা ৬০ পর্যন্ত সংখ্যাকে তাদের বিশেষ বিশেষ দেবতার অভিজাত্য সূচক হিসেবে গণ্য করতো। খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে গ্রীক পন্ডিত পীথাগোরাস ও তার অনুসারীরাও পঞ্চাশ পর্যন্ত প্রায় সবগুলো সংখ্যাতেই দেবী জ্ঞাণে তাৎপর্য আরপ করেছিলো। পীথাগোরাস বলতেন সংখ্যাই সমগ্র বিশ্বের নিয়ামক। তিনি সংখ্যাগুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় যোগ করে পূজা করার পক্ষপাতি ছিলেন। এক থেকে চার পর্যন্ত এই চারটি সংখ্যার মিলনে সৃষ্ট চিত্রের ন্যায় একটি প্রতিকৃতিতে পীথাগোরাস পন্থীরা বিশেষ ভক্তি করে পূজা করতো। এই টেট্রাকটিস বা পবিত্র চতুর্গুণতাকে মনে করা হতো নর ও নারীর যুক্তি ও ন্যায়ের সমন্বয় এবং বিশ্বসৃষ্টির চারটি মৌলিক উপাদান আগুন, পানি, বাতাস ও মাটির প্রতীক।

টেট্রাকটিসের উদ্দেশ্যে পীতাগোরাস পন্থীদের প্রার্থনার বাণী ছিলো অনেকটা এরকম,
“নম; হে স্বর্গীয় সংখ্যা, দেবতা ও মানুষের স্রষ্টা তুমি। হে পবিত্র টেট্রাকটিস, নিত্য প্রবহমান সৃষ্টির মূল উৎস তোমাতে নিহিত আছে। কারণ, পবিত্র সংখ্যার শুরুতে রয়েছে অপূর্ব নিষ্কলঙ্ক “এক” এবং শেষে রয়েছে পবিত্র “চার” আর এদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সবকিছুর উৎস, সর্বাব্যাপী অনাদী, শাশ্বত, চির অম্লান পবিত্র “দশ”।”

৬, ৭, ৪০ ইত্যাদি ছিলো শুভ সংখ্যা। সাত সংখ্যাটিকে ইহুদীদের কাছ থেকে খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্ব পায় প্রায় উত্তরাধিকার সূত্রে। যেমন- ৭টি মহাপাপ, ঈশ্বরের সাত আত্মা, কুমারী মেরীর সাতটি আনন্দ, ম্যাগডালেন থেকে বিতাড়িত সাত শয়তান, সাতদিন ধরে সাতজন পুরোহিত সাতটি সংখ্যা নিয়ে জেরিকো শহর পরিবেষ্টিত করেছিলো এবং সপ্তম দিনে তারা সাত বার শহর প্রদক্ষিন করেছিলো ইত্যাদি। আবার ৪০দিন ৪০রাত ধরে বৃষ্টি হবার ফলে মহাপ্লাবন হয়, চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত্রি ধরে মুসা (আঃ) সিনাই পর্বতে খোদার সংগে আলাপ করেন, চল্লিশ বছর ধরে ইসরাইয়েল (আঃ) এর সন্তান-সন্তুতিরা মরু প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছিলো ইত্যাদি।

৬৬৬ কে বলা হয় শয়তানের সংখ্যা, তাই ৬৬৬ সংখ্যাকে বহু খৃষ্ট্রান ইহুদী পরিহার করে চলে। ১৩ কে অশুভ সংখ্যা বলা হয় কারণ, যিশু (ঈসা (আঃ)) খ্রীষ্টকে ক্রুসে বিদ্ধ করা হয় Good Friday এর দিন, ৩০ খ্রীষ্টাব্দে। তার আগের রাতে একত্র খাবার খেয়েছিলেন যিশু (ঈসা (আঃ)) ও ১২জন শিষ্য। মোট ১৩ জন। ঐ রাতের খাওয়াকেই বলা হয় দ্যা লাস্ট সাফার (The Last Supper)। শুধু মাত্র এই কারণেই ১৩কে আজও অপয়া সংখ্যা হিসেবে ধরা হয়। এখনও ইওরোপ এ্যামেরিকায় হোটেল, বাড়ি ইত্যাদিতে ১২ এর পর ১৪ দেয়া হয়, ১২ তলার পরে ১৪ তলা ইত্যাদি। তবে মজার ব্যাপার হল মহাকাশ অভিযানে এপোলো (Apollo) এর সব মহাকাশযানের যাত্রা সুফল হলেও এপোলো-১৩ (Apollo-13) এর যাত্রা শুভ হয়নি। এপোলো-১৩ (Apollo-13) কোনমতে পৃথিবীতে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছিলো। তখন ঐ ১৩কেই দোষারূপ করা হয়েছিলো।
আমাকে কোন একসময় একজন ইসলামি চিন্তাবিদ বলেছিলেন, God শব্দটি শুরু হয় "G" দ্বারা যা ইংরেজি অক্ষর এর ৭ নং অক্ষর যার জন্য ক্রিশ্চানরা ৭ কে লাকি নাম্বার মনে করে পক্ষান্তরে ১৩ নং ইংরেজি অক্ষরটি হল M যা Mohammad এর প্রথম অক্ষর,এইজন্য ১৩ কে ক্রিশ্চানরা আনলাকি নাম্বার মনে করে। কথাটি আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হলে গ্রহণযোগ্য মনে হয় নি!!!!!!!!!!!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৪৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×