somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সব স্বপ্ন পূর্ণতা পায় না!

২৩ শে আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার মা তখন শয্যাশায়ী। অনেকদিন হয়েগেছে বিছানার সাথেই তার রাতদিন যাপন। রান্না থেকে শুরু করে বাসার সমস্ত কাজের দায়িত্ব থেকে অসুখ পোকা তাকে মুক্তি দিয়েছে।
বিছানায় তার দিনের পর দিন যাচ্ছে। অন্যদিকে অসুখ পোকা তীক্ষ্ণ দাঁতে কুট কুট করে খেয়ে নিচ্ছে তার শরীর।

মায়ের সুস্থতার প্রতীক্ষায় আমরা দিনের পর দিন গুনে যাচ্ছি। কিন্তু মা আর সুস্থ হচ্ছেন না! আমরা খুব আশা করে আছি কতদিন মায়ের হাতের রান্না খাইনা। মা সুস্থ হয়ে গেলেই আবার মায়ের হাতের রান্না খাব, বকা খাব,হৈ-হুল্লোড় করব,রাত জাগব, অহেতুক কথা বলব,হাসাহাসি করব। কিন্তু আমাদের আর কিছুই করা হয়নি। আমার মা আর রান্না করতে পারেন নি।শেষ কবে তিনি আমাদের ঠিক কি রেঁধে খাইয়েছিলেন আজ আর সেটাও মনে পড়েনা!

মা খুব রান্না করতে ভালোবাসতেন। যখন যা মাথায় আসতো রাত দুপুরের তোয়াক্কা না করেই রান্না করতে বসে যেতেন। তারপর খাবারের বাটি নিয়ে আমাদের পিছনে ঘুরে ঘুরে আমদের খাওয়ানোর পর্ব শেষ করে তবেই না শান্তি পেতেন। জগতের প্রত্যেকটা মায়েরই রান্নার আলাদা ধরণ , আলাদা স্বাদ এবং গন্ধ থাকে। আমার মায়ের রান্নাতেও এর ব্যতিক্রম কিছু ছিলোনা।আমি আমার মায়ের হাতের রান্নার রঙ দেখেই বলে দিতে পারতাম এটা আমার মায়ের হাতের রান্না। আমরা ভাইয়েরা খাবার খাওয়া নিয়ে অতিরক্ত ঝামেলা করতাম।খাবার খাওয়াটা আমাদের নিয়ম মেনে কাজ করার মতো মনে হতো, তাই অনীহা দেখাতাম খুব। যাও টুকটাক পাখির মতো খেতাম(আব্বা বলতেন পাখির মতো খুটে খাই আমরা) তাও অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো মাকে। যেমন ডিম রান্না করতে গেলে তিন পদ করতে হতো। কারো ভুনা পছন্দ, কারো ঝোল কারো বা আবার ভাজি। অন্যান্য রান্নার ক্ষেত্রেও সেইম কাজই তিনি করতেন। তার শুধু একটাই চাওয়া ছিলো তবুও যেনো বাচ্চারা খাবার খায়। বাচ্চাদের খাওয়াতেই তার চোখেমুখে তৃপ্তির রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠতো।কতগুলো বছর হয়েগেছে তৃপ্তি করে খাবার খাইনা! বাকি দিন গুলোও এভেবেই কেটে যাবে অতৃপ্তির বেড়াজালে...

প্রবাদে একটা কথা আছে, পৃথিবীতে যার মা-বাবা আছেন সে কখনো গরীব হতে পারেনা। সেইসব ধনী লোকদের বলছি, আপনাদের ধনসম্পদ গুলোকে বুক দিয়ে আগলে রাখুন যাতে করে অসময়ে দরিদ্র না হয়ে যান।

ছবিঃ গুগল
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০২২ রাত ১১:৫৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রবাস ডাইরিঃ ২য় পর্ব

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:০৮



স্বপ্ন সত্যি হবার এক বছর।
আগস্ট ২০২২,
গতবছরের এই অগস্ট মাস ছিলো জীবনের কঠিনতম মাস গুলির একটা।
কতটা বিষণ্ণা, মর্মান্তিক, কঠিন ছিলো এই মাস এটা আমি জানি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেদিনও বৃষ্টি ছিল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:৩৯

ছবিঃ আমার তোলা।

ওরা আসে। হ্যাঁ অবশ্যই আসে।
গভীর রাতে। তখন চারিদিক অন্ধকার। ঝিঁঝিঁ পোকা সমানে ক্লান্তিহীন ভাবে ডাকতেই থাকে। পাতায় পাতায় ঘষা লেগে মিহি একটা শব্দ হয়। বইতে থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় বেলায় - ২৬

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:৪৮

ভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় বেড়াতে গিয়ে বেশ কিছু সূর্যাস্তের ছবি আমি তুলেছি আদিতে, এখনো তুলছি সুযোগ পেলেই। সেই সমস্ত সূর্যাস্তের ছবি গুলি বিভিন্ন সময় ফেইসবুকে শেয়ার করেছি। সেখান থেকে ৫টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৮ম শ্রেণি পাশ নারী প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে হিরো আলম কেন এমপি হতে পারবে না?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:০৫


বগুড়া ৪-৬ আসনে নির্বাচন হলো। সম্ভাবনা জাগিয়েও হিরো আলম স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। ওনার অভিযোগ ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে। ওনাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওনি বলছেন, ওনার মতো অশিক্ষিত লোককে স্যার সম্ভোধন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্ক্সের অবৈধ সন্তান.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৩:৫১

মার্ক্সের অবৈধ সন্তান.....

শ্রেণি-সংগ্রামের তত্ত্বকথায় যিনি প্রবাদপুরুষ, তিনি বাড়ির পরিচারিকার কাছ থেকে ‘ফায়দা’ নেবেন, চরম শত্তুরেও তা মানতে চাইবে না। কিন্তু ইতিহাসের বড় একটা অংশ বলছে, ঘটনা কতকটা তা-ই। সময়টা ১৮৫০।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×