পুন্ড্র-রাঢ়-হরিকেল-সমতট-বঙ্গ পেরিয়ে দেখেছে অনেক কিছুই তারা।
বর্গীরা এসেছে, করেছে লোপাট, হেনেছে আঘাত রাতদিন
হানাদার পাকিস্তানী করেছে ধর্ষণ, হত্যা, লুটপাট বেশুমার
দীর্ঘ প্রতীক্ষায় উঠেছে কাঙ্ক্ষিত সূর্য প্রদীপ্ত স্বাধীনতার।
তবু দুঃখনীল দিন গোণে অধীর বাঙালি জাতি
শাসন-দুর্নীতি বাড়ে নব্য শাসকের বেড়াজালে
গণনায় বাইশ ছাড়িয়ে সহস্র পরিবারের কালো থাবা করে গ্রাস!
প্রতিবার শাসনের গণতন্ত্রভার পেয়ে অত্যাচারী স্বৈরাচারী দল
ক্ষতে ক্ষতে বিক্ষত বিদগ্ধ করে বাংলার জমিন-আকাশ-বাতাস
ট্যাংকের ঘর্ঘরে এবড়ো থেবড়ো হয় সুনসান পিচঢালা পথ
মহাজনের ভান্ডারে জমে কালো টাকা, নামে দুর্ভিক্ষের ছায়া
খরা, মঙ্গা, বন্যা, মহামারী কেড়ে নেয় লক্ষ কোটি প্রাণ।
তবু শোষণ থামে না শাসকের সংবিধানের
ডুকরে কাঁদে শুধু হাজার জীবন-
আসে ক্রসফায়ার নিভৃতে নিরালায় সবুজের ঘাসে
কানসাটে, ফুলবাড়িতে ফুসলে ওঠে প্রমত্ত জনতা
দেখি ঊনসত্তরের ছায়া আরেকবার এই বাংলায়।
তবুও বয়স পয়ত্রিশে এসে স্বাধীনতা পায় না ফসল
পারিবারিক রাজতন্ত্রের স্রোতে ভাসে বাংলার সকল নদী
আমরা অনার্য বাঙালি জাতি বারবার নিষ্পেষিত হই
ঘরোয়া নতুন আর্য সাম্রাজ্যবাদের পেশীতলে!
এইভাবে লেখা হয় ইতিহাস আন্দোলনের, যুদ্ধের প্রতিদিন
সংগোপনে শেখায় কী কিছু- গণমানুষের মিছিল, প্রাণের দাবী?
হারিয়ে গিয়েছে সহস্র বছর, কালের অতলে যাচ্ছে আন্দোলন
কোথায় চলেছি আমরা অনার্য দ্রাবিড় বাঙালি এই জাতি!?
27.09.2006

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

