somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ এম উদ্‌দীন
আমার ব্লগ আমার বাসার ড্রয়িং রুমের মত, আমি এখানে যেকোনো কিছু দিয়ে সাজাতে পারি আপনার পছন্দ না হলে বলতে পারেন আমার কোন আসবাবটির অবস্থান বা ডিজাইন আপনার পছন্দ হয় নি এবং কেন হয় নি। তবে তা অবশ্যই ভদ্র ভাষাতে। ভাষার ব্যবহার করতে জানা অনেক বড় একটি গুন

*** একটি বিশ্বকাপ এবং আমাদের অপমান (ভিন্ন দৃষ্টি)****

৩০ শে মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সপ্রতি দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্কট মোচনের প্রস্তাবে আওয়ামিগের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছিলেন যে, এদের কথাতে কীভাবে তাঁরা সমাধানের চিন্তা করবেন কারন এই সকল বিশিষ্ট নাগরিকগনই তাদের নিজেদের প্রয়োজনে ক্ষমতাবানদের পা ধরতেও লজ্জা পান না। অতি তিক্ত হইলেও কথা বড়ই সত্যি। ৫-১০% এই বিশিষ্ট নাগরিকদের বাদ দিলে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য উনার কথিত ক্ষমতাবানদের পা ধরেন নি

মনেকরুন আপনি বি সি এসে এ এস পি হয়েছেন একজন কনস্টেবল এর লিঙ্ক এর মাধ্যমে। তো এই এস পি তার ট্রেনিং শেষে একটি জেলাতে পোস্টিং পেলেন্ত। কিন্তু সকল এস আই কিংবা কনস্টেবল তাঁকে খুব সম্মান করলেও একজন কনস্টেবল তার সামনে পায়ে পা তুলে বসে, বা যেকোনো কথা বললেই মুখে মুখে তা করতে অস্বীকার করে বসে। পাঠক বুঝতেই পারছেন এই হইল সেই কনস্টেবল যে ঐ এ এস পির এই পদে আসার পিছনে জোড়াল ভূমিকা রেখেছিলেন। সুতরাং তার সামনে এ এস পি পদ কোন নতুন সম্মান ঐ ব্যাক্তিকে এনে দিতে পারে নাই।

গতকাল আই সি সি যা করল এর সাথে কি এই কথা বা ঘটনার থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই তা মিলিয়ে দেখতে পারি? ১৯ মার্চ এর ম্যাচটিকে আই সি সি যখন এম সি জী তে নিয়ে এল তখন কিন্তু তিনি নিশ্চুপ ছিলেন। আমার বিশ্বাস আমাদের যায়গাতে আফগানিস্তান হইলেও এমন ফিক্সচার পরিবর্তন হইলেই বুঝতে পারত যে এখানে কিছু না কিছু কারসাজী হচ্ছে, এবং তাঁরা এর তীব্র প্রতিবাদ করত। কিন্তু আমাদের কামাল সাহেব আই সি সি এর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেও এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ছিলেন? আমাদের কি বি সি সি আই বা ভারতের কাছে মাথা বিক্রয় করে দিয়েছি? তা না হলে কেন এই ব্যাপারটি আমাদের তথা কথিত সেরা জাতীয় দৈনিক (প্রথম আলো, ডেইলি স্টার বা অন্যান্য) কিংবা কামাল সাহেবেরা একেবারেই আমলে নেন নি অথবা নেয়ার ক্ষমতা রাখেন না। এর পরে যখন রুবেলের বলটিকে নো বল বলা হইল তিনি কি তখনো বুঝেন নাই যে বাংলাদেশকে হারানোর সকল সিধান্ত নেয়া শেষ? তখন কি তিনি ভারতীয় বাদে অন্য দেশীয় তার যে সকল কলিগ আছেন তাদের সাথে ব্যাপারটা নিয়ে কোন আলোচনা করেছেন? এর পরে বাংলাদেশ হারার পরে পাবলিক সেন্টিমেন্ট বুঝে তিনি একটি মন্তব্য করলেন, হ্যাঁ এটি খুবই সাহসী বক্তব্য ছিল।

কাল অনুষ্ঠানের আগে কি আপনি গুনাক্ষরেও বুঝতে পারেন নাই যে ভারত আপনাকে তথা ১৫ কোটি মানুষকে (বাকি এক কোটি ভারতের দালাল নব্য রাজাকার) অপমান করবে? আপনারা কবে শিখবেন যে পদত্যাগ ও একজনকে সম্মানিত করে, পদ আঁকড়ে থেকে কেউ কেউ রাজ প্রসাদ থেকে নর্দমাতে নিক্ষিপ্ত হয়েছে কিন্তু পদত্যাগ করে এমন হয়েছে কেউ বলতে পারবে না। আপনার ১৯ মার্চ বক্তব্যের পরে বি সি সি আই বা আই সি সি যখন আপনাকে হুমকি ধমকি দিল তখন কেন আপনি তা নিশ্চুপে সহ্য করে ২৯ মার্চ পর্যন্ত বসে ছিলেন? আপনি কেন দেশে এসে আপনার আইনজীবীদের নিয়ে বসেন নি (যেটা ২৯ মার্চ ১৫ কোটি বাঙ্গালীর অপমানের পর আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন)।

অনেক প্রশ্ন আমি জানি না এর জবাব কত সহজে দেয়া যাবে। কিন্তু আমরা যদি উপরের বক্তব্য এবং গল্পটির সাথে মিলিয়ে দেখি তাহলে দেখব আমাদের হাত, পা, মাথা বা মুখ অথবা সব হয়ত এই প্রতিবেশী হিংসাপরায়ণ জাতীর কাছে বন্ধক রেখে দিয়েছি হয়তবা। তা না হলে কারনে অকারনে এই দেশটি কেন আমাদের রান্না ঘর থেকে শুরু করে আমাদের নির্বাচন পর্যন্ত নিজেদের সিধান্ত আমাদের ১৫ কোটি মানুষের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমাদের ১৫ কোটি মানুষের মাণ, সম্মান, উপলব্ধি এবং আশার কেন্দ্রবিন্দু যা এই ৪৪ বছরের সর্বাত্মক চেষ্টাতেও বিভাজন করা সম্ভব হয় নি, সেই ক্রিকেটকেও আঘাত করতে তাঁরা দ্বিধা করল না।

আমি খুবই লজ্জিত বিব্রত বোধ করতেছি ঐ মুহূর্ত হতে যেই মুহূর্তে আমাদের মাশরাফিদের শারীরিক অবসাদের তুলনাতে সব ম্যাচ অস্ট্রেলিয়াতে খেলা ভারতের ভিরাটদের অবসাদটিকে মুখ্য বিবেচনা করে আমাদের ১৫ কোটি বাঙ্গালিকে অপমান করে সিধুর বাংলাদেশী না কাঙ্গাল কথার মঞ্চায়ন করা হইল। ১৯ মার্চের ম্যাচ ঐ রক্তাক্ত হৃদয়ে আবারও ছুরিকাঘাত করল।

আর ২৯ মার্চের জনাব আহম কামাল সাহেবের প্রতি যে আচরণ করা হইল তা যেন আমাদের মস্তিস্কে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে দেয়ার মতই।
এই প্রেক্ষিতে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আমার আকুল আবেদন কেন, কিসের অভাবে, কোন যুক্তিতে আমরা ভারতের কাছে এভাবে বিক্রীত হয়ে গেলাম। হ্যাঁ তাঁরা আমাদের ১৯৭১ এ সাহায্য করেছে সেই সাহায্য তো ঐ এ এস পি এর এ এস পি হওয়ার মত অনৈতিক কোন কাজে সাহায্য নয়। তাহলে কিসের বলে আমাদের এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে তাদের পদতলে এভাবে পৃষ্ঠ হতে হবে। আপনাদের অনেক সম্মান কোটি কোটি লোক আপনাদের মাননীয় বলে কিন্তু আমার খুব ক্ষুদ্র সম্মান আর তা হইল আত্মসম্মান। আমার বিশ্বাস আমাদের ৯৫% মানুষেরই এই একটি মাত্র সম্মানই আছে। তাই দয়া করে এমন কোন চুক্তি বা কাজ করবেন না যাতে আমাদের সেই আত্মসম্মানবোধ টকুনকেও কেউ কেউ ঠুনকো মনে করে মণ চাইলেই আছড়ে বা পিষে দেয়।

আপনাদের আমরা বছরের পর বছর ভি আই পি বানিয়ে যাচ্ছি তাই দয়া করে অন্তত আমাদের এই অনুরধ টুকুন রাখুন। আমাদের আত্মসম্মানিত আম জনতা হিসেবে বাঁচতে দিন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×